kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

যেন চাঁদরাতের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০৩:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যেন চাঁদরাতের বাজার

লকডাউন শুরুর আগের দিন গতকাল বাজারগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। কারওয়ান বাজার থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর রামপুরা সুপারমার্কেট ঘেঁষে বাজারের ভেতরে পা রেখেই গতকাল মনে হয়েছিল আজ বুধবার বুঝি ঈদুল ফিতর। চাঁদরাতে যেমন প্রতিটি দোকানে, অলিগলিতে ভিড় লেগে থাকে ঠিক তেমন চিত্র। ভিড় রয়েছে বাজারের বাইরে মূল সড়কের পাশের দোকানগুলোতেও।

বাজারে এক মুদি দোকানে ফর্দ মিলিয়ে ব্যাগে পণ্য ভরছিলেন ক্রেতা আলাউদ্দিন। চাল, ডাল, তেল, চিনি, ছোলা—কোনো কিছুই যেন বাদ যায়নি। জানতে চাইলে বললেন, ‘রোজায় কিছুটা বাড়তি পণ্য লাগে। তার ওপর কাল শুরু হচ্ছে লকডাউন। বাজারের কী অবস্থা হয় বোঝা যাচ্ছে না।’ তাঁর মতোই লম্বা ফর্দ নিয়ে আরো সাত-আটজন ক্রেতা দোকানের সামনে দাঁড়ানো।

মালিবাগ, সেগুনবাগিচা, কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর প্রায় সব বাজারে গতকাল ছিল একই অবস্থা। দিনভর হুলুস্থুল কেনাকাটা চলেছে। পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতেও ছিল একই অবস্থা।

আজ বুধবার শুরু হওয়া আট দিনব্যাপী লকডাউনে কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের বাজারে তেমন বিধি-নিষেধ দেওয়া হয়নি। শুধু সময় কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত করা হয়েছে। বিক্রেতারা জানান, এখন যেভাবে দোকান সাজানো হয়েছে কালও (আজ) সেভাবেই সাজানো যাবে। দূরত্বের বিষয়েও তেমন কোনো বাড়তি নির্দেশনা দেওয়া হয়নি সরকারের পক্ষ থেকে।

রমজান আর লকডাউনের কারণে হঠাৎ বাড়তি কেনাকাটার চাপে পণ্যের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। মাছ, মাংস, সবজি, চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়তি দেখা গেছে প্রায় সব বাজারেই। দামের ক্ষেত্রে সরকারের বেঁধে দেওয়া সীমা মানছেন না বিক্রেতারা। অথচ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে ও বাজার ঘুরে পণ্য সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি।

গতকাল রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। অথচ দুই দিন আগেও দাম কমে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় নেমে এসেছিল। পাকিস্তানি কক বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি। দুই দিন আগেও এই জাতের মুরগির দাম ৩০০ টাকায় নেমেছিল। বাজার ও পাড়া-মহল্লায় গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি। সিটি করপোরেশন প্রতিবছর রমজানে গরুর মাংসের দাম বেঁধে দিলেও এবার তা করা হয়নি।

অতিমুনাফাখোরদের কবল থেকে ক্রেতাকে বাঁচাতে গত সোমবার তেল, চিনি, ডালসহ ছয়টি পণ্যের দাম বেঁধে দিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। সে অনুযায়ী খুচরা বাজারে ছোলা কেজিপ্রতি ৬৩ থেকে ৬৭, পেঁয়াজ ৪০, ভোজ্য তেল এক লিটারের বোতল ১৩৯, পাঁচ লিটারের বোতল ৬৬০, মোটা দানার মসুর ডাল ৬৭-৬৯ ও সরু দানা ৯৭ থেকে ১০৩ টাকায় বিক্রি হবে। চিনি খুচরা পর্যায়ে ৬৭ থেকে ৬৮ টাকা কেজি কিনতে পারবে ক্রেতারা। তবে বেঁধে দেওয়া এই দর বিক্রেতারা মানেননি। সবজির দামও কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়তি রেখেছেন বিক্রেতারা। অনেক বাজারেই আলু ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে, যা আগের দিনও ছিল ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি। লেবুর দাম মাঝখানে কিছুটা কমলেও গতকাল আবার বাড়তি দেখা গেছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় কয়েকটি দ্রব্যের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীকে প্রয়োজনীয় দ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতি মুনাফার চেষ্টা করতে দেখা যায়।’



সাতদিনের সেরা