kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

বাবুনগরীর উদ্দেশে স্বপন

চার দলের আমলে আইন পরিবর্তনে কী উদ্যোগ নিয়েছিলেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চার দলের আমলে আইন পরিবর্তনে কী উদ্যোগ নিয়েছিলেন?

হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেছেন, ‌যদি কোনো আইন অথবা বিধি ইসলামের পরিপন্থী হয়ে থাকে তাহলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যখন চারদলীয় জোটের সঙ্গে আপনারা ক্ষমতায় ছিলেন তখন সে সমস্ত বিধি বা আইনের ধারা পরিবর্তন করার জন্য আপনারা কি কি উদ্যোগ নিয়েছিলেন সেটিও জাতির সামনে অনুগ্রহ করে উপস্থাপন করুন।' স্বপন আজ সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন।

কালের কণ্ঠের পাঠকদের উদ্দেশে আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

বাবুনগরী ছাহেব বলেছেন, 'আওয়ামী লীগ যতদিন পারে ক্ষমতায় থাকুক, কিন্তু দেশে কোনো ইসলাম বিরোধী কাজ করা যাবে না।' 

ধন্যবাদ জনাব।‌ রাব্বুল আলামিনের পবিত্র রহমতে এদেশের জনগণ যতদিন চাইবেন, আওয়ামী লীগ ততদিনই ক্ষমতায় থাকবে। রাব্বুল আ'লামিন যখন যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা ও সম্মান প্রদান করেন, যখন ইচ্ছা প্রত্যাহার করে নেন। সুতরাং তাঁর অসীম রহমতের বাইরে এক মিনিটও ক্ষমতায় থাকার সক্ষমতা আওয়ামী লীগের নেই। 

তাকে সহ সকল আলেম মহোদয়কে অনুরোধ করছি, বাংলাদেশের সংবিধানে কোন কোন অংশে ইসলামবিরোধী ধারা রয়েছে এবং আওয়ামী লীগ কি কি ইসলাম বিরোধী কাজ করছে। তা গবেষণা করে জাতির সামনে উপস্থাপন করুন। আওয়ামী লীগেও অসংখ্য বুজুর্গ আলেম রয়েছেন, তারা আপনাদের গবেষণালব্ধ অভিযোগের ইসলামসম্মত জবাব দেবেন অথবা কোনো ভ্রান্তি থাকলে তা সংশোধন করে নেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে, কিন্তু ধর্মহীনতায় নয়। ‌আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে, রাষ্ট্র সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে এবং সম আচরণ করবে। কোনো ধর্মের নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাস-নাশকতা, দাঙ্গা সৃষ্টি করা যাবে না।

যদি কোনো আইন অথবা বিধি ইসলামের পরিপন্থী হয়ে থাকে তাহলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যখন চারদলীয় জোটের সঙ্গে আপনারা ক্ষমতায় ছিলেন তখন সে সমস্ত বিধি বা আইনের ধারা পরিবর্তন করার জন্য আপনারা কি কি উদ্যোগ নিয়েছিলেন সেটিও জাতির সামনে অনুগ্রহ করে উপস্থাপন করুন। 

বাঙালি মুসলমানের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে অনুগ্রহ করে সন্ত্রাস-নাশকতা না করে যুক্তিনির্ভর ও বাস্তবসম্মত গবেষণাধর্মী তথ্য-উপাত্ত জাতির সামনে উপস্থাপন করুন।‌ দেশের সকল মানুষ মিলে একে অপরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে যুক্তিযুক্তভাবে ঐক্যমতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করে চলমান উন্নয়নের ধারা মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো প্রত্যেক দেশপ্রেমিক নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব। 

ইসলাম বলে, দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। সুতরাং ঈমান রক্ষার লক্ষ্যে দেশের সম্পদ ও ভবিষ্যৎ বিনষ্ট করা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব।

বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ প্রধানমন্ত্রী এদেশে ইসলামসহ কোন ধর্মের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে দিতে চান না। তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পন্ন একটি পরমতসহিষ্ণু দেশপ্রেমিক সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

মহান সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ নাগরিক এগিয়ে আসুন, আমরা সবাই মিলে এই মুহূর্তে সমগ্র বিশ্বে নিপীড়িত মুসলমানের পক্ষে সর্বোচ্চ ন্যায়ভিত্তিক কণ্ঠস্বর, মজলুম জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ-নেতৃত্বে পরমতসহিষ্ণুতা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অবদান রাখি।



সাতদিনের সেরা