kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

হত্যার দৃশ্য ফেসবুকে লাইভ খুনির মেয়ের

ঘোষণা দিয়ে পুলিশের সামনে ব্যবসায়ীকে গুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ মার্চ, ২০২১ ০২:৪৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হত্যার দৃশ্য ফেসবুকে লাইভ খুনির মেয়ের

আব্দুর রশিদ, হান্নান

আগের রাতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পরদিন সকালে পুলিশের সামনেই রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদকে (৩৯) গুলি করে হত্যা করেছেন আমিনুল ইসলাম হান্নান ওরফে জাপানি হান্নান (৪৮)। এমনকি হত্যার দৃশ্য হান্নানের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ করেন তাঁরই মেয়ে। গতকাল বুধবার রাজধানীর দক্ষিণখানে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত হান্নান নিজেকে বিমানবন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি, জাপান-বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থার মহাসচিব এবং বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে দাবি করেন। যদিও আওয়ামী লীগ নেতারা ও পুলিশ জানিয়েছে, হান্নান আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত নন, তিনি স্বঘোষিত নেতা।

গত মঙ্গলবার রাতে হান্নান ফেসবুকে হত্যার হুমকি দিয়ে লিখেছিলেন, ‘ধৈর্যের সীমারেখা অতিক্রম করলে টর্নেডো হবার আশঙ্কা খুব বেশি, সাধু সাবধান’।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দক্ষিণখান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। জাপানি হান্নান ও নিহত আব্দুর রশিদের মধ্যে বালু চুরি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে গেটের বাইরে এসেই হান্নান তাঁর হাতে থাকা শটগান রশিদের মুখে ঠেকিয়ে গুলি করেন। এ সময় হান্নানের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ করছিলেন তাঁর মেয়ে। ঘটনার সময় পাশেই পুলিশ ছিল। নিজের লোকজনকে মারধরের খবর পেয়ে রশিদ ও তাঁর লোকজন এসেছিল। এসেই তিনি খুন হলেন।

রাজধানীর দক্ষিণখান থানার আইনুসবাগের পানির পাম্প সড়কে হান্নানের বাড়ি ‘জাপানি কটেজ’ ভবনের সামনে গতকাল সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ওই ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত রশিদ আশকোনা এলাকার ডিলার বাড়ির আব্দুল মালেকের ছেলে। দক্ষিণখানের নদ্দাপাড়া এলাকায় তাঁর রড-সিমেন্টের দোকান রয়েছে। গুলির পরপরই কয়েকজন ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রশিদকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় জাপানি হান্নানসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক অন্যরা হলেন হান্নানের ছেলে ইকরামুল ইসলাম জয় (২৬), ভাই শফিকুল ইসলাম ইমরান (৪১), চাচাতো ভাই আল আমিন প্রবীণ (৩৫), জুয়েল ইসলাম রিপন (৪১) ও খোরশেদ আলম (৫০)। পুলিশ হান্নানের বাড়ি থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত শটগানসহ দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে।

অভিযুক্ত হান্নানের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উপজেলার হাইমচর এলাকায়। তিনি জাপানি কটেজে স্ত্রী এবং দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন।

জানা গেছে, জাপানি হান্নান ও নিহত আব্দুর রশিদের পরিবারের মধ্যে ময়লা ব্যবসা (বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের ঠিকাদারি) নিয়ে বিরোধ চলছিল অনেক দিন ধরে। গত সোমবার ও মঙ্গলবার রাতে জাপানি হান্নানের বাড়িসংলগ্ন সড়কে বাউন্ডারির কাজ করাতে কয়েক ট্রাক বালু রাখেন রশিদ। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রশিদের লোকজন এসে বালু কম দেখে। চুরি হওয়া ওই বালু হান্নান নিয়েছেন বলে দাবি করতে থাকে তারা। এ বিষয়ে হান্নানকে জিজ্ঞেস করতে গেলে হান্নানের ১৫-২০ জন লোক রশিদের তিন-চার ভাইকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে তাড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে আব্দুর রশিদ ও তাঁর মামাতো ভাই সোহেল রেজাসহ আরো লোকজন আসে। দক্ষিণখান থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আজিজও ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে জাপানি হান্নান সঙ্গে থাকা শটগান দিয়ে গুলি করেন।

হত্যার পর আমিনুল ইসলাম হান্নানের ফেসবুক আইডি ঘেঁটে দেখা গেছে, লাইভে হান্নানের মেয়ে বলতে থাকেন, ‘আমাদের বাসার সামনে পাঁচ-ছয় শ জন লোক জড়ো হয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। তারা গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এখানে মাত্র কয়েকজন পুলিশ রয়েছে। এখানে আরো র‌্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দরকার। আমি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসকে দ্রুত চলে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

এদিকে হত্যার ঘটনায় উত্তেজিত এলাকাবাসী ও আব্দুর রশিদের স্বজনরা হান্নানের বাসার সামনে থাকা একটি প্রাইভেট কারে আগুন লাগিয়ে দেয়। হান্নানের বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুরও চালায় তারা।



সাতদিনের সেরা