kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

হেফাজত নেতা মামুনুলকাণ্ড: আ. লীগের বেশির ভাগ নেতা-মন্ত্রীর মুখ বন্ধ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক কর্মীর ক্ষোভ

তৈমুর ফারুক তুষার   

১২ এপ্রিল, ২০২১ ০২:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হেফাজত নেতা মামুনুলকাণ্ড: আ. লীগের বেশির ভাগ নেতা-মন্ত্রীর মুখ বন্ধ

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের রিসোর্টকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে নানা ঘটনা ঘটে চললেও ‘বিস্ময়কর’ নীরবতা পালন করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় নেতা ও সরকারের মন্ত্রী। তাঁরা নানা ইস্যুতে বরাবরই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ করে থাকেন। সমালোচনা করতে গিয়ে অনেক নেতা, মন্ত্রীর অতিকথন হাস্যরসেরও জন্ম দেয়। সেই বাগাড়ম্বর প্রিয় নেতা, মন্ত্রীরাও মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের অনেক সাধারণ কর্মীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নীরবতাকে বিস্ময়কর, সুবিধাবাদী নীতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়ছেন।

আওয়ামী লীগের হেফাজতবিরোধী নেতাকর্মীদের অনেকে কালের কণ্ঠকে বলেন, মামুনুল ইস্যুতে তাঁরা বড় নেতাদের মতিগতিই বুঝতে পারছেন না। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে সংসদে মামুনুল হকের তীব্র সমালোচনা করলেন, সেখানে দলের নেতা, মন্ত্রীরা কেন চুপ থাকছেন, সেটি বোধগম্য নয়। একদিকে তাঁরা নিজেরা হেফাজতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন না, অন্যদিকে একাধিক এলাকায় মামুনুলের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। হেনস্তার শিকার হয়েছেন তাঁরা। আওয়ামী লীগ সরকারে থাকার পরও কেন এমন ঘটনা ঘটছে, তা সাধারণ কর্মীরা বুঝতে পারছেন না। নেতাদের কাছে জিজ্ঞেস করেও কোনো সন্তোষজনক জবাব মিলছে না।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হেফাজতকে কঠোর হাতে দমন করতে হবে—এ নিয়ে আমাদের মাঝে কোনো ভিন্নমত নেই। আমরা মনে করি, এটা শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়। এর জন্য গণমানুষকে সচেতন করে সবাইকে হেফাজতের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে হবে। তবে করোনার কারণে অনেক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা সভা-সেমিনারে সেভাবে যাচ্ছি না, দলীয় কর্মসূচি সেভাবে নেওয়া যাচ্ছে না। সে জন্য হয়তো মামুনুল ইস্যুতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সেভাবে সরব দেখা যাচ্ছে না।’

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হেফাজতকে মোকাবেলা করা একটি সামগ্রিক বিষয়। এটি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়। ব্যক্তিগতভাবে কে কোথায় কী বলল, তা-ও মুখ্য নয়। দলগতভাবে আওয়ামী লীগ হেফাজতকে দমনে কোনো ছাড় দিচ্ছে কি না, কোনো দুর্বলতা দেখাচ্ছে কি না, সেটিই মুখ্য। আমরা এ দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে দল-মত-শ্রেণি-পেশা-নির্বিশেষে সব মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করে হেফাজতকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে চাই।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন মন্ত্রী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'হেফাজতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার ও আওয়ামী লীগ একমত। কিন্তু কিভাবে সেটি হবে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কতটুকু করবে, আওয়ামী লীগ সে কাজে কতটুকু সহযোগিতা করবে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। সিদ্ধান্ত হলে তাঁদের কাজ প্রকাশ্যে আসবে।'

তবে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা হেফাজত মোকাবেলায় নিজেদের দলীয় কঠোর অবস্থানের কথা বললেও মাঠে নেতাদের ব্যক্তিগত হেফাজতবিরোধী শক্ত অবস্থান দেখা যাচ্ছে না। তরুণ দু-একজন নেতা-মন্ত্রী হেফাজাতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করলেও আন্যরা নীরবতা পালন করছেন। মামুনুলের অনুসারীরা যখন ফেসবুকে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে, সরকারকে তুলাধোনা করছে, তখন বেশ কয়েকজন নেতাকে ফেসবুকে ব্যক্তিগত ছবি ও আত্মপ্রচারের নানা সংবাদ শেয়ার করতে দেখা যায়।

হরহামেশা ফেসবুকে নানা রাজনৈতিক বক্তব্য দেন এমন দুই ডজন কেন্দ্রীয় নেতার ফেসবুক ঘেঁটে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে হেফাজতের নেতাকর্মীদের অপকর্ম নিয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা তাণ্ডব চালিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করলেও এগুলো নিয়ে ফেসবুকে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় নেতার।

করোনার কারণে মাঠের রাজনীতি বন্ধ। ফলে ফেসবুকে আওয়ামী লীগের তৃণমুলের অনেক নেতাকর্মী হেফাজতের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে পোস্ট দিচ্ছেন। এমন পোস্ট দিয়ে হেনস্তার শিকার হন স্থানীয় যুবলীগ নেতা এমাদ আহমেদ। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় নির্যাতনের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা আফজাল খান।  



সাতদিনের সেরা