kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

কালরাত স্মরণে দেশে দেশে প্রদীপ জ্বলবে ২৫ মার্চ

অনলাইন ডেস্ক   

২৪ মার্চ, ২০২১ ১৫:৩৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কালরাত স্মরণে দেশে দেশে প্রদীপ জ্বলবে ২৫ মার্চ

২৫ মার্চ প্রথম প্রহরে ভার্চুয়াল এক প্রদীপ প্রজ্বালন কর্মসূচির আয়োজন করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ) এবং অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজ নামের দুই সংগঠন।

একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে একাত্তরের গণহত্যার ৫০তম বছর সামনে রেখে একটি উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করেছে সংগঠন দুটি।

২৫ মার্চ রাত ১২টা ১ মিনিটে এই প্রদীপ প্রজ্বালন কর্মসূচি এবং একই দিনে ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিতে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন আইসিএসএফের ট্রাস্টি ড. রায়হান রশিদ।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে নিজ নিজ ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নির্ধারিত সময়ে ফেইসবুক লাইভে এসে, অথবা আগে ধারণ করা ভিডিও বা স্থিরচিত্রে একটি প্রদীপ কিংবা মোমবাতি জ্বালাতে হবে। সেই ছবি বা ভিডিও পোস্ট করতে হবে #recognise1971genocide এবং #RecogniseBangladeshGenocide হ্যাশট্যাগের সঙ্গে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাক-হানাদার বাহিনী 'অপারেশন সার্চ লাইট'-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির উপর নির্বিচারে চালায় বিশ্ব ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা। 'অপারেশন সার্চ লাইট' ছিল বাঙালির একটি প্রজন্মকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এক নারকীয় পরিকল্পনা। ওই রাতে পাক-হানাদার বাহিনী স্বাধীনতাকামী বাঙালির ওপর দানবের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।  দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পৌঁছাচ্ছে সেই বাংলাদেশ। আর ২৫ মার্চের পূর্ণ হচ্ছে সেই কালরাতের ৫০ বছর। দিনটি স্মরণে ২৫ মার্চ আইসিএসএফ এবং অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজ আয়োজন করেছে মুক্ত আলোচনার। বিষয় '১৯৭১ এর গণহত্যার স্মরণ, এবং ১৯৭১ এর গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জনে কর্মসূচি নির্ধারণ'।

আলোচনায় অংশ নেবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সংসদে গণহত্যা দিবস প্রস্তাবক সাংসদ শিরিন আখতার, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ড. নমিতা হালদার, অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান, এমিরেটাস অধ্যাপক (ম্যাককোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়) ড. রফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মি আহমেদ, আইসিএসএফ ট্রাস্টি ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন ও রায়হান রশিদ।

অনুষ্ঠানসূচিতে রয়েছে শুভেচ্ছা বক্তব্য;  গণহত্যার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা; মোমবাতি/প্রদীপ প্রজ্জ্বলন;  তথ্যচিত্র 'ক্রিড ফর জাস্টিস' প্রদর্শন;  আইসিএসএফ-এর পক্ষ থেকে 'গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি' প্রসঙ্গে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য উপস্থাপন;  নির্ধারিত প্যানেল বক্তাদের বক্তব্য উপস্থাপন; মন্তব্য ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। সমাপনী বক্তব্য দেবেন কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ফ্যাকাল্টি সদস্য ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।

বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান ও কলামিস্ট ড. এজাজ মামুন সঞ্চালনায় থাকবেন। ফেইসবুকে এ আলোচনায় মতামত দেওয়া এবং প্রশ্ন করার সুযোগ সবার জন্য উম্মুক্ত থাকছে। (https://www.facebook.com/events/878750522913089/)।

বিভিন্ন টাইমজোন অনুযায়ী এ আলোচনার সময়সূচি ঠিক হয়েছে- ক্যানবেরা/ সিডনি/ মেলবোর্ন সময় রাত ৯টা; ব্রিসবেন সময় রাত ৮টা; ঢাকা সময় বিকেল ৪টা ও লন্ডন সময় সকাল ১০টা।

আইসিএসএফের ট্রাস্টি ড. রায়হান রশিদ নিজের ফেইসবুক পেইজে লিখেছেন, '১৯৭১ এর গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি বাস্তবায়নের দাবিতে অস্ট্রেলিয়ার সাতটি শহর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসছেন ২৫ মার্চ।'

এ অনলাইন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মতামত ও প্রশ্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে আইসিএসএফের এর ট্রাস্টি বলেন, 'গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি আন্দোলনের যে রূপরেখা অস্ট্রেলিয়ায় নির্ধারিত হতে যাচ্ছে, তা বিশ্বের সব শহর এবং দেশের ক্ষেত্রেই কমবেশি প্রাসঙ্গিক হবে বলে আমরা মনে করছি। এ উদ্যোগ ও আলোচনায় আপনার মতামত যেমন গুরুত্বের, তেমনি আপনার কাছে আমাদের প্রত্যাশা- বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, এতে নিজে শামিল হওয়ার পাশাপাশি পরিচিত সবাইকে উদ্বুদ্ধ করুন।' 



সাতদিনের সেরা