kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

প্রকৃত আসামির পরিবর্তে নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

হাইকোর্টে ক্ষমা চাইলেন সন্দীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ মার্চ, ২০২১ ১৯:১০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হাইকোর্টে ক্ষমা চাইলেন সন্দীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তা

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এক মামলায় প্রকৃত আসামিকে না ধরে আসামির নামের প্রথম শব্দের সঙ্গে মিল থাকা নিরপরাধ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সন্দীপ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। আর ওই ঘটনায় হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হাইকোর্টের মৌখিক নির্দেশ অমান্য করায় বৃহষ্পতিবার হাইকোর্টে সশরীরে হাজির হয়ে আদালতের কাছে ক্ষমা চাইলেন সন্দীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) বশির আহমেদ খান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন। আদালত তাদের পরবর্তী তারিখে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তবে মামলাটিতে আগামী ২৯ মার্চ পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। নিরাপরাধ দাবি করে কারাবন্দী শায়াত উল্লাহ সাগর নামের এক যুবকের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন আদালত। আদালতে পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ। জামিন আবেদনকারীপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে গতবছর ৮ অক্টোবর তিন যুবক শাফায়াত, মুসলিম হোসেন শরীফ ও মিজানুর রহমান রবিনকে গ্রেপ্তার করে সন্দ্বীপ থানা পুলিশ। এরপর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল উদ্দিন বাদী হয়ে সন্দ্বীপ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।

অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির দাবি করেন, যে ফেসবুক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি করে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে তার নাম শাফায়াত আইয়ান। আর পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে শাফায়াত উল্লাহ সাগরকে। পুলিশ আইয়ান হিসেবেই সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্ট্যাটাসের সঙ্গে সাগরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একারণে সাগরের জামিনের জন্য গত ৯ মার্চ হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। এ আবেদনের ওপর গত ১৫ মার্চ হাইকোর্টে শুনানি হয়। শুনানিকালে আদালত নিরাপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ ও মামলার তদন্তের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সন্দীপ থানার ওসি এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন। তাদের ২২ মার্চ হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়। এ আদেশের পর সংশ্লিস্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ সন্দীপ থানার ওসির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি আদালতের আদেশের কথা জানান। কিন্তু ওসি বলেন যে, তিনি মৌখিক আদেশে হাজির হতে পারবেন না। লিখিত আদেশ লাগবে। ওসির এই বক্তব্য গত ২২ মার্চ হাইকোর্টকে অবহিত করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল

সাইফুদ্দিন খালেদ। এরপর আদালত লিখিত আদেশ দিয়ে ২৫ মার্চ তাদের হাজির হতে নির্দেশ দেন। লিখিত আদেশ পাবার পর নির্ধারিত দিনে সশরীরে হাইকোর্টে হাজির হন সংশ্লিস্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তা। তারা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। এসময় তাদের মৌখিক আদেশে হাজির না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন। আদালত তাদের আবেদন গ্রহণ করে পরবর্তী তারিখে হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন। আর আসামিকে গ্রেপ্তার ও তদন্তের বিষয়ে পুলিশ প্রতিবেদন ও ফেসবুক আইডির ফরেনসিক প্রতিবেদন দাখিল করেন।

অ্যাডভোকেট শিশির মনির আরো জানান, পুলিশ দাবি করছে যাকে গ্রেপ্তার করার হয়েছে তারই ফেবসবুক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটুক্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ যে ফরেনসিক প্রতিবেদন দিয়েছে তার একটি কপি রাষ্ট্রপক্ষ থেকে পেয়েছি। তাতে বলা হয়েছে, ‘ফেসবুক আইডি অ্যাকটিভ না পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক প্রেরিত স্ক্রিন শর্ট পোস্ট সম্পর্কে মতামত দেওয়া গেলো না।’ এ অবস্থায় আদালত আগামী ২৯ মার্চ শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ সাংবাদিকদের জানান, মৌখিক আদেশে হাজির না হওয়ায়, আজ (বৃহষ্পতিবার) এসে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আদালত তাদের ক্ষমা করে অব্যাহতি দিয়েছেন। আদালত আগামী ২৯ মার্চ পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।



সাতদিনের সেরা