kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

‘পুলিশের কঠোর হওয়ার তেমন কিছু ছিল না’

ওমর ফারুক    

৭ এপ্রিল, ২০২১ ০২:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘পুলিশের কঠোর হওয়ার তেমন কিছু ছিল না’

প্রতীকী ছবি

করোনা রোধে সরকার নিষেধাজ্ঞা জারির পর তা বাস্তবায়নে গত দুই দিন রাজধানীসহ সারা দেশে পুলিশকে তেমন তৎপর হতে দেখা যায়নি বলে অনেকে সমালোচনা করছে। তবে পুলিশ বলছে, সরকারের তরফে যে ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় সে অনুযায়ী পুলিশের কঠোর হওয়ার তেমন কিছু ছিল না। যেসব দেখভাল করতে বলা হয়েছে, পুলিশ তার সবই করছে।

সরকারি আদেশে বলা হয়েছিল, সব ধরনের গণপরিবহন (সড়ক, নৌ, রেল ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, উৎপাদনব্যবস্থা, জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া বিদেশগামী/বিদেশ প্রত্যাগত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। সরকারি আদেশের কোথাও ব্যক্তিগত গাড়ি, অটোরিকশা, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ যানবাহন বন্ধের কথা ছিল না। পুলিশের তাই এসব ক্ষেত্রে কোনো দায় ছিল না। 

সড়কপথে শুধু বাস-ট্রাক চলার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এর মধ্যে আবার পণ্যবাহী ট্রাক চলতে পারবে, যে কারণে পুলিশ শুধু সড়কে বাস এবং পণ্য ছাড়া কোনো ট্রাক চলছে কি না, তা দেখছে। এ কারণে রাজধানীতে প্রচুর গাড়ি চলাচল করতে দেখা যায়। এ ছাড়া আদেশে খাবারের দোকান ও হোটেল থেকে অনলাইনে খাবার বিক্রি করা যাবে, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস ও আদালত এবং বেসরকারি অফিস জরুরি কাজ সম্পাদনের জন্য সীমিত পরিসরে খোলা রাখা যাবে, প্রয়োজনীয় জনবল প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে আনা-নেওয়া করা যাবে। শিল্প-কারখানা এবং নির্মাণকাজও চালু থাকবে এমন বিষয় উল্লেখ রয়েছে আদেশে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি কাজেই মানুষের চলাচলের সম্পৃক্ততা রয়েছে। হোটেলের খাবার অনলাইনে বিক্রি বা পার্সেল নিতে হলেও একজনকে তো খাবারটা নিয়ে যেতে হবে। তাহলে কঠোর হওয়ার সুযোগ কোথায়?

পুলিশ কেন কঠোর হলো না—এ প্রশ্নে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারি বিধি-নিষেধের মধ্যে রয়েছে প্রাইভেট কার চলবে, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলবে, রিকশা চলবে, পণ্যবাহী ট্রাক চলবে। শুধু বাস ও খালি ট্রাক চলবে না। আমরাও সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি।’ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘রাজধানীতে বাস চলাচল করতে কি দেখেছেন? সরকার যে নির্দেশনা আমাদের দিয়েছে, আমরা সেটা পুরোপুরি পালন করছি।’

অন্যদিকে রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে রাজপথে চলাচলকারী অনেক মানুষকে মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। কিন্তু এই মাস্ক পরানোর দায়িত্ব কার—এমন প্রশ্নের জবাবও পাওয়া যায় না। এক পুলিশ কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, পুলিশ মানুষকে করোনা রোধে সচেতন করছে আগে থেকেই। এখনো করছে। মাস্ক পরার জন্য বলাও হচ্ছে। কিন্তু কেউ যদি মাস্ক না পরে, তাকে জোর করে পরানোর দায়িত্ব পুলিশের নয়। সেই ধরনের কোনো আইনও নেই।

সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, কোনো অবস্থায়ই হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ করা যাবে না। কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, লোকজন হোটেলে বসেই খাবার খাচ্ছে। সরকারি আদেশে কঠোর আইনানুগ ব্যববস্থার কথা বলা হলেও গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার দুই দিন পার হলেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। এবারের নিষেধাজ্ঞা মানা ও মানানোর ক্ষেত্রে রাজধানীতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য। গতকাল সূত্রাপুরের শ্যামবাজারে কথা হয় আবুল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তাঁর ধারণা, সরকার হেফাজতের আন্দোলন দমানোর জন্য লকডাউন দিয়েছে। পাশ থেকে আরেকজন বলেন, সরকার উন্নত দেশের চাপে আছে, এ কারণে লকডাউন দিয়ে দেখাচ্ছে যে বাংলাদেশও করোনা রোধে কিছু করছে। এ কারণে সরকারই পুলিশকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেয়নি। এ ছাড়া দরিদ্র মানুষের কথা ভেবে পুলিশ কঠোর হচ্ছে না বলেও আলোচনা রয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

গত দুই দিন রাজধানী ঘুরে সরকারি বিধি-নিষেধ মানার দৃশ্য খুব বেশি চোখে পড়েনি। তবে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে আদেশ পুরোপুরি মানতে দেখা গেছে। সদরঘাটে গিয়ে মনে হয়েছে, সরকারি বিধি-নিষেধ পুরোপুরি মানা হচ্ছে। সদরঘাটের পন্টুনগুলোর সামনে একটিও লঞ্চ নেই। লঞ্চগুলো রাখা হয়েছে বেশ খানিকটা দূরে ফরাশগঞ্জ এলাকায়। সদরঘাটে মানুষের আনাগোনাও চোখে পড়েনি। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এই এলাকায় মানুষে গিজগিজ করত। গতকাল দুপুরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে পুরোপুরি বিধি-নিষেধ মানা হচ্ছে। স্টেশনের ভেতরে কোনো লোক নেই। ফ্ল্যাটফর্মের পাশে তিন-চারটি ট্রেন দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ভেতরে একটা ভূতুড়ে পরিবেশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা