kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত

কুলসুমীর বদলে মিনুর কারাভোগ, হাইকোর্টের আদেশ ৫ এপ্রিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ এপ্রিল, ২০২১ ১৮:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুলসুমীর বদলে মিনুর কারাভোগ, হাইকোর্টের আদেশ ৫ এপ্রিল

হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কুলসুম আক্তার কুলসুমীর বদলে মিনুর কারাভোগের ঘটনায় আগামী ৫ এপ্রিল আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। এদিকে, যে বা যারা আইনজীবীর কাছ থেকে মামলার নথি নিয়ে গেছেন তাদের নাম-ঠিকানা এ সময়ের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহষ্পতিবার শুনানি শেষে আদেশের দিন ধার্য করেন। আদালতে মিনুর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী। আর নকল কুলসুমীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. ইকবাল হোসেন।

আজকের শুনানিতে ইকবাল হোসেন আদালতকে বলেন, চট্টগ্রাম থেকে আমার কাছে একটি মামলার ফাইল পাঠানো হয়। বলা হয়, একজন দরিদ্র মহিলা কারাগারে বন্দী। তারপক্ষে হাইকোর্টে মামলা করার মতো সংগতি নেই। গরিব মানুষ। এই বিবেচনায় মানবিক কারণে কুলসুমীর পক্ষে হাইকোর্টে আপিল করি। কিন্তু এর কিছুদিন পর আমার বিরুদ্ধে বার কাউন্সিলের একটি আবেদন দেয় কয়েকজন আইনজীবী। এরপর আমার কাছ থেকে কয়েকজন এসে জোর করে মামলার ফাইল নিয়ে যায়। এসময় আদালত এই আইনজীবীকে নির্দেশ দেন, যারা তার কাছ থেকে ফাইল নিয়ে গেছে তাদের নাম-ঠিকানা দাখিল করতে।

এর আগে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শোনেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী মিনুর মুক্তির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন. মিনু নিরাপরাধ। একজন নিরাপরাধ ব্যক্তি কারাগারে থাকতে পারে না। এসময় আদালত বলেন, নিরাপরাধ কি করে হয়। সেতো নিজে নিজেই গলা বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যের হয়ে সাজা খাটতে রাজি হয়ে আদালতে উপস্থিত হয়েছে। জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অভাবের তাড়নায় লোভে পড়ে সেটা এটা করেছে।

কুলসুমীর পরিবর্তে মিনুর কারাভোগের ঘটনা নজরে আসার পর মি,নু ও কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য শোনার পর চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন গত ২৪ মার্চ। এরপর ৩১ মার্চ বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। এ অবস্থায় আজ শুনানি হয়ে আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

জানা যায়, মোবাইল ফোন নিয়ে বিবাদের জেরে চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জ এলাকায় পোশাক কারখানার কর্মী কোহিনুর বেগম খুন হয় ২০০৬ সালের ৯ জুলাই। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর কুলসুমীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৯ সালের ১৮

ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পান কুলসুমী। পরবর্তীতে এ মামলায় বিচার শেষে ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর রায় দেয় চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত। রায়ে কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো একবছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ রায়ের পর মিনু টাকার বিনিময়ে কুলসুমী সেজে ২০১৮ সালের ১২ জুন চট্টগ্রাম আদালতে আত্মসমর্পন করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে মিনু কারাবন্দী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা