kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

জবানবন্দী প্রত্যাহারের আবেদন নিয়ে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত প্রকাশ

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৫ মার্চ, ২০২১ ২১:৪৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জবানবন্দী প্রত্যাহারের আবেদন নিয়ে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত প্রকাশ

দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ এক রায়ে বলেছেন, কোনো আসামির ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী স্বেচ্ছাপ্রনোদিত ও সত্য হলে ৩৪২ এর সময় নির্দোষ দাবি করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রত্যাহারের আবেদন আইনের চোখে গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের এ আবেদন আইনের দৃষ্টিতে মূল্যহীন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ১৬ বছর আগে ২০০৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কামরাঙ্গীরচর থানায় করা সকিনা বেগম ও সোহেল হত্যা মামলায় এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আপিল বিভাগ। সকিনা বেগম ও সোহেল হত্যা মামলায় দুই আসামির ফাঁসির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে গতবছর ২১ অক্টোবর দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। আপিল বিভাগের ২৬ পৃষ্ঠার এ রায় সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ওয়েব সাইটে প্রকাশিত হয়েছে। মূল রায়টি লিখেছেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। প্রধান বিচারপতিসহ বেঞ্চের অপর তিন বিচারপতি তা সমর্থন করেছেন।

আপিল বিভাগ রায়ে বলেছেন, এটা প্রতিষ্ঠিত নীতি যে, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী স্বেচ্ছাপ্রনোদিত ও সত্য হলে সাজা দেওয়ার জন্য অন্য কোনো সমর্থক সাক্ষ্যপ্রমানের প্রয়োজন নেই। এই মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী কোনো সাক্ষী নেই। এখানে সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে একমাত্র ভিত্তি হলো আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী। এ মামলায় দুই আসামি যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে তা স্বেচ্ছাপ্রনোদিত ও সত্য। একারণে হাইকোর্ট সঠিকভাবেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আদালত বলেন, এই মামলায় স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদানকারী আসামিরা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় বক্তব্য দেওয়ার সময় নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করেছে। তারা বলেছেন যে, পুলিশ ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে বাধ্য করেছে। তারা নির্দোষ। আদালত বলেন, কিন্তু স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দী দেওয়ার সময় তারা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পুলিশের বিরুদ্ধে এ ধরণের কোনো অভিযোগ করেননি। সুতরাং তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী স্বেচ্ছাপ্রনোদিত ও সত্য বলেই প্রতিয়মান হয়। তাই ৩৪২ এর সময় নির্দোষ দাবি করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রত্যাহারের আবেদন আইনের চোখে গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের এ আবেদন আইনের দৃষ্টিতে মূল্যহীন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, মা সখিনা বেগম ও ছেলে সোহেলকে হত্যার অভিযোগে শেফালী বেগম ২০০৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি থানায় আফসার আলী শেখসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলায় পুলিশ মো. আফসার আলী

শেখকে গ্রেপ্তার করে। আফসার আলী শেখের তথ্যের ভিত্তিতে মো. আব্দুল মান্নান, নুর আলম, মো. আবুল হোসেন ও মাইকেল ফারুককে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে আফসার ও মান্নান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। পুলিশ তদন্ত শেষে ওইবছরের ১৯ এপ্রিল ৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। এ মামলায় বিচার শেষে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০০৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি এক রায়ে ৫ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেয়। এরপর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয়। আর কারাবন্দী আসামিরা আপিল করেন। উভয় আবেদনের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদানকারী আফসার শেখ ও আব্দুল মান্নানের মৃত্যুদণ্ড বহাল আর অন্য তিন আসামিকে খালাস দিয়ে ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর রায় দেন। এ রায়ের পর আফসার শেখ ও আব্দুল মান্নান আপিল বিভাগে ২০১২ সালে আপিল করেন। তাদের আপিলের ওপর শুনানি শেষে গতবছর ২১ অক্টোবর রায় দেন আপিল বিভাগ। রায়ে দুই আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে বলা হয়, যেহেতু আসামিরা কনডেম সেলে ১৪ বছর ধরে মৃত্যু যন্ত্রনা ভোগ করছে। তাই তাদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলো। তবে এর পূর্নাঙ্গ রায় সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।



সাতদিনের সেরা