kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

যেভাবে দেশজুড়ে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা

আজিজুল পারভেজ   

২৬ মার্চ, ২০২১ ০২:১৪ | পড়া যাবে ৮ মিনিটে



যেভাবে দেশজুড়ে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা

২৫ মার্চ কালরাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরুর পর মধ্যরাতে গ্রেপ্তারের আগে, ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঘোষণাটি বঙ্গবন্ধুর বাসভবন থেকে প্রথমে টেলিফোনে বিভিন্ন নেতা ও সূত্রের কাছে পাঠানো হয়। ইপিআরের (পরে বিডিআর, বর্তমানে বিজিবি) ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে চট্টগ্রামে পাঠানো হয় সারা দেশে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। একই সঙ্গে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয় মগবাজার ভিএইচএফ অয়্যারলেস স্টেশনে। সব জায়গায় বার্তা পাঠিয়ে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণাটি দ্রুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ দেশে-বিদেশে পৌঁছে দিতে বলা হয়। বিভিন্ন ওয়্যারলেস স্টেশনের বাঙালি দেশপ্রেমিক কর্মীরা বার্তাটি ছড়িয়ে দেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে তখন পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে বহির্বিশ্বের টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল। একমাত্র ওয়্যারলেস শিপিং চ্যানেলের মাধ্যমে সমুদ্রে জাহাজগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ ছিল। ট্রান্সমিটারের মাধ্যমেও বার্তাটি ঢাকা থেকে প্রচার করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বার্তাটি ছিল ইংরেজিতে লেখা। বাংলা করে যে বার্তাটি বিভিন্নভাবে প্রচার করা হয়, তার রূপ ছিল এ রকম—‘মাতৃভূমিকে রক্ষা করো। আল্লাহ সহায় হোন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিতে পিলখানা ইপিআর ঘাঁটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন আক্রমণ করেছে এবং শহরের লোকদের হত্যা করছে। ঢাকা, চট্টগ্রামের রাস্তায় যুদ্ধ চলছে। আমি বিশ্বের জাতিসমূহের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবেদন ও আদেশ, দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। আপনাদের পাশে এসে যুদ্ধ করার জন্য পুলিশ, ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও আনসারদের সাহায্য চান। কোনো আপস নাই, জয় আমাদের, পবিত্র মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্রুকে বিতাড়িত করুন। সকল আওয়ামী লীগ নেতা, কর্মী এবং অন্যান্য দেশপ্রেমিক ও স্বাধীনতাপ্রিয় লোকদের এ সংবাদ পৌঁছে দিন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন। জয় বাংলা।’—শেখ মুজিবুর রহমান।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানার সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগের একজন প্রবীণ কর্মী হাজি মোহাম্মদ মোরশেদ ২৫ মার্চ রাতে টেলিফোনে সর্বত্র বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠান। পরে সে রাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে মোরশেদকেও গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়।

চট্টগ্রামে পৌঁছানো বার্তা ছড়ায় সারা বিশ্বে

ঐতিহাসিক বার্তাটি রাতের মধ্যেই পৌঁছে যায় চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম সংগ্রাম পরিষদের নেতা জহুর আহমদ চৌধুরীর বাসার ৮০৭৮৫ নম্বরে ২৫ মার্চ রাতে একটি কল আসে। ফোনটি ধরেন তাঁর স্ত্রী, মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ডা. নুরুন্নাহার জহুর। তিনি বার্তাটি রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডর ছলিমপুর আন্তর্জাতিক মেরিটাইম ওয়্যারলেস স্টেশনের কোস্টাল অপারেশনাল বিভাগের কর্মীদের কাছে পৌঁছে দেন। বার্তাটি লিখে নেন টেলিফোন রেডিও টেকনিশিয়ান জালাল আহমেদ।

রাতের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটির হাতে লেখা কপি চট্টগ্রাম সিটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, নেতা জহুর আহমদ চৌধুরী, এম আর সিদ্দিকীসহ কয়েকজনের কাছে পৌঁছে বলে এম এ হান্নান জানিয়েছেন গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হককে। জহুর আহমদ চৌধুরীর বাসায় আসা বার্তাটি ওই রাতেই হাজারি গলির বিনোদা ভবনে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নিয়ে বাংলায় অনুবাদ করে সাইক্লোস্টাইল মেশিনে কপি করে কর্মীদের কাছে পৌঁছানো হয় বলেও তিনি জানান। পরে আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরীর পাথরঘাটার বাসার সাইক্লোস্টাইল মেশিনেও বার্তাটি কপি করে বিলিয়ে দেওয়া হয়।

ছলিমপুর আন্তর্জাতিক মেরিটাইম ওয়্যারলেস স্টেশনের কর্মীরা বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা সমুদ্রে অবস্থিত বিদেশি জাহাজ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নামে কলকাতা বেতারের উদ্দেশে পাঠিয়ে দেন, যা ২৬ মার্চ সকাল ৭টা-৮টার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন স্থান, এমনকি বহির্বিশ্বে।

ছলিমপুর ওয়্যারলেস স্টেশনের কর্মী আবদুল কাদের গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, সকাল প্রায় সাড়ে ৬টা-৭টার দিকে বার্তাটি ইন্ডিয়ান জাহাজ ‘ভিভি গিরি’, অন্য বিদেশি জাহাজ ‘সালভিটা’, ইউনাইটেড নেশনের জাহাজ ‘মিনি লা-ট্রিয়া’সহ বেশ কয়েকটি জাহাজে ডুপ্লেক্স চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন। সকাল ৯টায় ভারতের বেতার আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্র থেকে সংবাদ প্রচার করা হয়, ঢাকা ও অন্যান্য অঞ্চলে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে।

২৬ মার্চ ভোরের মধ্যে হাতে পেয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত বাঙালি কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা প্রচার শুরু করেন। কেউ মাইকযোগে তা প্রচার করেন, কেউ সাইক্লোস্টাইল করে ছড়িয়ে দেন। ২৬ মার্চ সকালে পটিয়ার ইন্দ্রপুল এলাকায় বিলি হওয়া একটি কাগজ পেয়েছিলেন বলে জানান পটিয়ার বাসিন্দা, ‘ইতিহাসের খসড়া’ পত্রিকার সম্পাদক মুহাম্মদ শামসুল হক। তিনি জানান, তখন তাঁর বয়স ছিল ১৫ বছর।

সকাল ১০টায় নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মালেক উকিল বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার তারবার্তা জনসমাবেশে পাঠ করেন। পৌনে ২টার সময় চট্টগ্রামের কালুরঘাট ট্রান্সমিটার থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান। সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে এই ঘোষণা আবার প্রচার করেন আবুল কাশেম সন্দ্বীপ। ২৭ মার্চ ঘোষণটি পাঠ করেন মেজর জিয়াউর রহমান। 

চট্টগ্রাম থেকে জাহাজের মাধ্যমে পাঠানো বার্তার ভিত্তিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পৌঁছে যায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। ২৭ মার্চ নয়াদিল্লি থেকে প্রকাশিত দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকায় বলা হয়, ২৬ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান দুটি বার্তা সম্প্রচার করেছেন। একটি অজ্ঞাত রেডিও স্টেশন থেকে বিশ্বের কাছে পাঠানো এক বার্তায় আওয়ামী লীগ নেতা (শেখ মুজিব) ঘোষণা দিয়েছেন যে ‘শত্রু’ আঘাত হেনেছে এবং জনগণ বীরের মতো লড়াই করছে। বার্তাটি কলকাতা থেকে শোনা হয়েছে। রেডিও স্টেশনটি নিজেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছে। শিলং থেকে শোনা স্টেশনটির পরবর্তী সম্প্রচারে শেখ মুজিব বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেছেন। ২৭ মার্চ মুম্বাই থেকে প্রকাশিত দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়াও ওই সম্প্রচার থেকে পাওয়া বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করে।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল সকাল ১০টায় গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে বলেন, ‘...তারা অতর্কিতে ২৫ মার্চ তারিখে আমাদের আক্রমণ করল। তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে আমাদের শেষ সংগ্রাম শুরু হয়ে গেছে। আমি অয়্যারলেসে চট্টগ্রামে জানালাম, বাংলাদেশ আজ থেকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র।’

১৯৭৪ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক বাংলার তৃতীয় পৃষ্ঠায় ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের ঘোষণাপত্র’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা জহুর আহমদ চৌধুরীর কাছে স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু করার নির্দেশ পাঠান। জনাব চৌধুরী চট্টগ্রামের কাছে বঙ্গোপসাগরে নোঙর করা জাহাজের সাহায্যে টেকনাফ থেকে দিনাজপুর পর্যন্ত সারা বাংলাদেশে ও কয়েকটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশকে বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণার কথা জানিয়ে দেন।’ ছলিমপুর ওয়্যারলেস স্টেশনের কর্মীরা ১৯৭২ সালে ঢাকায় এসে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

মগবাজার ওয়্যারলেস স্টেশন থেকে ছাড়াল বার্তা

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার লিখিত একটি কপি ২৬ মার্চ রাত সাড়ে ৪টা-৫টার দিকে মগবাজার ভিএইচএফ (ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি) ওয়্যারলেস স্টেশনে পৌঁছে যায়। এটি গ্রহণ করেছিলেন সহকারী প্রকৌশলী মো. আবদুল কাইউম ও ইঞ্জিনিয়ার সুপারভাইজার মেজবাহ উদ্দিন। তাঁরা বার্তাটি সকালেই চট্টগ্রামের ছলিমপুর স্টেশনসহ দেশের বিভিন্ন ওয়্যারলেস স্টেশনে পাঠিয়ে দেন। আবদুল কাইউম গবেষককে দেওয়া সাক্ষৎকারে জানান, ভোররাতে সাদা ফুলস্কেপ কাগজে লেখা বার্তাটি তাঁদের কাছে আসে। একজন লোক সেটা পৌঁছে দিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি মেসেজ পাঠিয়েছেন। তখন মগবাজার ভিএইচএফ ওয়্যারলেস স্টেশনের সঙ্গে বাংলাদেশের সব গুরুত্বপূর্ণ অংশের যোগাযোগ ছিল। সকাল ৬টার দিকে ওয়্যারলেসযোগে পয়েন্ট টু পয়েন্ট, বিশেষ করে যেসব স্থানে ওয়্যারলেস স্টেশন চালু ছিল, সেসব জায়গায় বার্তাটি পাঠিয়ে দিই। 

পিলখানা থেকে ঘোষণা প্রচারকারী শহীদ হলেন

বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী টেলিফোনে ইপিআরের সদর দপ্তর পিলখানায় পৌঁছে দেওয়া হয় ৩২ নম্বর সড়কের বাড়ি থেকে, যা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেওয়া শুরু হলো।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সেলিনা পারভীন ওরফে রীতা গবেষককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা পিলখানা থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তাঁর বাবা পিলখানায় ইপিআর সিগন্যাল কোরের সুবেদার মেজর শওকত আলী। ওই রাতেই তাঁকে হত্যা করে পাকিস্তানিরা।

ট্রান্সমিটারে বার্তা প্রচার

বঙ্গবন্ধু প্রয়োজনীয় মুহূর্তে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের জন্য একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে ট্রান্সমিটার তৈরি করে রেখেছিলেন বলে আওয়ামী লীগের নেতা ও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। ঢাকা থেকে ট্রান্সমিটারের মাধ্যমেও বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার হয়েছিল বলে জানা যায়।

বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী হাজি মোরশেদ ৩২ নম্বর বাড়িতে ছিলেন বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হওয়ার সময় পর্যন্ত। ট্রান্সমিটারে বঙ্গবন্ধুর বার্তা প্রচার সম্পর্কে তিনি জানান, “...রাত ১১টা বেজে গেল, ১২টা প্রায় বাজে বাজে, এমন সময় একটা টেলিফোন আসল। বলে, ‘আমি বলধা গার্ডেন থেকে বলছি। মেসেজ পাঠানো হয়ে গিয়েছে, মেশিন নিয়ে কী করব?’ আমি মুজিব ভাইয়ের কাছে দৌড়ে গিয়ে তাঁর কথা বললাম। বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘মেশিনটা ভেঙে ফেলে পালিয়ে যেতে বল।’ আমি তাঁকে (বার্তা প্রেরক) সে কথা বললাম।”

পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক কমান্ডার টিক্কা খানের গণসংযোগ কর্মকর্তা সিদ্দিক সালিক তাঁর উইটনেস টু সারেন্ডার বইয়ে ট্রান্সমিটারে বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে রেকর্ড করা স্বাধীনতার ঘোষণা শুনেছেন বলে লিখেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা