kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

নিরাপদ শহর: নীতি নির্ধারণে করণীয় শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তরা

নগরায়নের গতি উন্নয়নের অগ্রগতির সঙ্গে জড়িত

নগরের কাজ অনেক সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী হয় না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ২০:৩৪ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



নগরায়নের গতি উন্নয়নের অগ্রগতির সঙ্গে জড়িত

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২ প্রণোয়ন করা হয়েছে। ২০১৯ সালে যার পরিধি আরো বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ ও ২০৪১সহ বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেগুলো নিয়েও কাজ করা হচ্ছে। তবে নগরের যে সমস্যাগুলো সামনে আসে তা পরিকল্পনা অনুযায়ী সমাধান হচ্ছে না। তাই সঠিক সমাধানে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কমিটিগুলোকে আরো কার্যকর করে তোলা জরুরি। কারণ দেশের নগরায়নের গতি উন্নয়নের অগ্রগতির সঙ্গে জড়িত। আজ মঙ্গলবার কালের কণ্ঠ, পিএসটিসি ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘নিরাপদ শহর : নীতি নির্ধারণে করণীয়’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। 

অনুষ্ঠানটি কালের কণ্ঠ অনলাইন ও ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে নিরাপদ শহরের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন। বক্তরা বলেন, বাংলাদেশ দুযোর্গ ব্যবস্থাপনায় অনেক এগিয়ে আছে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা অনেক উন্নত দেশের পরিকল্পনা থেকেও এগিয়ে। এখন একাডেমি এবং সরকারের মধ্যে সমন্ময় করতে হবে। যদি সমন্ময়ে দুর্বলতা থাকে পরে তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যাঘাত ঘটায়। তাই অগ্রসর থাকলেও প্রয়োজন সমন্ময়। 

গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে গুরুত্বসহকারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ফলে মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি বেড়েছে এবং স্বচ্ছতাও এসেছে। আমরা সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে সড়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। নিরাপদ শহর নিয়ে যেসব আলোচনা হয়েছে সেগুলো যদি আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করি তাহলে নগর নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের যে শঙ্কা কাজ করে, সেটি কাটিয়ে উঠা সম্ভব।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ ও ২০৪১সহ বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। নগরের যে সমস্যাগুলো সামনে আসে তা অনেক সময় পরিকল্পনামাফিক হয় না। সেটা করার জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া ওয়াটার হাইজিং পুল নিয়েও কাজ করা হচ্ছে। কারণ আগুন লাগলে পানির সরবরাহ করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। পৃথিবীর সব দেশেই আমারা দেখেছি ওয়াটার হাইজিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা কিভাবে এগিয়ে যাবো এবং শহরকে কিভাবে নিরাপদ করবো তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি।’ 

স্বাগত বক্তব্যে কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘মানুষের সচেতনতা হচ্ছে সবচেয়ে বড় করণীয় কাজ। আপনি সচেতন হলে আরেকজনকে বলবেন। সে পাশের মানুষটিকে বলবে। এভাবে সারা দেশ একটি মনোভাব নিয়ে একত্রিত হবে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের যারা আছেন তারা যেনো এমন একটি অবস্থা তৈরি করেন। যাতে আমাদের শ্বাস ফেলবার একটি জায়গা থাকে, আমাদের সন্তানেরা সুস্থ মানুষ হয়ে ওঠতে পারে, তারা খেলার মাঠ পায়, হাঁটা-চলার জায়গা পায়, পুকুর-খালগুলো উদ্ধার হয়। একটি সুন্দর শহর যেনো আমরা পাই।’ 

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যা হচ্ছে অস্থায়ী ভিত্তিতে হচ্ছে। আমাদের সুপরিকল্পিত একটি মাস্টার প্ল্যান থাকা উচিত। যদি পুরো মাস্টার প্ল্যান এক সঙ্গে বাস্তবায়ন না করা যায় তাহলে মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ভাগ ভাগ করে কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই সঙ্গে সারা দেশের একটি ডাটাবেইজড থাকা উচিত। যা দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারবো কোন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কোন কাজটি করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ ঘটে যাওয়ার পরে উদ্যোগ নেওয়া হতো। এখন আগেই নেওয়া হয়। মাস্টার প্ল্যান করে দুর্যোগ কমানো যাবে। একদম বন্ধ করা যাবে না। কিভাবে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায় সেটি নিয়ে আরো কাজ করতে হবে।’ 

গোলটেবিল বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন বলেন, ‘জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কমিটিগুলো আছে সবগুলোকে আরো কার্যকরি করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগ ব্যবস্থা এটি সবাই মিলে করতে হবে। বাংলাদেশের নগরায়নের যে গতি আমাদের সে উন্নয়নের অগ্রগতি সঙ্গে এটা কিন্তু জড়িত। আমরা যখন উন্নত দেশগুলোতে দেখি সেখানে মানুষ আগে আবাসন তৈরি করে, তারপর বসবাস করে। কিন্তু এখানে আগে মানুষ আসে তারপরে আবাসন তৈরি করে। এ জন্যেই গ্রামগুলোকে শহরের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও দুর্যোগ, বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘দুযোর্গ ব্যবস্থাপনায় অনেক এগিয়ে আছি। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা অনেক উন্নত দেশের পরিকল্পনা থেকেও বহুদূর এগিয়ে। এখন নিরাপদ শহর যদি আমরা বলি, বাংলাদেশ কোন পর্যায়ে আছে। তবে সেটি নিয়ে ভাবতে হবে। দুই বছর আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি নীতিনির্ধারণী নির্দেশনা ছিল। সেই বিষয়ে একটি মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুই বছর পার হলেও সেটি অনুমতি এখনো পায়নি।’ 

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আতিকুল হক বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন ও ওর্য়াড কমিটিগুলোকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কিভাবে সক্রিয় করা যায় তার জন্য আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। এরই মধ্যে ওর্য়াড কমিটিগুলোকে নগর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে কাজ করছি। চলতি অর্থ বছরে আমরা তিন হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আমাদের সঙ্গে পিএসটিসি, কেয়ার, প্ল্যান, সেভ দ্য চিল্ডড্রেন কাজ করছে।’ 

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পিএসটিসির নির্বাহী পরিচালক ড. নূর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘সাধারণত যে তিনটি দুর্যোগ বেশি করে আসে সেটি হলো বন্যা, অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্প। বন্যা আমরা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি। অগ্নিকাণ্ড নির্বাপনের জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত করার বিকল্প নেই।’

গোলটেবিল আলোচনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সদস্য (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মানিক কুমার সাহা ও সেভ দ্য চিলড্রেনের হিউম্যানিটারিয়ান ডিরেক্টর মোস্তাক হোসেন বক্তব্য দেন। এ ছাড়াও ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশনের ফ্রিল্যান্স কনসালট্যান্ট আবদুল লতিফ খান অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠান সহযোগী হিসেবে ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন।



সাতদিনের সেরা