kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

সময়সীমা পুনর্নির্ধারণের দাবি প্রকাশকদের

আজিজুল পারভেজ   

২ এপ্রিল, ২০২১ ০২:২৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সময়সীমা পুনর্নির্ধারণের দাবি প্রকাশকদের

বইমেলার যে নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে মেলা যে জমবে না তার প্রমাণ পাওয়া গেল গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম দিনেই। বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা সময়কালে হাতে গোনা কিছু মানুষের উপস্থিতি ছিল মেলা প্রাঙ্গণে। সন্ধ্যা ৬টার পর মেলা প্রাঙ্গণে আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ফলে বিক্রিবাট্টা একেবারেই হয়নি বলে জানালেন প্রকাশকরা।

এদিকে গতকাল বিকেলে প্রকাশক প্রতিনিধিরা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মেলার সময়সীমা পরিবর্তনের বিষয়ে তাঁদের আপত্তির কথা জানান। প্রথমে তাঁরা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে মেলা আয়োজনের দাবি জানান। বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়টি সরকারের নির্দেশনা অনুসারে হয়েছে বলে জানানো হয়। তখন প্রকাশক প্রতিনিধিরা সময়সীমা পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান। এরপর প্রকাশকরা বিকেল ৪টায় শুরু করে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলার সময়সীমা নির্ধারণের দাবি জানান। মহাপরিচালক এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

গতকাল রাত ৮টায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার একটি সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের করার কিছু নেই। প্রকাশক প্রতিনিধিরা যে দাবি জানিয়েছেন, আমরা তা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি।’

এদিকে বইমেলা জমিয়ে তুলতে যে নানা অনুষঙ্গ থাকে, তা-ও ক্রমে সংকুচিত হয়ে এসেছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ‘লেখক বলছি’ মঞ্চে নিজের বই নিয়ে লেখকদের মুখোমুখি হওয়ার আয়োজন বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন সময়সূচি নির্ধারণের পর গতকাল এই অনুষ্ঠানটি হয়নি। আর হবে না বলেও জানা গেছে। বইমেলার মূলমঞ্চের আলোচনা অনুষ্ঠান তার আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবার শুরুই হয়নি। অনুষ্ঠান বলতে এখন থাকল শুধু নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। 

আজ শুক্রবার ছুটির দিনে বইমেলা শুরু হবে সকাল ১১টায়। সময়সূচি পরিবর্তন না হলে মেলা চলবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত।  

নতুন বই

গতকাল বইমেলার ১৫তম দিনে নতুন বই এসেছে ৭২টি। এর মধ্যে গল্পগ্রন্থ ১৫টি, উপন্যাস ১০টি, প্রবন্ধগ্রন্থ ছয়টি, কবিতাগ্রন্থ ২২টি, ইতিহাসের বই তিনটি এবং বঙ্গবন্ধুবিষয়ক বই চারটি। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর ‘আমার বঙ্গবন্ধু আমার বাংলাদেশ’, আবদুল মান্নান চৌধুরী সম্পাদিত ‘বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা মুজিব স্মারকগ্রন্থ’ ও মোনায়েম সরকারের ‘আমার বঙ্গবন্ধু আমার বাংলাদেশ’ মেলায় এনেছে আগামী প্রকাশনী। মোহাম্মদ ফায়েজ উজ্জামানের ‘মুজিবনগর সরকার ১৯৭১’ ও চৌধুরী শহীদ কাদেরের ‘ত্রিপুরা ১৯৭১’ প্রকাশ করেছে সময় প্রকাশন। আন্দালিব রাশদীর উপন্যাস ‘মহুয়ার সাথে’ এনেছে নাগরী। মোশতাক আহমেদের কিশোর গোয়েন্দা ‘নিতুর টিয়া’, রফিকুর রশীদের গল্পগ্রন্থ ‘আতংকিত রাত্রিদিন’ এনেছে কথাপ্রকাশ। বিশ্বজিৎ দাসের রম্য ‘ফিরে এলো মোখলেস ভাই’ ও ক্ষিতিমোহন সেনের ‘ভারতীয় মধ্যযুগের সাধনার ধারা’ এনেছে অবসর প্রকাশনা সংস্থা। প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্লাহের ‘ভারত ভাগে বাংলার বিয়োগান্তক ইতিহাস’ এনেছে অন্যরকম।

প্রকাশিত বইয়ের মধ্য থেকে পাঠকের জন্য নির্বাচিত চারটি বইয়ের তথ্য তুলে ধরা হলো।

আমার স্মৃতিকথা : ব্রি. জে. (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের স্মৃতিচারণামূলক বই। জীবনের প্রথম দিককার নানা পর্ব নিয়ে স্মৃতিকথা লিখেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ছোটবেলার ঢাকার স্মৃতি, রংপুর জিলা স্কুল, যশোর, করাচির স্মৃতি। আরো রয়েছে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি কাকুলের স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা। বইটি প্রকাশ করেছে পালক পাবলিশার্স। মূল্য ৩০০ টাকা।

উজানযাত্রা : কথাসাহিত্যিক মঞ্জু সরকারের নতুন উপন্যাস। শৈশব-কৈশোরে দেখা বাংলা, কৈশোর-যৌবনে ধর্ম-প্রেম-যৌনতা ও রাজনীতির প্রভাব, অবিস্মরণীয় কিছু চরিত্র, স্বাধীনতা ও স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নতি-দুর্গতি প্রভৃতি বিষয়ের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে বড় ক্যানভাসে লেখা হয়েছে এই উপন্যাস। প্রকাশ করেছে আগামী প্রকাশনী। বইটির মূল্য ৩০০ টাকা।

যেখানে এভারেস্ট : ইফতেখারুল ইসলামের ভ্রমণকাহিনি। হিমালয়ের এভারেস্ট বেইস ক্যাম্পের দিকে একাগ্রচিত্তে এগিয়ে যাওয়া এক অভিযাত্রীর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার স্বতঃস্ফূর্ত বয়ান এই বই। বইটি প্রকাশ করেছে বাতিঘর। মূল্য ৩০০ টাকা।

দূরের সবুজ বনভূমি : ধ্রুব এষের উপন্যাস। অদ্ভুত ঘোরলাগা, বাস্তব আর খানিক পরাবাস্তবের মিশেলে ছবির মতো এক গল্প। বইটি প্রকাশ করেছে ছাপাখানার ভূত। মূল্য ১৫০ টাকা।



সাতদিনের সেরা