kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

যুদ্ধাপরাধী বিচার ও ক্ষমা প্রার্থনার দাবিতে পাকিস্তান সরকারকে স্মারকলিপি

অনলাইন ডেস্ক   

২৫ মার্চ, ২০২১ ২১:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুদ্ধাপরাধী বিচার ও ক্ষমা প্রার্থনার দাবিতে পাকিস্তান সরকারকে স্মারকলিপি

বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার ৫০তম বার্ষিকীতে সেক্টর কমান্ডারস্ ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ আজ পাকিস্তান সরকারের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রেরণ করে। জাতীয় সংগঠনটি একই সঙ্গে সারাদেশে গণহত্যার শহীদদের স্মরণে প্রজ্জ্বলিত মোমবাতিসহ মিছিল করে। স্মারকলিপিতে বাংলাদেশের গণমানুষের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনী যে নির্বিচার নারীধর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তার কঠোর নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে ১৯৫ জন চিহ্নিত পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবি করা হয়।

স্মারকলিপিটি একই সঙ্গে জাতিসংঘের মহাসচিব, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন সহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সকল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেক্টর কমান্ডারস্ ফোরাম জানিয়েছে।

সংগঠনের চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) কে.এম. সফিউল্লাহ বীরউত্তম, মহাসচিব বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক হারুন হাবীব ও ফোরামের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাবেক রাষ্ট্রদূত কামালউদ্দিনের যৌথ স্মাক্ষরে প্রেরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে নির্বিচার গণহত্যার সকল সাক্ষপ্রমাণ ও দলিল থাকা সত্ত্বেও বিগত ৫০ বছরে পাকিস্তান অব্যাহতভাবে বিংশ শতাব্দির অন্যতম প্রধান ও নির্মম এই গণহত্যাকে অস্বীকার করে গেছে এবং ইতিহাসের সত্যকে বিকৃত এবং ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে। ঢাকার মাটিতে পাকিস্তান বাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পনের পর ৯৩,০০০ পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিকে ছাড়িয়ে নিতে ঘাতক বাহিনীর যে ১৯৫ জন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পাকিস্তান, সেটিও তারা আজও পর্যন্ত রক্ষা করেনি। অথচ বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানি সৈন্যদের নির্বিচার গণহত্যা ও নারী নির্যাতনের অসংখ্য উদাহরণ দেশে ও বিদেশে সংরক্ষিত আছে। এমন কি খোদ পাকিস্তানের সরকারি হামুদুর রহমান কমিশনের রিপোর্টেও সেই নিষ্ঠুরতার প্রমাণ উঠে এসেছে। পাকিস্তানের সেই কমিশনও দায়ি সৈন্যদের বিচারের সম্মুখিন করার পক্ষে জোর সুপারিশ করেছে।

স্মারক লিপিতে আরও বলা হয়েছে, পবিত্র ধর্মের নাম ব্যবহার করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরেরা মানবতার বিরুদ্ধে যে ঘৃন্য অপরাধ করেছে, তা বাংলাদেশের মানুষ কখনো ভুলতে পারেনা, কারণ তা বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অধিকন্তু পাকিস্তান আজও পর্যন্ত সেই ভয়ংকর অপরাধের জন্যে বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি, যদিও সে দেশেরই বিবেকবান অনেক মানুষ তাদের সরকারের কাছে এই ক্ষমা প্রার্থনার দাবি করে আসছেন।

পরিশেষে স্মারকলিপিতে আরও বলা হয় যে, পাকিস্তান সরকার যদি অবিলম্বে বাঙালি গণহত্যার দায় স্বীকার না করে, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে এবং বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা প্রার্থণা না করে তাহলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে এই বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কারণ আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ কখনো তামাদি হয়ে যায়না।



সাতদিনের সেরা