kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

অনলাইন মতবিনিময় সভায় দেশী-বিদেশী সংস্থার প্রতিনিধিরা

‘নারীর শান্তি ও নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ মার্চ, ২০২১ ১৯:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘নারীর শান্তি ও নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান’

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার আলোকে বাংলাদেশ সরকার প্রণীত নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন দেশী-বিদেশী সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা এ কাজে স্থানীয় সরকার ও নাগরিক সংগঠনকে যুক্ত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। একইসঙ্গে নারীকে সাইবার সন্ত্রাস ও উগ্রবাদী আগ্রাসন থেকে রক্ষা এবং ধর্মীয় গোষ্ঠির নারী বিরোধী প্রচারণা বন্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ রবিবার বিকেলে ইউএন উইমেন’র সহযোগিতায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) আয়োজিত অনলাইন মতবিনিময় সভায় এই আহ্বান জানান তারা। বিএনপিএস’র নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানবাধিকার ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট সানাইয়া ফাহিম আনসারী। বক্তৃতা করেন ইউএন ওমেনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি শোকো ইশাকাওয়া, জাপান এ্যাম্বাসীর সেকেন্ড সেক্রেটারী কাজুমী সিরাহাতা, প্রফেসর ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, জেণ্ডার বিশেষজ্ঞ শিপা হাফিজা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. আইনুন নাহার, বিআইডিএস সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ, আদিবাসী নেত্রী চঞ্চনা চাকমা, উন্নয়ন কর্মী আলিফ আজিজ, সমাপিকা হালদার, সারথী সাহা , জেসমীন মলি প্রমুখ।

জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে বাংলাদেশে অগ্রগতি ইতিবাচক উল্লেখ করে ইউএন উইমেন প্রতিনিধি শোকো ইশাকাওয়া বলেন, প্রকৃতি ও মানব সৃষ্ট দূর্যোগে নারীর সুরক্ষার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রণীত কর্মপরিকল্পনা আলোকে বাংলাদেশে জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে যে কোন দূর্যোগ পরিস্থিতিতে নারী ইস্যুগুলো গুরুত্ব পাবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জাপান এ্যাম্বাসীর সেকেন্ড সেক্রেটারী কাজুমী সিরাহাতা বলেন, জাপান সরকার যেমন নিজের দেশের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় পরিকল্পনা করেছে, তেমনি বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহায়তা করছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবীর বলেন, পৃথিবীব্যাপী নানা ধরনের সহিংসতা বাড়ছে। মানুষ কোথাও জাতিগত সহিংসতার শিকার হচ্ছে, কোথাও ধর্মীয় সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এই সহিংসতার কারণে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে নারী ও শিশু। তিনি আরো বলেন, আমরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নারীর প্রতি সহিংসতা দেখেছি। এই করোনাকালেও ঘরে-বাইরে নারীরা নির্যাতন ও বাল্য বিয়ের শিকার হচ্ছেন। এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরী।

ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, একটি সহিংসতামুক্ত সমাজ ও পৃথিবী গড়তে নারীরাও বিভিন্নভাবে ভূমিকা রেখে চলেছেন। আমাদের দেশে উন্নয়ন কার্যক্রম অনেকাংশে নারী বান্ধব নয় বরং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দ্বন্দ্ব সংঘাত তৈরি করছে। যার শিকার হচ্ছে নারীরা। এবিষয়ে সকলকে সচেতন হতে হবে।

সভায় বক্তারা জাতিসংঘের নির্দেশনার আলোকে যৌন নির্যাতন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা থেকে সুরক্ষা, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাসহ সকল ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নারীকে যথাযথ সম্মান প্রদান এবং সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্থ নারী ও শিশুর পুনবার্সনের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা