kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ বৈশাখ ১৪২৮। ৬ মে ২০২১। ২৩ রমজান ১৪৪২

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর ধামাচাপার চেষ্টা, মহিলা পরিষদের ক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক   

১০ এপ্রিল, ২০২১ ২১:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর ধামাচাপার চেষ্টা, মহিলা পরিষদের ক্ষোভ

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার রারাই গ্রাম দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের যথাযথ শাস্তি এবং স্কুলছাত্রী পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে সংগঠনটি।

মহিলা পরিষদ জানিয়েছে, বিভিন্ন দৈনিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায় যে- জকিগঞ্জ ইউনিয়নের রারাই গ্রামে দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল ২০২১ তারিখ রাতে ছাত্রী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে গেলে পাশের বাড়ির আফতার হোসেনের ছেলে সালমান আহমদ তাকে জোর করে ধরে নিয়ে সারা রাত ধর্ষণ করে পরদিন ভোরে অসুস্থ অবস্থায় আবার ফেরত দিয়ে দেয়। এ ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীসহ আফতার হোসেনের ছেলে সালমান আহমদসহ ঘটনা ধামাচাপায় জড়িত সেনাপতিরচক গ্রামের মৃত ফজই মিয়ার ছেলে হেলাল আহমদ, স্থানীয় ইউপি সদস্য সামসুল হক, রারাই গ্রামের মৃত আব্দুল জলিল টরইর ছেলে হাফিজ খালেদ, একই গ্রামের ফরল মিয়া, আমলশীদ গ্রামের আব্দুস সালাম ঘটনার শিকার পরিবারকে ঘটনা আপোষে নিষ্পত্তি করতে চাপ সৃষ্টি করে মারধরসহ হয়রানি করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা লক্ষ্য করছি যে, সারাদেশে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত কিশোরী, তরুণী ও নারীরা যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, আত্মহত্যা ও হত্যাসহ নৃশংস নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এছাড়াও সারা দেশে ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন কি ঘরের ভেতরেও শিক্ষার্থী, কিশোরী ও নারীরা বখাটেদের দ্বারা হামলার শিকার হচ্ছে। যা দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এধরনের ঘটনার সাথে যুক্ত থাকার কারণে সমাজে সহিংসতা আরও বেড়ে যাচ্ছে। এধরনের ঘটনার সাথে যেই জড়িত থাকুনা কেন তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।’

মহিলা পরিষদ জানায়, অব্যহত নারী ও কন্যা নৃশংস নির্যাতনের ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকায় দূর্বৃত্তদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে এবং তারা ধরা ছোঁয়ার বইরে থেকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের জন্য নারীর প্রতি বর্বর ও নৃশংস সহিংসতা এবং ধর্ষণের বিরুদ্ধে শূণ্য সহিষ্ণুতার নীতি গ্রহণ সাপেক্ষে আশু কার্যকর বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার ও প্রশাসনের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নির্যাতনের শিকার দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের যথাযথ শাস্তির লক্ষ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ স্কুলছাত্রীসহ তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জোর দাবি জানাচ্ছে। সেইসাথে নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা প্রতিরোধে সকল সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।



সাতদিনের সেরা