kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

দি হাঙ্গার প্রজেক্টের উদ্যোগে

করোনাভাইরাস-সহিষ্ণু গ্রাম

অনলাইন ডেস্ক   

৮ এপ্রিল, ২০২১ ২১:৫৭ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



করোনাভাইরাস-সহিষ্ণু গ্রাম

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাব্রতীরা ‘করোনাভাইরাস-সহিষ্ণু গ্রাম’ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে।

আজ ৮ এপ্রিল ২০২১ সকালে এ বিষয়ে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের উদ্যোগে অনলাইন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী আবদুল মান্নান এমপি। আলাচনা অনুষ্ঠানটিতে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মোশতাক হোসেন, উপদেষ্টা, আইইডিসিআর; ডাক্তার এইচ.এম. লেলিন, পরিচালক, হেলথ এন্ড হোপ; বৃটিশ কাউন্সিলের শাহজাহান করিম, পপুলেশন কাউন্সিলের প্রধান ওবায়দুর রব; রাজনীতিবিদ রুহীন হোসাইন প্রিন্স, সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, আদিবাসী নেতা সঞ্জীব দ্রং; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা ডা. মোজাহেরুল হক; ডা. আবু জামিল ফয়সাল; ড. জিয়াদুল করিম; মাহরুখ মহিউদ্দিন; বেনজীর আহমেদ প্রমূখ। সংলাপটি পরিচালনা করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত এবং একাজে তাদের মালিকানা সৃষ্টি করা আমাদের এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, আমরা সবাই সমভাবে এর ঝুঁকিতে আছি- গ্রামের মানুষদের মধ্যে এ মানসিকতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে। তারা গ্রামের সবার মধ্যে এ চেতনা সৃষ্টি করতে চেষ্টা করছে যে, প্রত্যেক ব্যক্তির, এমনকি সবচেয়ে দরিদ্রতম ব্যক্তিরও করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদেরর কার্যক্রম নিয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করে দেখতে পেয়েছি যে, আমাদের কর্ম এলাকাতে মাস্ক পরার হার অন্য এলাকার চেয়ে দ্বিগুণ। এছাড়া সংস্ক্রমণ ও মৃত্যুর হারও তুলনয়ামূলকভাবে অনেক কম।

পরিকল্পনা মন্ত্রী আবদুল মান্নান এমপি বলেন, প্রমাণ করে কৌশলটা কাজে লেগেছে। সরকারকে একটা কেন্দ্রীয় জায়গা থেকে কাজ করতে হচ্ছে, অবশ্যই কতটুকে ভালো করছে সেটা বিচারিধীন থাকবে, সমালোচনা থাকবে।

তিনি বলেন, হাঙ্গার প্রজেক্ট ১২০০ গ্রামে করোনা নিয়ে কাজ করছে। জরিপের ফলাফল থেকে প্রমাণ হচ্ছে যে হাঙ্গার প্রজেক্টের কৌশলটা কাজে লেগেছে। আমরা খুবই কঠিন একটি সময় পার করছি, তাই বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে যেতে হবে।

ডা. মোজাহেরুক হক বলেন, করোনা ২য় ঢেউ আসবে এটা আমরা সবাই জানতাম। কিন্তু এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম কিনা সেটি একটি প্রশ্ন। এই ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হলে কী করব কতদিনে করব সেই প্ল্যান থাকতে হবে। একটা লক্ষ্য থাকতে হবে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করতে হবে। এজন্য দেশের সবাইকে টিকার আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার জনগণকে সচেতন করছে মানছি, কিন্তু জনগণের অংশগ্রহণ সৃষ্টিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। জনগণকে যতদিন পর্যন্ত স¤পৃক্ত করতে না পারবেন ততদিন সরকার সফল হবে না।

এইচ.এম. লেলিন বলেন, গবেষণায় দেখা গিয়েছে বাংলাদেশে নতুন ধরনের যে ভাইরাস এটা আফ্রিকান ধরনের সঙ্গে ৮০ শতাংশ মিল। তার মানে হলো এটা আরও শক্তিশালী একটি ভাইরাস এবং এস্ট্রোজেনিকার টিকা এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে শতভাগ কার্যকর না, আংশিক কার্যকর। তাই আমাদের ব্যক্তিগত এবং সামষ্টিকভাবে জীবনযাপন এমন পরিবর্তন আনতে হবে যার মধ্য দিয়ে আমরা করোনা প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারব। সব সরকারি বেসরকারি সংগঠন মিলে এক জট হয়ে এই কাজটাকে মুল কাজ হিসেবে নিয়ে আসতে হবে।

বেনজীর আহমেদ বলেন, জনসম্পৃক্ততা নিয়ে একটি বড় ঘাটতি দেখছি। আমরা সবসময় শুধু প্রশাসনিক আদেশ নিষেধ দেখি। সেক্ষেত্রে হাঙ্গার প্রজেক্টের এই উদ্যোগটি ব্যতিক্রম। এই উদ্যোগকে কীভাবে সমন্বিত করা যায় সেটি নিয়ে আরও কাজ করতে হবে।

সঞ্জীব দ্রং বলেন, মৌলভীবাজারের খাসিয়া সম্প্রাদায়ের লোকেরা নিজেদের রক্ষার জন্য একধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। এটাকে তারা বলে গ্রাম বন্ধনী। আমি মনে করি চিরায়ত অনেক জ্ঞান আমাদের লোকেদের আছে যা অনেক উপকারী। আমার অনুরোধ থাকবে আমাদের এই আদিবাসী জ্ঞান নিয়ে যেন আমরা বেশি বেশি গবেষণা করি।

মোশতাক হোসেন বলেন, করোনাকে নিয়ন্ত্রনে আনবার জন্য হাঙ্গার প্রজেক্টের স্বেচ্ছাব্রতীদের নিয়ে কার্যক্রমের মডেলটি শহরাঞ্চলে প্রয়োগ করা খুবই জরুরি। লকডাউন শব্দটা খুবই ভীতিকর। লকডাউন জনস্বাস্থ্যের কোনো অফিসিয়াল ভাষা না। এটা অনেকটা ডাকনাম। ছুটি পেয়ে শহর থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ যাতে বাড়ি চলে না যায় সেজন্য অফিস আদালত খোলা রাখা হয়েছে বলে আমি মনে করি। ঢাকা শহরে যাদের আয় রোজগারের ব্যবস্থা নেই তারা খুব সঙ্গত কারণেই ঢাকা শহর ছেড়ে গেছে। যাদের গাড়ি আছে তারাতো গাড়ি নিয়ে ঘুরতে পারি অসুবিধা হয় না, কিন্তু যে পায়ে হেটে অফিসে যাচ্ছে তাকে আমরা বলছি যে তিনি ঘুরতে বেরিয়েছেন। এটা খুবই অপমানজনক কথা।

মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, সকলের স্বার্থে সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা আশা করি। সুনির্দিষ্ট না হলে সেগুলো উপেক্ষা করারও সুযোগ থাকে। ওবায়দুর রব বলেন, করোনা নিয়ে আমাদের যেসব পরিসংখ্যান দেওয়া হচ্ছে সেগুলো অস¤পূর্ণ। প্রত্যেকদিন গৎবাঁধা যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে এগুলো জনমনে কোনো প্রভাব ফেলছে না।

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, এক বছর আগে যে অবস্থায় ছিলাম এখন অবস্থা আরও খারাপ। আগে শুনেছি আইসিউতে বেড নেই, এখন বলা হছে সাধারণ বেডও নেই। এক বছর ধরে করতে করতে হবে শুনছি, কিন্তু কী করতে হবে সে জায়গায় নেই। কমিউনিটি মোবিলাইজেশনের জায়গায় সরকারের ব্যত্যয় ছিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা