kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

কার্যকর ‘লকডাউন’ এখনো অনেক দূর

► দ্বিতীয় দিনেই রাস্তায় বেড়েছে যানবাহন ► বাজারে গিজগিজ করছে মানুষ ► পুলিশ-র‌্যাব কোথাও সরব কোথাও নীরব, সামনে আরো কঠোর হওয়ার ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০২:২৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কার্যকর ‘লকডাউন’ এখনো অনেক দূর

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ৯ দিনের বিধি-নিষেধের পর গত বুধবার থেকে সারা দেশে ‘লকডাউনের’ আদলে আট দিনের কঠোর বিধি-নিষেধ শুরু হয়েছে। প্রথম দিন পুলিশের কড়াকড়ির কারণে রাজধানীর রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা ছিল, কিন্তু দ্বিতীয় দিনই রাস্তায় বেড়েছে মানুষ ও যানবাহনের সংখ্যা। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনেকে অযথাই বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে। সকালের দিকে বাজারে ব্যাপক ভিড় ছিল মানুষের। পাড়ামহল্লা অনেকটা আগের মতোই। খোলা রয়েছে দোকানপাট, ঘোরাফেরা করছে মানুষ। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বাইরে বের হচ্ছে বহু মানুষ। গতকাল প্রধান সড়কগুলোতে পুলিশ ও র‌্যাবের টহল এবং চেকপোস্ট থাকলেও তারা কোথাও সরব আবার কোথাও নীরব। তবে সামনের দিনগুলোতে আরো কঠোর পদক্ষেপের দিকে পুলিশ যাবে বলে আইজিপি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কার্যকর ‘লকডাউন’ বলতে যা বোঝায়, তা এখনো অনেক দূরে। করোনার এত ভয়ংকর পরিস্থিতিতেও সাধারণ মানুষের মধ্যে খুব একটা জনসচেতনতা গড়ে ওঠেনি। আবার নিম্ন আয়ের মানুষ জীবিকার তাগিদে অনেকটাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামছে। ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক সময় কঠোরও হতে পারছে না।

লকডাউনের মধ্যেও গার্মেন্ট, শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক ব্যাংক, স্টক এক্সচেঞ্জ ও শেয়ারবাজার, নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর, স্বাস্থ্যসেবা, আইন-শৃঙ্খলাসহ সব জরুরি সেবা, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, মালবাহী ট্রেন ও কার্গো বিমান, হোটেল-রেস্টুরেন্ট (ভেতরে খাওয়া যাবে না), কাঁচাবাজার (বিকেল ৩টা পর্যন্ত), সংবাদমাধ্যম, অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি খোলা থাকছে। অন্যদিকে বন্ধ থাকছে গণপরিবহন (যাত্রীবাহী বাস, ট্রেন, লঞ্চ, বিমান), কিছু সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস, বেসরকারি অফিস, মার্কেট ও বিপণিবিতান ইত্যাদি। ফলে বেশির ভাগই যেহেতু খোলা রয়েছে, তাই অল্প কিছু বন্ধে কোনোভাবেই কার্যকর করা যাচ্ছে না ‘লকডাউন’।

মুভমেন্ট পাস ছাড়াই গত দুই দিনে রাস্তায় বের হওয়াসহ আইন অমান্যকারী শতাধিক লোকজনকে জরিমানা করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে নির্দেশনা মেনে না চললে সামনের দিনগুলোতে আরো কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ এরই মধ্যে বলেছেন, ‘লকডাউন কার্যকর করতে সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে তা বাস্তবায়নে সামনের দিনগুলোতে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মুভমেন্ট পাস ছাড়া কাউকে বাড়ির বাইরে আসতে দেওয়া হবে না।’

লকডাউনের প্রথম দিন যেসব চেকপোস্টে পুলিশ বেশ কঠোর মনোভাব দেখিয়ে প্রায় প্রতিটি গাড়ি আটকে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, গতকাল মগবাজার, হাতিরঝিল, রমনা ও তেজগাঁও সাতরাস্তা ঘুরে সেই চিত্র খুব একটা দেখা যায়নি। তবে প্রধান প্রধান সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বিভিন্ন রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে।

গতকাল মগবাজার এলাকায় দায়িত্বরত সার্জেন্ট নাহিদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, দুপুর ২টা থেকে মুভমেন্ট পাস না থাকা ও যৌক্তিক কারণ ছাড়া লকডাউন না মেনে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হওয়ায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে চাল কিনতে বের হওয়া সেলিম হোসেনকে তিন হাজার টাকা, ইফতার কিনতে বের হওয়া ফারহান হোসেনকে দেড় হাজার টাকা এবং গাড়ি ঠিক করতে বের হওয়া একজনকে ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজিমপুর, নিউ মার্কেট, সায়েন্স ল্যাব ও কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কগুলোতে রিকশা ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেশি। মোটরসাইকেলে কোনো জরুরি প্রতিষ্ঠানের স্টিকার না থাকলেও বের হওয়ার কারণ জানতে চায়নি পুলিশ। মানুষের আড্ডারও কমতি ছিল না। লালবাগ খাঁন মোহাম্মদ মসজিদ পার হয়ে রহমত উল্লাহ স্কুলের পাশের গলি, জে এন শাহ রোড, শহীদনগর, কেল্লার মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে এই চিত্র দেখা গেছে।

সোলায়মান মিয়া নামের এক রিকশাচালকের মুখে মাস্ক ছিল না। একই রিকশার যাত্রীরও মাস্ক ছিল না। তিনি বলেন, রাস্তায় এখন মানুষ কম। তাই সমস্যা হওয়ার কথা নয়। দুপুর আড়াইটার দিকে নীলক্ষেত মোড়ে গিয়ে পুলিশের টহল দেখা যায়নি। একজন মোটরসাইকেলচালক বলেন, ‘পকেটে টাকা নাই। সংসারে খাওন নাই। এই জন্যে বাইর হইছি। পরে কী হইব, জানি না।’ মিরপুরের রূপনগর এলাকার একজন রিকশাচালক কফিল জানান, সকালে পুলিশ বাধা দিয়েছিল, তবে রিকশার সংখ্যা বাড়ায় পরে আর কিছু বলেনি।

সকালে মিরপুরের একাধিক বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গিজগিজ করছে মানুষ। সাধারণ দিনের সঙ্গে কোনো পার্থক্য ছিল না। এমনকি খোলা মাঠে কাঁচাবাজার বসানোর কথা থাকলেও সেই নিয়ম মানেনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। লকডাউনের কারণে অনলাইনে অর্ডার নেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আনাগোনা ছিল বেশি। রাজধানীর জগন্নাথপুর এলাকায় ফুডপান্ডার কর্মী জাহেদ বলেন, অন্য দিনের তুলনায় আজকের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ বলা যায়।
লকডাউনের মধ্যে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা থাকলেও গ্রাহক উপস্থিতি ছিল খুবই কম, লেনদেনও হয়েছে সামান্য। ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাংক বন্ধ থাকবে বলে বেশির ভাগ মানুষ গত মঙ্গলবার তাদের প্রয়োজনীয় কাজ সেরেছে।



সাতদিনের সেরা