kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

খুলল দোকানপাট, এরপর কী হবে সেই সিদ্ধান্ত রবিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ এপ্রিল, ২০২১ ০৩:৪৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খুলল দোকানপাট, এরপর কী হবে সেই সিদ্ধান্ত রবিবার

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন আরো কঠোর হওয়ার আভাস দিলেন, সেদিনই সরকার ঘোষিত কঠোরতা আরো শিথিল করার ঘোষণা এসেছে। অর্থাৎ আজ শুক্রবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময় শপিং মল ও দোকানপাট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত এসেছে। এর আগে নগরে অর্ধেক গণপরিবহন চালু করা হয়। কার্যত সব কিছুই খোলার অনুমতি মিলেছে। এখন বন্ধ শুধু দূরপাল্লার যান চলাচল।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) কর্মকর্তাদের ৭১তম বুনিয়াদি কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানে

ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বত্তৃদ্ধতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে আরো শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

আর দুপুরের দিকে জারি হওয়া মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশনায় আজ থেকে দেশের সব জায়গায় দোকানপাট, শপিং মল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে। আগামী ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত এই সুযোগ দিয়ে গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে। করোনাভাইরাসে দেশে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর দিনে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিল। একই দিনে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশে দ্বিতীয় পর্বের টিকার ডোজ দেওয়াও শুরু হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় শাখার উপসচিব রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, কঠোর স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখা যাবে। স্বাস্থ্যবিধি পালন করা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে আদেশে।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে, এরপর কী হবে সেই সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে আগামী রবিবার। ওই দিন মন্ত্রিপরিষদসচিব উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক ডেকেছেন। ওই বৈঠকে হওয়া প্রাথমিক সিদ্ধান্ত পাঠানো হবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা ওই দিন বা পরদিন সোমবার সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ মার্চ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করে সরকার। ওই নির্দেশনায় কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কার্যত ওই নির্দেশনায় পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ এপ্রিল সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত সীমিত পরিসরে খোলা রেখে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক যানবাহন চলার শর্তে বাকি সব কিছু বন্ধ করে দিয়ে ১১ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। অফিস-আদালত খোলা রেখে গণপরিবহন বন্ধ করার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাপক সমালোচনা হয়। বিশেষ করে বেসরকারি খাতের কর্মজীবীদের অফিসে যেতে একদিকে যেমন হয়রানির মধ্যে পড়তে হয়েছে, অন্যদিকে বেশি ভাড়াও গুনতে হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার থেকে দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় সকাল থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত গণপরিবহনসেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত দেয় সরকার। এবার ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের দাবির মুখে নির্ধারিত সময়ের জন্য দোকানপাটও খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। পহেলা বৈশাখ ও রোজা সামনে রেখে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হচ্ছে। তবে সরকারের তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য আসেনি।

কালের কণ্ঠ’র পক্ষ থেকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারাও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে রাজি হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, মানুষ ‘লকডাউন’ মানতে চাচ্ছে না। এ অবস্থায় বেশিদিন চলাও মুশকিল। সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়ার মধ্যে ব্যবসায়ীরা আন্দোলন করছেন দোকান খোলার জন্য। তাই সরকার একটি সুযোগ দিল। আগামী সপ্তাহে যদি সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তাহলে সরকার নিশ্চয়ই নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।

সূত্রটির দাবি, সরকার সাধারণ মানুষকে আস্থায় নিয়েই কাজ করতে চাচ্ছে। তাই আপাতত কৌশলী একটা সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সামনের দিনে গত বছরের মতো শক্ত ‘লকডাউন’ও আসতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা