kalerkantho

মঙ্গলবার । ১ আষাঢ় ১৪২৮। ১৫ জুন ২০২১। ৩ জিলকদ ১৪৪২

এবার রোজায় শরবতও নাগালে থাকছে না

রোকন মাহমুদ   

২ এপ্রিল, ২০২১ ০২:২৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এবার রোজায় শরবতও নাগালে থাকছে না

এবার গ্রীষ্মের শুরুতেই রোজা। বাকি আর ১৩ দিন। প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষের ইফতারে অত্যাবশ্যকীয় পানীয় এক গ্লাস শরবত। উচ্চবিত্তদের জন্য নানা ধরনের ফলের রস আর শরবত টেবিলে সাজাতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ভরসা চিনি দিয়ে লেবুর মামুলি শরবত রোজা আসার আগেই নাগালের বাইরে চলে গেছে বলা যায়। কারণ চিনির দাম গত এক-দেড় মাসে বেড়েছে কেজিতে পাঁচ থেকে সাত টাকা। লেবুর দাম প্রায় দ্বিগুণ।

ভোক্তারা বলছেন, রোজায় সর্বক্ষেত্রে সংযমের নির্দেশনা থাকলেও বাজারে এর প্রতিফলন নেই। এতে করে ক্রেতার পকেটের ওপর চাপ বাড়ছেই। করোনায় জীবনযাত্রার খরচ যখন ঊর্ধ্বমুখী, তখন এই চাপ দ্বিগুণ হয়ে দেখা দিচ্ছে।

kalerkanthoট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডাল, তেল, ময়দা, গুঁড়া দুধ ও আদা-রসুনসহ ১০ ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে।

রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডাসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৮-৭০ টাকা কেজি। মাসখানেক আগে ৬৫ টাকা কেজি দরে চিনি পাওয়া যেত। এর আগে ছিল ৬৩ টাকা পর্যন্ত।

গতকাল বৃহস্পতিবার পাইকারি বাজারে চিনি বিক্রি হয়েছে ৬৩ টাকা ২০ পয়সা কেজি পর্যন্ত। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে খুচরা বাজারে চিনির যৌক্তিক দাম হওয়া উচিত সর্বোচ্চ ৬৮ টাকা। প্যাকেট চিনি ও খোলা বাদামি চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজি ৭৫ টাকা পর্যন্ত, যা আগে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যেত।

বিক্রেতারা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও জাহাজসংকটের অজুহাত দিলেও অনেকেই বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁরা বলছেন, সরকারি গুদামে মজুদ পর্যাপ্ত না থাকায় সুযোগ নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়েছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশে চিনির বার্ষিক চাহিদা ১৮ লাখ টন। এর তিন লাখ টনই লাগে রোজার সময়।

জানা যায়, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোজার আগে প্রতিবছর এক থেকে এক লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন চিনি মজুদ রাখে সরকার। এবার সরকারি ছয়টি চিনিকল বন্ধ, বাকিগুলোর উৎপাদনও সন্তোষজনক নয়। ফলে রোজার আগে সরকারি মজুদ নেমে এসেছে ৫০ হাজার টনে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পণ্য না থাকলে বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করতে হয়। সরকারি চিনিকলে পর্যাপ্ত মজুদ না থাকায় চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের জন্য কঠিন হবে।’

যদিও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) পরিচালক (বাণিজ্যিক) আনোয়ার হোসেন এই মজুদকে যথেষ্ট বলে মনে করছেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘রোজা সামনে রেখে মজুদ থেকে এরই মধ্যে বাজারে বিক্রিও শুরু হয়েছে। বেসরকারি খাতের কোনো অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে চিনির দাম বাড়িয়ে বিক্রির চেষ্টা করলে সরকারি চিনি বেশি পরিমাণে ছাড়া হবে। এতে বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’

চলতি সপ্তাহে বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে এই ডালের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৬৫-৭০ টাকা। অর্থাৎ বড় দানার ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। ছোট দানার দেশি মসুর ডালের দামও কেজিতে পাঁচ-দশ টাকা বেড়ে এখন ১১০ টাকা কেজি। শুধু মসুর ডালের দাম নয়, প্রায় সব ধরনের ডালের দামই বেড়েছে চলতি সপ্তাহে। এর মধ্যে অ্যাংকর ডাল কেজিতে দুই-পাঁচ টাকা বেড়ে এখন ৪০-৫০ টাকা কেজি, মুগডাল কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ১০৫-১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। খোলা ময়দা এখন ৩৫-৩৮ টাকায় উঠেছে, আগে ৩৪-৩৬ টাকা ছিল। ভোজ্য তেলের দাম আগে থেকেই আকাশছোঁয়া।

লেবুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, বড় আকারের এক হালি লেবু কিনতে ভোক্তার পকেট থেকে ১০০ টাকার একটি আস্ত নোট চলে যাচ্ছে। জানুয়ারি মাসেও ৪০-৫০ টাকায় এক হালি লেবু পাওয়া যেত। ছোট আকারের লেবুর দাম তুলনামূলক কম, ৪০-৪৫ টাকা হলেও তাতে রস থাকছে সামান্যই।

বিক্রেতারা বলছেন, গরম ও উৎপাদন হ্রাসের সঙ্গে যোগ হয়েছে করোনার প্রভাব। এতে দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। লেবুর সবচেয়ে বেশি আবাদ হয় সিলেটের মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব অঞ্চলে কৃষক পর্যায়েও লেবুর দাম বেশি। ফেব্রুয়ারি মাসে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন বাজারে এক হালি লেবু বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা। এখন কিছুটা কমে ৫০-৬০ টাকায় এসেছে।

লেবুবাগান ব্যবস্থাপনাকারী শ্রীমঙ্গলের মাঝের ছড়া গ্রামের ফারুক মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন বাগানে পোক্ত লেবু তেমন নেই। রসবিহীন কচি কচি লেবু গতকাল প্রতিটি পাঁচ টাকা বিক্রি করেছি। মাসখানেক আগেও তা ১০ টাকা ছিল।’

শ্রীমঙ্গলের রাধানগরে বাগান মালিক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছরই লেবুর মূল্য সবচেয়ে বেশি পাচ্ছি। রোজায় দাম আরো ভালো থাকবে বলে আশা করছি।’



সাতদিনের সেরা