kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

গোয়েন্দা তথ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই তাণ্ডব চালায় হেফাজত

ওমর ফারুক   

৯ এপ্রিল, ২০২১ ০৩:৫৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গোয়েন্দা তথ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই তাণ্ডব চালায় হেফাজত

আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম। গোয়েন্দা তথ্য ছিল, কিন্তু ব্যবস্থা নিতে নিতেই ঘটনাগুলো ঘটে গিয়েছিল। কালের কণ্ঠকে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল এ সাক্ষাৎকার নেন ওমর ফারুক    

কালের কণ্ঠ : হেফাজতের তাণ্ডব শুরু হলো কী করে?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : আমরা ১৭ মার্চ থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছিলাম। সেই দিনগুলোতে আমরা অস্থিরতার আভাস পাচ্ছিলাম।

কালের কণ্ঠ : বহিঃপ্রকাশ কিভাবে দেখলেন?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : ২৬ মার্চ বহিঃপ্রকাশ দেখলাম। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না তাদের অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ দেখলাম।

আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল, ২৬ মার্চ মসজিদগুলোতে দোয়া মাহফিল করব। এ কারণে নেতাকর্মীরা দোয়া মাহফিলের জন্য বায়তুল মোকাররম মসজিদে ছিল। বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজের সালাম ফেরানোর পরপরই কিছু ব্যক্তি চঞ্চল হয়ে গেল। তারা দৌড়াদৌড়ি শুরু করল। ছোটাছুটি শুরু করল। তারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হলো। তখন আমাদের নেতাকর্মীরা স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হলো। আমাদের নেতাকর্মীরা যখন বাইরে এলো তখন উচ্ছৃঙ্খল কিছু লোক ছাদে উঠে ইটপাটকেল মারতে শুরু করল। আমাদের নেতাকর্মীরা আহত হলো। তাদের মধ্যে অনেককে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যেতে হয়েছে।

কালের কণ্ঠ : এরপর?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : এদিকে রব উঠিয়ে দিল, বাঁশের কেল্লাসহ কয়েকটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে দিল, আমাদের নেতাকর্মীরা নাকি মুসল্লিদের ওপর আক্রমণ করছে। শুধু তা-ই নয়, তাদের অনেককে গায়েব করে দিয়েছে। নিখোঁজ হয়ে গেছে। এসব সংবাদ শুনে তাত্ক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ শুরু হলো। এগুলো প্ল্যান করা ছিল, এখন যা আমরা দেখছি। ঘটনা একটা  ঘটবে, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হবে। প্রচার হওয়ার পরই ঘটনাগুলো ঘটবে।

কালের কণ্ঠ : দেশের অন্যান্য স্থানে বিস্তৃত হলো কী করে?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : হাটহাজারী মাদরাসার উচ্ছৃঙ্খল ছাত্ররা বের হয়ে থানা আক্রমণ করল, এসি ল্যান্ড অফিসে আক্রমণ করল, পাশেই ডাকবাংলোতে একজন পুলিশ অফিসার অবস্থান করছিলেন, তাঁকে বেদম মারধর করল। তিনি এখনো সিএমএইচে চিকিৎসাধীন। তারা গিয়ে থানার অস্ত্রপাতি লুট শুরু করে দিল। এ সময় পুলিশ বাধ্য হয়ে গুলি ছুড়ল। সেখানে কিছু হতাহত হলো। একই ঘটনা ঘটল ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও। তারপর নারায়ণগঞ্জে ঘটল। বিভিন্ন জায়গায় আবারও গুজবের মাধ্যমে তারা ঘটনাগুলো ঘটিয়ে দিল। ২৭ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া উত্তপ্ত হলো। ২৮ মার্চ বিভিন্ন স্থানে আবারও গুজবের মাধ্যমে সংগঠিত করে হেফাজত নেতারা প্রপাগান্ডা করে উসকে দিল ঘটনা।   

কালের কণ্ঠ : হেফাজত নেতারা কি বলেছিলেন, কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটবে না?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : তাদের (হেফাজত) সঙ্গে যখন আমাদের কথা হলো তখন তারা বলেছিল, এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে ধরনের ব্যবস্থা তারা করবে। সেই ব্যবস্থা আমরা দেখলাম না।

কালের কণ্ঠ : হেফাজতের পেছনে কোনো মহলের ইন্ধন আছে বলে মনে করেন কি?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : আমি আগেই বলেছি, স্বাধীনতাবিরোধী চক্র যুক্ত হয়েছে। জামায়াত-বিএনপি যুক্ত হয়ে অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাদের নৃশংসতা দেখলাম। সেখানে দেখলাম এসি ল্যান্ড অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হলো। পুলিশ লাইনসের ওপর ভাঙচুর দেখলাম। ডিসির বাংলো ভাঙচুর করেছে। সেখানে যত সরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল, সব ভাঙচুর করল। এখানেই শেষ নয়, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ইনস্টিটিউট তছনছ করা হলো। সেখানে ছাত্রলীগের সভাপতি-সেক্রেটারির বাড়ি আক্রমণ দেখলাম। আমাদের কাছে এখন মনে হচ্ছে, সব তারা আগে প্ল্যান করে রেখেছিল। সেই অনুযায়ী ঘটনা ঘটিয়েছে।

কালের কণ্ঠ : এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, সে রকম গোয়েন্দা তথ্য কি ছিল?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : এগুলো তাত্ক্ষণিকভাবে ঘটে গিয়েছিল। গোয়েন্দারা মাঠে ছিল। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে নিতেই ঘটনাগুলো ঘটে গিয়েছিল। আমি আপনাদের মাধ্যমে আহ্বান করতে চাই, গুজবে যেন সাধারণ মানুষ কান না দেয়। নিজের চোখে না দেখে, সত্যতা না জেনে কিছু বিশ্বাস করবেন না।

কালের কণ্ঠ : হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে তো মামলা হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারের কী অবস্থা?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : মামলা তো হবেই। যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা তো হবেই। যারা জড়িত, তারা যাতে শাস্তি পায় সেই ব্যবস্থা করছি। অনেকে অ্যারেস্ট (গ্রেপ্তার) হয়েছে, আরো অ্যারেস্ট হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা