kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

স্বামী মিশুর স্বীকারোক্তি

হত্যার পর সড়ক দুর্ঘটনা ছিল পরিকল্পিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ এপ্রিল, ২০২১ ০৩:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হত্যার পর সড়ক দুর্ঘটনা ছিল পরিকল্পিত

ঝিলিক হত্যাকাণ্ড

স্ত্রী হাসনা হেনা ঝিলিককে রাতে নির্যাতন করে রক্তাক্ত করেছিলেন স্বামী সাকিব আলম মিশু। নির্যাতনে স্ত্রী নিথর হয়ে পড়লে নিজেই রক্ত পরিষ্কার করে ঘুুমিয়ে পড়েন। সকালে স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত হয়ে কর্মচারীদের হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেন। পরিকল্পনা করেই পথে হাতিরঝিলের সড়কদ্বীপে প্রাইভেট কার তুলে দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার ‘নাটক’ সাজান। দুর্ঘটনা ঘটিয়ে স্ত্রী ঝিলিক মারা গেছেন দাবি করে প্রচার চালান। রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমনই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন মিশু। গতকাল রবিবার দ্বিতীয় দফায় রিমান্ড শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। এতে হত্যার দায় স্বীকার করেন মিশু।

গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, ‘রিমান্ড শেষে সাকিব আলম মিশুকে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করা হলে সে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।’

পুলিশ সূত্র জানায়, প্রথম দফায় রিমান্ডে অস্বীকার করলেও দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদেই হত্যার দায় স্বীকার করেন মিশু। তিনি বলেন, বাড়িতে প্রায়ই নির্যাতন চালাতেন ঝিলিকের ওপর। লাশ উদ্ধারের আগের রাতে তাঁকে মারধর করেন মিশু। এতে রক্তাক্ত হন ঝিলিক। মিশু নিজেই সেই রক্ত পরিষ্কার করেন। ঝিলিকের মৃত্যু হলে তিনি কর্মচারীদের হাসপাতালে নেওয়া কথা বলে হাতিরঝিলে নিয়ে দুর্ঘটনার নাটক সাজান। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম মঈনুল ইসলাম মিশুর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। গত বৃহস্পতিবার তিন দিনের রিমান্ড শেষে দ্বিতীয় দফায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত। ৪ এপ্রিল মিশুসহ পাঁচজনকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী আসামি মিশুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঝিলিকের শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম, শাশুড়ি সাঈদা আলম, দেবর ফাহিম আলম ও নদদ টুকটুকিকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ৩ এপ্রিল সকালে হাতিরঝিলে প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কদ্বীপে উঠে গেলে ওই দুর্ঘটনায় ঝিলিক মারা গেছেন বলে দাবি করেন স্বামী মিশু। তবে পুলিশ ও চিকিৎসকদের সন্দেহ হলে বাড়িতে গিয়ে সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, বাড়ি থেকেই নিথর ঝিলিককে বের করা হয়। এই ঘটনায় ঝিলিককে হত্যার অভিযোগ এনে গুলশান থানায় মামলা করেন তাঁর মা তহমিনা হোসেন আসমা। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মেয়েকে ওরা নির্যাতন করে হত্যা করেছে। তা না হলে তারা ঘটনাটা ধামাচাপা দিতে এত মিথ্যা বলবে কেন? গ্রেপ্তার এড়াতে সে সময় সাকিব নিজেকে করোনা পজিটিভ বলেও দাবি করেছিল।’



সাতদিনের সেরা