kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

ভার্চুয়াল গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

নগরায়ণের গতি জড়িত উন্নয়ন অগ্রগতির সঙ্গে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০৩:৩৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নগরায়ণের গতি জড়িত উন্নয়ন অগ্রগতির সঙ্গে

কালের কণ্ঠ, পিএসটিসি ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘নিরাপদ শহর : নীতি নির্ধারণে করণীয়’ শীর্ষক ভার্চুয়াল গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেওয়া বক্তারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নিরাপদ শহরের জন্য অনেক কাজ করা হলেও নগরের যে সমস্যাগুলো সামনে আসে, তা পরিকল্পনা অনুযায়ী সমাধান হচ্ছে না। সঠিক সমাধানের জন্য জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কমিটিগুলোকে আরো কার্যকর করে তোলা জরুরি। কারণ দেশের নগরায়ণের গতি উন্নয়নের অগ্রগতির সঙ্গে জড়িত।

গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠ, পিএসটিসি ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘নিরাপদ শহর : নীতি নির্ধারণে করণীয়’ শীর্ষক ভার্চুয়াল গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা নিরাপদ শহরের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অনেক এগিয়ে আছে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা অনেক উন্নত দেশের পরিকল্পনা থেকেও এগিয়ে। এখন একাডেমি ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। যদি সমন্বয়ে দুর্বলতা থাকে, পরে তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যাঘাত ঘটায়। তাই অগ্রসর থাকলেও প্রয়োজন সমন্বয়।

গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে গুরুত্বসহকারে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ফলে মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি বেড়েছে এবং স্বচ্ছতাও এসেছে। আমরা সব অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে সরে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। নিরাপদ শহর নিয়ে যেসব আলোচনা হয়েছে, সেগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে যদি আমরা কাজ করি তাহলে নগর নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের যে শঙ্কা কাজ করে, সেটি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।’

স্বাগত বক্তব্যে কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘নগরের পরিবর্তনের জন্য মানুষের সচেতনতা হচ্ছে সবচেয়ে বড় করণীয় কাজ। আপনি সচেতন হলে আরেকজনকে বলবেন। সে পাশের মানুষটিকে বলবে। এভাবে সারা দেশ একটি মনোভাব নিয়ে একত্রিত হবে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের যাঁরা আছেন, আমাদের একটা সুন্দর শহর উপহার দিন।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যা হচ্ছে, অস্থায়ী ভিত্তিতে হচ্ছে। আমাদের সুপরিকল্পিত একটি মাস্টারপ্ল্যান থাকা উচিত। যদি পুরো মাস্টারপ্ল্যান একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করা যায়, তাহলে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ভাগ ভাগ করে কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।’

গোলটেবিল বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন বলেন, ‘জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কমিটিগুলো আছে, সবগুলোকে আরো কার্যকরী করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা—এটি সবাই মিলে করতে হবে। বাংলাদেশের নগরায়ণের যে গতি, আমাদের উন্নয়নের অগ্রগতির সঙ্গে এটা কিন্তু জড়িত।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) এবং দুর্যোগ, বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অনেক এগিয়ে আছি। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা অনেক উন্নত দেশের পরিকল্পনা থেকেও বহুদূর এগিয়ে। এখন নিরাপদ শহর যদি আমরা বলি, বাংলাদেশ কোন পর্যায়ে আছে, তবে সেটি নিয়ে ভাবতে হবে।’

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আতিকুল হক বলেন, ‘সিটি করপোরেশন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলোকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কিভাবে সক্রিয় করা যায়, তার জন্য আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। ইতিমধ্যে ওর্য়াড কমিটিগুলোকে নগর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে কাজ করছি।’

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পিএসটিসির নির্বাহী পরিচালক ড. নূর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘সাধারণত যে তিনটি দুর্যোগ বেশি করে আসে, সেটি হলো বন্যা, অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্প। বন্যা আমরা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি। অগ্নিকাণ্ডে অগ্নিনির্বাপণের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার বিকল্প নেই।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সদস্য (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মানিক কুমার সাহা ও সেভ দ্য চিলড্রেনের হিউম্যানিটারিয়ান ডিরেক্টর মোস্তাক হোসেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশনের ফ্রিল্যান্স কনসালট্যান্ট আবদুল লতিফ খান। এ আয়োজনে সহযোগী ছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন।



সাতদিনের সেরা