kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

বিশ্বায়নের এই কালে বাংলাদেশ

আবুল কাসেম ফজলুল হক   

১ এপ্রিল, ২০২১ ০৪:২০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



বিশ্বায়নের এই কালে বাংলাদেশ

বিশ্বায়নের এই কালে রাষ্ট্র গুরুত্ব হারিয়েছে। বাংলাদেশকে রাষ্ট্ররূপে গড়ে তোলার জন্য এখন আর চেষ্টা চালানোর দরকার নেই। এখন বিশ্ব নাগরিক হয়ে চলার মানসিকতা অর্জন করা দরকার। এই ধরনের কথা সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনগুলোর বিশিষ্ট নাগরিকদের থেকে প্রচার করা হয়। সুশাসনের কথা বলা হয়; কিন্তু সুশাসনের পূর্বশর্ত উন্নত চরিত্রের রাজনৈতিক দল ও সরকার গঠনের কথা বলা হয় না। আমার মনে হয়, বিশ্বায়নের কারণে জাতিরাষ্ট্র ও জাতীয় সংস্কৃতি বিলুপ্ত হবে না। আন্তঃরাষ্ট্রিক সম্পর্ককে উন্নত করার জন্য বিশ্ব সরকার গঠিত হতে পারে। বিশ্ব সরকার হবে জাতিসংঘের মতোই। জাতিসংঘ হয়ে আছে বৃহৎ শক্তিবর্গের সংঘে। বিশ্ব সরকারকে জাতিরাষ্ট্রসমূহের সরকারগুলোর ঊর্ধ্বতন এক সরকার রূপে গড়ে তুলতে হবে। আন্তঃরাষ্ট্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ মীমাংসা করা, যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়তে না দেওয়া, যুদ্ধ লেগে গেলে তা থামানো ইত্যাদি হবে বিশ্ব সরকারের কাজ। কেবল বিশ্ব সরকারের কর্তৃত্বে একটি সেনাবাহিনী রেখে সব রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করা যাবে। যতই বিচার-বিবেচনা করা যাবে, ততই জাতিরাষ্ট্রের ও বিশ্ব সরকারের অপরিহার্যতা সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট হবে।

বাংলাদেশকে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্ররূপে গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য সুষ্ঠু রাষ্ট্রচিন্তা দরকার।

দেশ ও রাষ্ট্র এক নয়। দেশ প্রকৃতির সৃষ্টি, রাষ্ট্র মানুষের। দুর্লঙ্ঘ্য পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র, মরুভূমি ইত্যাদি দ্বারা পরিবেষ্টিত এক একটি বিশাল ভূ-ভাগ হলো এক একটি দেশ। দেশের বেলায় ভূখণ্ড, নদী-নালা, গাছপালা, প্রাকৃতিক পরিবেশ, আকাশ, বাতাস ইত্যাদির কথাই আগে আসে—মানুষের কথা আসে পরে। শিল্প বিপ্লব বিকশিত হওয়ার আগে প্রতিটি দেশই পরস্পরবিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। অখণ্ড দৈশিক সত্তা তখনো রূপ লাভ করেনি। তখন মানুষের বিচরণের পরিসর ছিল ক্ষুদ্র। পরে স্টিম ইঞ্জিন, মুদ্রণযন্ত্র, অটোমোবাইলস ও আনুষঙ্গিক নানা প্রযুক্তির বিকাশের ফলে মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগের ক্ষেত্র দেশব্যাপী বিস্তৃত হয়। তখন ক্রমে স্থানীয় অর্থনীতি থেকে আঞ্চলিক অর্থনীতি, আঞ্চলিক অর্থনীতি থেকে দৈশিক অর্থনীতি গড়ে ওঠে। পাশাপাশি জনগণের মনোজীবনেও আনুষঙ্গিক পরিবর্তন দেখা দেয়—জনগণের সাংস্কৃতিক সত্তা দেশব্যাপী বিস্তৃত হয়। বিদ্যুতের আবিষ্কার ও বহু বিচিত্র ব্যবহার এতে নতুন মাত্রা যোগ করে। এর মধ্যে এক পর্যায়ে জনমনে দেশভিত্তিক ঐক্যবোধ বা ঐক্যচেতনা দেখা দেয়। দেশভিত্তিক এই ঐক্যবোধ বা ঐক্যচেতনাকেই বলা হয় জাতীয়তাবোধ বা জাতীয় চেতনা। জাতীয়তাবোধ বা জাতীয় চেতনাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীই জাতি (nation) । ক্রমে জাতির মধ্যে রাষ্ট্র গঠনের অন্তরগরব দেখা দেয়। প্রত্যেক জাতির জনগণ স্বতন্ত্রভাবে অনুভব করে—‘আমরা যদি আমাদের দেশে আমাদের জন্য একটি ভালো রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারি, তাহলে সেই রাষ্ট্রে আমাদের সর্বোত্কৃষ্ট জীবন সম্ভব হবে।’ তাতে দেখা দেয় রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা—গড়ে ওঠে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক আন্দোলন, জাতীয়তাবোধ উন্নীত হয় জাতীয়তাবাদে এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিরাষ্ট্র।

জাতিরাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়া পৃথিবীর সর্বত্র এক রকম ছিল না। ইউরোপের ভূভাগে ফিউডাল লর্ডস, গির্জা কর্তৃপক্ষ ও রাজশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে বিকশিত হয় জাতীয়তাবাদ এবং প্রতিষ্ঠা করা হয় জাতিরাষ্ট্র। এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকার উপনিবেশ দেশসমূহে ইউরোপীয় উপনিবেশকারী শক্তিসমূহের ও তাদের স্থানীয় সহযোগীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে বিকশিত হয় জাতীয়তাবাদ এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতৃত্বে স্বাধীনতাসংগ্রামের মধ্য দিয়ে কায়েম হয় জাতিরাষ্ট্র। বিভিন্ন ভূভাগে জাতি ও রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় নানা রকম ব্যতিক্রম ও বিকার-বিকৃতিও আছে।

রাষ্ট্র মানুষের উদ্ভাবন, মানুষের সৃষ্টি। রাষ্ট্রের গঠন ও প্রকৃতি বইতে যে রকম বর্ণনা করা হয়, বাস্তবে তা হুবহু সে রকম থাকে না, নানা দিক দিয়ে কমবেশি ভিন্নতা থাকে।

প্রকৃতি বৈচিত্র্যময়, প্রতিটি দেশও বৈচিত্র্যপূর্ণ। প্রতিটি দেশেই আছে আঞ্চলিক বৈচিত্র্য, জাতির সঙ্গে থাকে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী, নানা ধর্ম, নানা ভাষা—বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বিভিন্নতা। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য কিংবা বহুত্বের মধ্যে ঐক্য—এই নীতি অবলম্বন করে জাতিরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যাবলির সমাধান করতে হয়। বাস্তবতা এমন যে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীগুলো নিজেদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠন করতে পারে না। পার্শ্ববর্তী বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে তাদের রাষ্ট্র গঠন করতে হয়। রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য শক্তি দরকার হয়। ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীসমূহ সেই শক্তির অধিকারী নয়। সে জন্যই দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে তাদের রাষ্ট্র গঠন করতে হয়। বাস্তব অবস্থা এমন যে কোনো রাষ্ট্র নিতান্ত দুর্বল হলে তার পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব হয় না। জাতির (nation) কিংবা রাষ্ট্রের অন্তর্গত বৈচিত্র্য ও ঐক্য দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী কখনো বৈচিত্র্যে, আবার কখনো ঐক্যে বেশি জোর দিতে হয়। রাষ্ট্রের অন্তর্গত ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীসমূহ যদি অতি মাত্রায় স্বাতন্ত্র্যপ্রবণ হয় এবং সমঝোতার নীতি গ্রহণ না করে, তাহলে জাতীয় ঐক্য নষ্ট হয়। রাষ্ট্রের অন্তর্গত বৃহৎ জনগোষ্ঠী যদি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীসমূহের প্রতি অন্যায় আচরণ করে আধিপত্যমূলক ও শোষণমূলক নীতি গ্রহণ করে, তাহলে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়। জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হলে রাষ্ট্র দুর্বল হয় এবং তাতে রাষ্ট্রের অন্তর্গত সবারই ক্ষতি হয়। আজকাল বহুত্ববাদের কথা বলে প্রবল রাষ্ট্রসমূহের পক্ষ থেকে দুর্বল রাষ্ট্রসমূহে যে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, তাতে দুর্বল রাষ্ট্রগুলোতে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হচ্ছে এবং সেগুলো আরো দুর্বল ও অকার্যকর হচ্ছে।

জাতীয়তাবাদী আন্দোলন বিকশিত হয় গণতন্ত্র কিংবা সমাজতন্ত্র অবলম্বন করে। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ইত্যাদি হলো রাষ্ট্র গঠনের আদর্শ। রাষ্ট্র গঠনের আদর্শের অবলম্বন ছাড়া শুধু জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মাধ্যমে জাতিরাষ্ট্র গঠিত হলে সেই রাষ্ট্র অচিরেই বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে যায়। রাষ্ট্রের উদ্ভব ও বিকাশের রূপ ও প্রকৃতির বিবর্তনের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। কোনো জনগোষ্ঠীর জীবনে রাষ্ট্র হঠাৎ গড়ে ওঠা কোনো ব্যাপার নয়, বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া ব্যাপারও নয়। কোনো জনগোষ্ঠীর অগ্রগতির বিশেষ অবস্থায় সম্মিলিত জীবনধারার প্রয়োজনে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্র গঠনের তাগিদ দেখা দিয়েছে এবং সেই তাগিদের সুযোগ নিয়ে মানুষই রাষ্ট্র গড়ে তুলেছে। রাষ্ট্র সমাজপ্রবাহের এক ঐতিহাসিক অভিব্যক্তি। রাষ্ট্রের অন্তর্গত জনগণের মধ্যে সব সময়ই দেখা গেছে নানা বিরোধ। এক রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের দিক থেকে বিরোধের মুখোমুখি হয়েছে। তবু জনগণ নিজেদের প্রয়োজনে নিজেদের রাষ্ট্রকে রক্ষা করেছে, বিকশিত করেছে, উন্নত করতে চেয়েছে। যে জনগণ নিজেদের রাষ্ট্র গঠনে যত যত্নবান থেকেছে ও কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছে, সেই জনগণ তত উন্নতি করেছে। আজকের পৃথিবীতেও যে জনগণ নিজেদের রাষ্ট্রকে যত সুগঠিত করেছে, অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃরাষ্ট্রিক সম্পর্কের দিক দিয়ে যত সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে, সেই জনগণ শক্তি-সামর্থ্যে, উৎপাদনে, সৃষ্টিতে ও সমৃদ্ধ জীবন যাপনে তত সফল হয়েছে।

জাতিরাষ্ট্রের আগের পর্যায়ে যে রাজতান্ত্রিক-আমলাতান্ত্রিক-জমিদারতান্ত্রিক-ধর্মকেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ছিল, তার কথায় আমরা যাচ্ছি না। জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ও উত্তরকালের ঘটনাপ্রবাহই আমাদের আলোচ্য। বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের ভাবুক ও কর্মীদের এসব বিষয়ে গভীর জ্ঞান দরকার। নিজেদেরকে নিজেদের চিন্তার ও কাজের লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগোতে হবে। উন্নত অবস্থায় উত্তীর্ণ হতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই। রাজনীতির উন্নতির সম্ভাবনা আছে। আর আমাদের সাধনা ও সংগ্রামের ইতিহাসও আছে। জাতির গোটা ইতিহাসের চর্চা দরকার।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনগণ প্রতিনিধিত্বমূলক আইনসভা বা জাতীয় সংগঠন গঠন করে। জাতীয় সংসদের সদস্যদের থেকে গঠিত হয় সরকার। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পদ্ধতিতে রকমফের আছে। তবে সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই সরকার জনপ্রতিনিধিত্বমূলক। জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক দল লাগে। রাজনৈতিক দলও আধুনিক রাষ্ট্রের একটি অপরিহার্য গঠনকর উপাদান। বাংলাদেশে উন্নত চরিত্রের রাজনৈতিক দল গঠনের কোনো চিন্তা ও চেষ্টা খুঁজে পাওয়া যায় না। গণতন্ত্রের ধারণাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনে। মুক্তবাজার অর্থনীতি, অবাধ প্রতিযোগিতা ও বহুত্ববাদ বলে যে ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, তা সমাজের বড়জোর ৫ শতাংশ মানুষের গণতন্ত্র। ৯৫ শতাংশ মানুষের জন্য তা গণতন্ত্র নয়। সর্বজনীন গণতন্ত্র নিয়ে নতুন চিন্তা-ভাবনা দরকার। বৃহৎ শক্তিবর্গের, বিশ্বব্যাংকের ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের প্রচার অনুযায়ী চললে তার ফল ভালো হয় না। নিজেদের জন্য নিজেদের বিবেচনা দরকার। প্রয়োজনীয় জ্ঞানও আমাদের অর্জন করতে হবে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনগণের জন্য ভালো কিছুই হয় না।

গণতন্ত্রের জন্য সর্বজনীন কল্যাণের কথা ভাবতে হবে। সর্বজনীন কল্যাণে গণতন্ত্রের রূপ ও প্রকৃতিকে নবায়িত করতে হবে। সর্বজনীন গণতন্ত্রের জন্য দলভিত্তিক আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বে সরকার গঠনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই নতুন ব্যবস্থাকে আমাদের উদ্ভাবন করে নিতে হবে। বাইরের উদাহরণ আমাদের চিন্তার বিকাশের সহায়ক হবে। তবে বাইরের কোনো দৃষ্টান্তকে অন্ধভাবে অনুসরণ করলে হবে না। বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে উপলব্ধি করে বর্তমান বাস্তবতা বিচার করে অগ্রসর হতে হবে। বাংলাদেশে দলভিত্তিক আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের সরকার গঠনের কথা ১৯৮০-র দশক থেকেই কেউ কেউ বলে এসেছেন। কিন্তু যাঁরা এই ধারণা প্রচার করেছেন তাঁদের সংখ্যা বাড়ছে না। এ ধারার প্রতি সমর্থন দেখা যাচ্ছে না। আসলে বাংলাদেশে চিন্তার চর্চাই এখন নিতান্ত কম। উন্নতির দিকে যেতে হলে সেই লক্ষ্যে চিন্তা দরকার। আর জনগণেরও নিদ্রা থেকে জাগতে হবে, কর্তব্য-অকর্তব্য নিয়ে ভাবতে হবে। কেবল হুজুগে চললে এবং ভাঁওতায় ভুললে হবে না।

বাংলাদেশে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ধারায় চলার, বিশ্বব্যাংকের নির্দেশ অবলম্বন করে চলার ধারা প্রবল। গোটা শাসকশ্রেণি সেই ধারাকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে চলছে। এ কথা অবশ্যই ঠিক যে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে। অত্যুন্নত নতুন প্রযুক্তির কল্যাণে এবং শ্রমিক-কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমের ফলে অর্থনৈতিক উন্নতি ও বৈষয়িক সম্পদ বৃদ্ধি সম্ভব হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় সরকারেরও ভূমিকা আছে। কিন্তু রাজনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশ পতনশীল অবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে। বাংলাদেশকে এখন রাজনৈতিক উন্নতির দিকে মনোযোগী হয়ে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি কমাতে হবে, ন্যায়নীতি বাড়াতে হবে। দুনিয়াজুড়ে চলছে মানুষের অমানবিকীকরণের প্রক্রিয়া। সাধারণভাবে মানুষের মানবীয় গুণাবলি কমছে। এই বাস্তবতার পরিবর্তন দরকার। রাজনৈতিক দল গঠনের, জাতি ও রাষ্ট্র গঠনের, আন্তঃরাষ্ট্রিক সম্পর্ককে উন্নত করার দিকে যদি সবার মনোযোগ দেখা দেয়, জনগণ ঘুম থেকে জেগে ওঠে, তাহলে আমাদের কাম্য সর্বমাত্রিক উন্নতির ধারা গড়ে উঠবে। রাজনীতিবিদদের ও বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকার উন্নতি দরকার।

লেখক : প্রগতিপ্রয়াসী চিন্তাবিদ, আহমদ শরীফ চেয়ার অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা