kalerkantho

বুধবার । ২৮ বৈশাখ ১৪২৮। ১১ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

এক দিনে সর্বোচ্চ ৭৭ মৃত্যু

রোগী না ফিরিয়ে দিতে হবে জরুরি সেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০২:৪০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রোগী না ফিরিয়ে দিতে হবে জরুরি সেবা

এপ্রিলের শুরু থেকেই ভয়ংকর চেহারায় রয়েছে মহামারি করোনা। প্রতিদিনই ভাঙছে কোনো না কোনো সূচকের রেকর্ড। শনাক্ত আর মৃত্যুর লেখচিত্র কেবলই উঠছে ওপরে।  গেল বছর করোনার প্রথম ঢেউয়ে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৬৪, যা কমতে কমতে নেমেছিল পাঁচজনে। এক পর্যায়ে দেশ করোনামুক্ত হওয়ার ব্যাপারে আশাও জাগাচ্ছিল। এর মধ্যেই গত মার্চের শুরু থেকে অনেকটা হঠাৎ করেই চড়াও হতে থাকে সংক্রমণ, বাড়তে থাকে মৃত্যু। সর্বশেষ গতকাল ২৪ ঘণ্টার হিসাবে দেশে  সর্বোচ্চ ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিদিনই মৃত্যু ছিল ২০ জনের নিচে। এর মধ্যে কয়েক দিন ছিল পাঁচজন করে। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই পাল্টে যেতে থাকে মৃত্যুর লেখচিত্র। ১৫ মার্চ হঠাৎ করেই মৃত্যু ২৬ জনে উঠে যায়। ২২ মার্চ তা হয় ৩০ জন। ২৫ মার্চ ৩৪ জন থেকে শুরু করে ধারাবাহিক ওপরে উঠতে থাকে। ৩১ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত দৈনিক মৃত্যু ওঠানামা করেছে ৫০-৬০ জনের মধ্যে। ৮ এপ্রিল ৭৪ জনের পর গতকাল সর্বোচ্চ ৭৭ জনে ওঠে। অন্যদিকে  শনাক্তও একই ধারাবাহিকতায় পেছনের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গত ৭ এপ্রিল উঠে যায় সাত হাজার ৬২৬ জনে। যদিও দুই-তিন দিন ধরে তা কিছুটা কমে গতকাল পাঁচ হাজার ৩৪৩ জনে নেমেছে।

বিশেষজ্ঞরা শনাক্ত বেশি-কমের বিষয়ে বারবার বলছেন পরীক্ষার কথা। অর্থাৎ পরীক্ষা বেশি হলে শনাক্ত বেশি হবে, পরীক্ষা কম হলে শনাক্তও কম থাকবে। এ ক্ষেত্রে দেশে সর্বোচ্চ ৩৪ হাজার ৬৩০টি নমুনা পরীক্ষা হয় গত ৭ এপ্রিল, আর সেদিনই শনাক্ত হয় সর্বোচ্চ। অন্যদিকে প্রতি শুক্রবারই পরীক্ষা হয় কম আর শনাক্তও কম হয়। গতকাল পরীক্ষা হয়েছে ২৬ হাজার ৭৭ জন আর শনাক্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৪৩ জন। এদিকে করোনা পরীক্ষা নিয়ে অনেক জায়গাতেই আবারও মানুষের দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অনেকেরই নমুনা দেওয়ার পর ফল পেতে সময় চলে যাচ্ছে চার-পাঁচ দিন বা তারও বেশি।

বরগুনার পাথরঘাটার সাংবাদিক মীর্জা খালেদ সামান্য উপসর্গ দেখে চার দিন আগে নিজের করোনা টেস্ট করতে দিয়েছিলেন। বাসায় বসে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে সাধারণ কিছু ওষুধও খাচ্ছিলেন। এর মধ্যে হঠাৎ করেই উপসর্গ বেড়ে গেলে গতকাল শনিবার অ্যাম্বুল্যান্সে করে তিনি ঢাকায় এসে হাসপাতালে ভর্তির টেষ্টা করেন। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি তাঁর টেস্ট রিপোর্ট পাননি।

শুধু তিনিই নন, ঢাকার বাবুবাজারের রাশেদুল আলম বলেন, ‘আমার বাবার উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তিন দিন আগে তাঁর পরীক্ষা করিয়েছি, কিন্তু এখনো রিপোর্ট পাইনি।’

তবে বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সভাপতি ও মুগদা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংক্রমণ অনুসারে আমরা এখন পরীক্ষার আশায় বসে থাকতে পারি না। উপসর্গ দেখেই চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে। পরীক্ষা পরেও করা যাবে। সব হাসপাতালেই পর্যবেক্ষণ চিকিৎসাব্যবস্থা জোরালো করা দরকার। কারো হয়তো টেস্ট রিপোর্ট আসতে দেরি হচ্ছে, ওই রোগীর যদি শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায় তখন তার কভিড হলো কি না সেই অপেক্ষায় থাকলে রোগীর বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। প্রয়োজনে এক্স-রে ও সিটি স্ক্যানের ওপর জোর দিচ্ছি।’

ওই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘সব ঘরেই এখন পালস অক্সিমিটার রাখা জরুরি। কোনো উপসর্গ দেখা দিলেই অক্সিজেন লেভেল বারবার মাপতে হবে। রিডিং ৯০-এর নিচে নামলে শুরুতেই হাসপাতালে যেতে হবে। হাসপাতালে যাওয়ার পর কোনো হাসপাতাল যেন রোগী ফিরিয়ে না দেয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সব হাসপাতালে চিঠি পাঠাচ্ছি, যাতে করোনা উপসর্গ নিয়ে যাওয়া কোনো রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া না হয়। যতটা সম্ভব জরুরি সেবা দিয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তাতেও অনেক রোগীর অবস্থার উন্নতি ঘটবে। সেই সঙ্গে করোনা রিপোর্টের অপেক্ষায় না থেকে তাৎক্ষণিক জরুরি সেবা শুরু করতে হবে।’

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে ঢাকায় এবার সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা দিয়েছে মিরপুরের রূপনগর ও মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায়।



সাতদিনের সেরা