kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

বাণিজ্য প্রসারে কানেক্টিভিটি

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ   

৩ এপ্রিল, ২০২১ ০৪:০৫ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



বাণিজ্য প্রসারে কানেক্টিভিটি

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বলা হয়ে থাকে যে বৈদেশিক সাহায্যের চেয়ে বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভর করা অনেক ভালো। বাংলাদেশ এই পথে অনেক দূর এগিয়েছে এবং বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও সচেষ্ট রয়েছে। তবে রপ্তানি-বৈচিত্র্য বৃদ্ধি না পাওয়া এবং ব্যবসা সহজীকরণের অভাব, উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি না পাওয়ার মতো কিছু বাধা আমাদের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বরাবরই আটকে রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বা সংযুক্তি এক দিকে আমাদের বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটাবে, আরেক দিক থেকে বৈদেশিক বাণিজ্যের বিভিন্ন বাধা দূর করতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ইদানীং আমরা দেখছি যে কানেক্টিভিটির ব্যাপারে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সঙ্গে আঞ্চলিক নেতাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও এ বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে। এই কানেক্টিভিটির অর্থ হচ্ছে সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথের অর্থনৈতিক সংযুক্তি। এ জন্য আমাদের বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে।

কানেক্টিভিটির দুটি দিক আছে। একটি ভৌত এবং অন্যটি প্রযুক্তিগত। আমি কানেক্টিভিটির ভৌত অবকাঠামোর ব্যাপারে আলোকপাত করতে চাই। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন। এর আগে দুই দেশের সম্পর্কের সর্বশেষ অগ্রগতিটা হলো, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরার সংযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ এবং চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেল সংযোগ ফের চালু করা হয়েছে। এখানে চিলাহাটি-হলদিবাড়ী সংযোগটি খুবই গুরুত্ব বহন করে, যা ভুটানের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে দিতে পারে। এখন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর আমাদের বাণিজ্য প্রসারের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

তবে এই বিষয়ে বাংলাদেশকে আরো সতর্ক এবং আরো বিচক্ষণতার সঙ্গে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। আমাদের নিরাপত্তা ও আমাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর যথেষ্ট নজর দিতে হবে। আমাদের জ্বালানি খাতকে আরো বিকশিত করতে হবে। ভৌত অবকাঠামো তথা রাস্তাঘাটের প্রভূত উন্নয়ন করতে হবে। নৌ, সমুদ্র ও স্থলবন্দরের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। অনেকে বলছেন, বন্দরগুলোর উন্নয়ন হলে ভারতের সঙ্গে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য অনেক বেড়ে যাবে। কিন্তু আমার পর্যবেক্ষণ হলো রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য শুধু ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন করলেই চলবে না। এর সঙ্গে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে হবে।

আমরা বরাবরই আঞ্চলিক যোগাযোগের কথা বলছি। এই প্রসঙ্গে করণীয় হলো এই সংযুক্তিটা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর সীমাবদ্ধ না রেখে আঞ্চলিক এবং উপ-আঞ্চলিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিবিআইএন ইনিশিয়েটিভ তথা বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের মধ্যে উপ-আঞ্চলিক সংযুক্তির যে উদ্যোগ সেটাকে এগিয়ে নিতে হবে। নেপাল ও ভুটানকে আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। আমাদের ভৌগোলিক অবস্থান এটাই দাবি করে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল থেকে ভারতের ওপর দিয়ে অতি সহজেই নেপালের সঙ্গে ভৌগোলিক সংযোগ তৈরি করা সম্ভব। এই সংযোগ তৈরির জন্য আমাদের জোর দিতে হবে এবং ভারতের সহযোগিতা নিতে হবে। একই এলাকা দিয়ে ভুটানের সঙ্গেও সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। আর দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা—সার্কের বিদ্যমান কাঠামোর ভেতরেই এই সংযোগটা গড়ে তোলা উচিত। আমরা আসিয়ানের দিকে তাকাতে পারি। তারা কতটা শক্তিশালী একটি সংযোগ তৈরি করতে পেরেছে। আসিয়ানের বিভিন্ন সদস্যের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ঝামেলা সত্ত্বেও আসিয়ান সব সদস্যের মধ্যে একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পেরেছে। খেয়াল করলে দেখব, ভারত কিন্তু বাণিজ্য সম্প্রসারণে অন্যান্য দেশের সঙ্গে অনেক বেশি উন্মুক্ত। পূর্ব এশিয়ার কোরিয়া, হংকং ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ভারতের প্রচুর বাণিজ্য রয়েছে। আঞ্চলিকতার বাইরে আফ্রিকার দেশগুলো এবং ব্রাজিল ও জার্মানির সঙ্গে ভারতের অনেক বেশি বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।

বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য কানেক্টিভিটির কথা যা-ই বলি না কেন, সবার আগে দরকার এবং সবচেয়ে বেশি দরকার আমাদের নিজস্ব শিল্প দক্ষতা বৃদ্ধি করা, মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করা এবং রপ্তানিপণ্যে বৈচিত্র্য আনা। এগুলো করতে না পারলে যতই চুক্তি করি বা সমঝোতা করি, আমরা প্রতিবেশী ভারতেও আমাদের রপ্তানি বাড়াতে পারব না। এ বিষয়টা আমাদের গোড়াতেই ভাবতে হবে। আরেকটা বিষয়, আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ শতাংশ। সেখানে ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১ শতাংশ। তাই সহজেই ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির অনেক সুযোগ রয়েছে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, বে অব বেঙ্গলে বাংলাদেশের যে অবস্থান, তাতে বাংলাদেশকে এই অঞ্চলের ইকোনমিক হাব বা অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা যায়। এই হাবটাকে আমরা বিস্তৃত করতে পারি, কাজে লাগাতে চাই। এ জন্য আমাদের আকাশপথ যথেষ্ট ভালো করতে হবে এবং সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। নৌপথের বিদ্যমান সুবিধাকে বিপুল পরিমাণে বাড়াতে পারি। সড়ক ও রেলপথ কাজে লাগাতে পারি। আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বৃদ্ধির জন্য এ মুহূর্তে নদী ও সমুদ্রবন্দরের ওপর খুব জোর দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে পায়রা সমুদ্রবন্দর হচ্ছে। আমার মনে হয়, এদিকে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া উচিত। আর নদীবন্দরগুলোর অবস্থা খারাপ। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এখানে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট উন্নয়নের অনেক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট নজর দেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া পণ্য পরিবহনের জন্য নদীপথ সাশ্রয়ী এবং পরিবেশগত দিক দিয়ে অনেক ভালো। এ জন্য আমাদের নদীপথগুলোর নাব্যতা বাড়াতে হবে, নদীবন্দরগুলো উন্নয়ন করতে হবে। শুধু স্থলবন্দর করলেই চলবে না। নদীপথ ও নদীবন্দরের উন্নয়ন ঘটালে স্থলবন্দর ও সমুদ্রবন্দরের কার্যকারিতা আরো বাড়বে।

কানেক্টিভিটি বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিবন্ধকতাগুলোও চিহ্নিত করা দরকার। কানেক্টিভিটির জন্য আমাদের যে বাধাগুলো আছে, সেগুলো অতিক্রম করতে না পারলে লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। আমাদের এক নম্বর বাধা হলো শুল্ক ও অশুল্ক বাধা। বিশ্বের অন্যান্য দেশের বাণিজ্যের তুলনায় আমাদের এই অঞ্চলে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা বেশি। তাই এই বাধা আমাদের দূর করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতি বিশেষ করে রাজস্ব এবং শুল্ক-কর ইস্যুতে যথেষ্ট নজর দিতে হবে, যেন বাণিজ্যবান্ধব হয়। তৃতীয়ত, ভারতের একটা বিষয় হলো অনেক বড় দেশ হওয়ায় তাদের দিক থেকে অনেক সময় নন-ট্যারিফ বা অশুল্ক বাধা আসে। যেমন—আমরা আমাদের পাট রপ্তানির ওপর ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করতে দেখলাম। এর আগে ব্যাটারি রপ্তানিতে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক বসানো হয়েছিল। মাছ ধরার জাল, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানিতেও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক বসানো হয়েছে। কিন্তু এটা কানেক্টিভিটির জন্য খুব ভালো লক্ষণ নয়। আপনি যোগাযোগের ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন, এর সঙ্গে যদি শুল্ক সহজীকরণ না করেন, একের পর এক অ্যান্টি-ডাম্পিং করে বসেন—এটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। চতুর্থত, ভারতে রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক ধার্য করতে গিয়ে পণ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার নামে যে সময়ক্ষেপণ করা হয় তা দূর করতে হবে। পণ্য পরীক্ষা যদি কলকাতায় বা কলকাতার বাইরে কোনো ল্যাবরেটরিতে হয়, এর মধ্যে পচনশীল দ্রব্য যদি স্থলসীমান্তে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকে তাহলে সেটা বাণিজ্য সহায়ক হবে না। এসব নন-ট্যারিফ ও আমলাতান্ত্রিক বাধা দূর করতে হবে।

এখন আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বাধাগুলো দূর করতে হবে। প্রথমত, ভৌত অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য ইউজার চার্জ যথাযথভাবে আদায় করতে হবে। ভারতের পণ্যবাহী যান নদীপথ ও স্থলপথে আসে, আকাশপথে আসে—এর ওপর যৌক্তিক মাসুল আরোপ করতে হবে। আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র বলে আমরা যদি সব কিছুই একেবারে কম হারে ধার্য করি, তাহলে কানেক্টিভিটি টেকসই হবে না। কারণ এতে বঞ্চনার ও অসন্তোষের প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, সবচেয়ে ভালো হয় যদি মুক্ত বাণিজ্যের মতো কিছু করা যায়। এখানে অবশ্য শুধু বাণিজ্যিক ইস্যু নয়, এখানে কিন্তু রাজনীতি এবং অন্যান্য ইস্যুও চলে আসে। তাই আমাদের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর জনগণের মনোভাবও প্রভাব ফেলে। তৃতীয়ত, তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়ন খুব দরকার। এর সঙ্গে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। সেদিকে যথেষ্ট নজর দিতে হবে। চতুর্থত, যে বিষয়টি কানেক্টিভিটির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হচ্ছে আমাদের স্থানীয় বাজারব্যবস্থার উন্নয়ন। প্রতিবেশী দেশের বাজারের সঙ্গে আমাদের বাজারের লিংক তৈরি করতে হবে। বাজার থেকেই চাহিদাটা আসে। আর স্থানীয় বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ কানেক্টিভিটি বাড়াতে হলে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিপরীতভাবে কানেক্টিভিটি প্রতিযোগিতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে। কারণ প্রতিযোগিতা তখন জরুরি হয়ে পড়বে।

সব শেষে হলো আমাদের বাণিজ্য শুধু পোশাকশিল্প, পাটসহ সীমিতসংখ্যক দ্রব্যই নয়, আমাদের ছোট শিল্প, মাঝারি ও কুটির শিল্পের বাণিজ্যের প্রসারটা ঘটাতে হবে। আমাদের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পে নানা ধরনের গৃহসামগ্রী, গৃহসজ্জা ও তৈজসপত্র তৈরি হয়। কানেক্টিভিটির মাধ্যমে আমরা এসব শিল্পের উৎপাদিত জিনিসগুলো বিদেশে পাঠাতে পারি। এরই মধ্যে এ ধরনের অনেক পণ্যই বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। আমরা কানেক্টিভিটির মাধ্যমে তা বাড়াতে পারি। এখানে একটা বিশেষ সুবিধা হলো নারীদের অংশগ্রহণ বেশি থাকে। এখানে আমাদের দক্ষ কারিগরদের অনেক অবদান আছে। এখন এই খাতের বাণিজ্য যদি সম্প্রসারণ করা হয়, তাহলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে এবং তাদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

সব মিলিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের সঙ্গে সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে যে উদ্যোগ দেখা গেছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের সুবিধা হলো ভৌগোলিকভাবে আমরা সহজেই সংযুক্ত বা কানেকটেড হতে পারি। তাই এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে আমাদের বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে হবে। এ জন্য সবচেয়ে বড় কথা হলো আমাদের রাজনৈতিক পদক্ষেপ এবং আমাদের সামষ্টিক নীতিগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা। শুধু বাণিজ্য নিয়ে সমঝোতা করলাম, চুক্তি করলাম; কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা, রাষ্ট্রীয় নীতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সামঞ্জস্যপূর্ণ হলো না, তাহলে কিন্তু বহির্বাণিজ্যের সর্বোচ্চ সুবিধা আমরা পাব না। 

লেখক : সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অধ্যাপক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
অনুলিখন : আফছার আহমেদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা