kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

সিটি স্ক্যান শেষে বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০২:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিটি স্ক্যান শেষে বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া

করোনায় আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। এ জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের পরামর্শে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তিনি বাসায় ফিরে গেছেন।

হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকা বিএনপির একাধিক নেতা জানান, গতকাল রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে প্রাইভেট কারে করে এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন বিএনপিপ্রধান। এরপর সেখানে তাঁর সিটি স্ক্যান করানো হয়। হাসপাতাল থেকে রাত পৌনে ১১টার দিকে বাসায় ফেরেন তিনি। তবে সিটি স্ক্যানের প্রতিবেদন সম্পর্কে তাত্ক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

এর আগে গতকাল বিকেলে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা জানতে তাঁর বাসায় যান চিকিৎসকরা। ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ  অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুস শাকুর খান, খালেদার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দেন।

ডা. অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যাডামের আজকে (বৃহস্পতিবার) সপ্তম দিন। কভিডের পরিভাষায় তিনি এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে এন্ট্রি হচ্ছেন। কভিডের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে একটি পার্থক্য আছে। কভিডের জটিলতাগুলো সাধারণত দ্বিতীয় সপ্তাহে হয়। সে জন্য আমরা আরেকটু সাবধানতা অবলম্বন করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘উনার সব পরীক্ষা করা হয়েছে। শুধু সিটি স্ক্যানটা করানো হচ্ছিল না। খুব দ্রুত সিটি স্ক্যান করানো হবে। অন্য সব দিকে উনি মোটামুটি ভালো আছেন।’

এর আগে খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল, ভালো উন্নতি করছে।

সবার কাছে দোয়া চেয়ে সেলিমা বলেন, ‘রমজান মাস বুঝতেই পারেন। এখন কোরআন তিলাওয়াত, তসবিহ তাহরিমা, দোয়া-দরুদ, নামাজ পড়ে সময় কাটছে তাঁর। টেলিফোনে আমরা নিয়মিত কথা-বার্তা বলছি।’

জানা গেছে, ছোট ভাইয়ের বাসা থেকে প্রথম দিন ইফতারি গেছে খালেদার বাসায়। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর আত্মীয়-স্বজন কেউ বাসায় আসছেন না। তবে টেলিফোনে বেগম জিয়ার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছেন তাঁরা।
জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের করোনার জটিল কোনো উপসর্গ নেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই তিনি ইবাদত-বন্দেগি করে সময় পার করছেন। আমরা সবাই নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর নিচ্ছি।’

গত রবিবার খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি দল তাঁকে চিকিৎসা দিচ্ছে। এই দলের সদস্যরা জুমে বৈঠক করে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করেন। এসব বৈঠকে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানও থাকেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন ছাড়াও গুলশানে ফিরোজার বাসায় তাঁর গৃহকর্মীসহ আরো আটজন স্টাফ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন বাড়ি চলে গেছেন এবং বাকিরা ফিরোজায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

৭৫ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে ছিলেন। গত বছরের ২৫ মার্চ শর্তসাপেক্ষে তাঁকে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার।



সাতদিনের সেরা