kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জালিয়াতি মামলায় নাজিমের জামিন আবেদন খারিজ

ছয় মাসের মধ্যে মামলায় তদন্ত শেষ করতে দুদককে হাইকোর্টের নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক   

৩০ মার্চ, ২০২১ ১৮:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জালিয়াতি মামলায় নাজিমের জামিন আবেদন খারিজ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গণভবনের কর্মকর্তা মো. নাজিম উদ্দিনের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটির তদন্ত কার্যক্রম ৬ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে দুদককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার এ আদেশ দেন।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জালিয়াতির অভিযোগে গতবছর ৫ মে তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়। এ মামলায় তদন্ত শেষে গতবছর ২২ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম মমিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রভুক্ত অপর আসামিরা হলেন-প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মচারি ফাতেমা খাতুন, মো. নাজিম উদ্দিন, রুবেল, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফরহাদ হোসেন ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সাবেক কোষাধ্যক্ষ এয়ার কমোডর (অব.) এম আব্দুস সালাম আজাদ। এরপর ওই বছরের ৭ মে নাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ছাড়াও মামলায় আরো চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এয়ার কমোডর (অব.) এম আব্দুস সালাম আজাদ পলাতক রয়েছেন।

এ মামলায় গতবছর ২২ জুন ঢাকার একটি আদালত নাজিম উদ্দিনের জামিন আবেদন খারিজ করে। এরপর ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন নাজিম উদ্দিন। এ আবেদনের ওপর গত ১৮ জানুয়ারি শুনানি নিয়ে তার জামিন আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করেন হাইকোর্ট।

জানা যায়, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত গত বছর ৮ ডিসেম্বর এক আদেশে মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর দুদক তদন্ত শুরু করে। 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ পদে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সাবেক কোষাধ্যক্ষ এয়ার কমোডর (অব.) এম আবদুস সালাম আজাদের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এই নথি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করার পর তিনি অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে ‘টিক’ চিহ্ন দেন। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নথিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর প্রস্তুতির সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমার কাছে ফাইল গেলে তিনি এই গোপনীয় তথ্য ফোনে ছাত্রলীগ নেতা তরিকুলকে জানিয়ে দেন। এরপর গতবছর পহেলা মার্চ নথিটি কৌশলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বের করে ফরহাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে ‘টিক’ চিহ্ন টেম্পারিং করে ক্রস চিহ্ন দেয়। এছাড়া অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফের নামের পাশেও ক্রস চিহ্ন দেওয়া হয় এবং আবদুস সালাম আজাদের নামের পাশে টিক চিহ্ন দিয়ে তা গতবছর ৩ মার্চ রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হয়। এ অবস্থায় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা