kalerkantho

বুধবার । ২৮ বৈশাখ ১৪২৮। ১১ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দুই বিচারপতির লেখা দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি

‘বাংলাদেশ কোনো খুনির দেশ নয়’

সুপ্রিম কোর্টের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসিতে অসন্তোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ এপ্রিল, ২০২১ ১৮:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘বাংলাদেশ কোনো খুনির দেশ নয়’

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ কোনো খুনির দেশ নয়। এটা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা। এটা অবশ্যই আমরা রক্ষা করবো। বিচার বিভাগ এবিষয়ে তার দায়িত্ব সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা জাগ্রত করতে হলে সকলের সামনে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা তুলে ধরতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের লেখা দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।

শনিবার ভার্চুয়ালি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান রচিত ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ: একজন যুদ্ধ শিশুর গল্প ও অন্যান্য’ এবং বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম রচিত ‘বঙ্গবন্ধু: সংবিধান আইন আদালত ও অন্যান্য’ বই দুটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের জেষ্ঠ্য বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, ইতিহাসবীদ অধ্যাপক ড. মুনতাসির মামুন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল ইসলাম, একাত্তর টিভির প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, লেখক আনিসুল হক ও প্রকাশনা সংস্থা মাওলা ব্রাদার্সের আহমেদ মাহমুদুল হক বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট রোকসানা পারভীন কবিতা। বই দুটিতে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন বিষয় ফুটে উঠেছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে অধ্যাপক মুনতাসির মামুনের বক্তব্যের জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে বলা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগসহ রাষ্ট্রের সকলের সহায়তায় সুপ্রিম কোর্ট কাজ করবে। আমাদের কেন আদালত অবমাননার রুল জারি করতে হবে? কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য আমরা আদালত অবমাননার আদেশ জারি করতে করতে হয়রান। যেভাবে আমাদের রায় বা নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার কথা, সে অনুযায়ী হচ্ছে না। এটা দুঃখের বিষয়।

প্রধান বিচারপতি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বই দুটির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই বই দুটি পড়লে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মা-বোনদের সীমাহীন ত্যাগের কথা জানা যাবে। বই দুটি বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে স্বদেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস করি। বিচারক, আইনজীবী, তরুন প্রজন্মসহ সকলেই উপকৃত হবে। বই দুটি ভবিষ্যতে দলিল হিসেবে কাজ দেবে বলে মনে করি।

বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলী বলেন, বঙ্গবন্ধু তার বক্তব্যে সে সময়কার বিচার ব্যবস্থা পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন। তিনি বিচার ব্যবস্থায় যে পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন আজও আমরা তা করতে পারিনি। আজ প্রায় ৪০ লাখ মামলার জট। এটা কমিয়ে এনে জনগণকে ন্যায়বিচার দিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা, মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালু করা গেলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারিনি।

আসাদুজ্জামান নুর বলেন, আজকের বই দুটির লেখক বিচারপতি হলেও তারা বিচারক হিসেবে নয়, তাদের জীবন দর্শন ও বিশ্বাস থেকে লিখেছেন। যা এখন আমাদের জাতীয় জীবনে বড়ই সংকটে পড়েছে।

অধ্যাপক মুনতাসির মামুন বলেন, গত এক দশকে জনস্বার্থে হাইকোর্ট বেশকিছু যুগান্তকারূ রায় দিয়েছেন। এ রায়গুলো কার্যকর করা হয় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ রায়গুলো প্রতিপালন করা হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য একজন বিচারপতির নেতৃত্বে একটা সেল গঠন করা যেতে পারে।



সাতদিনের সেরা