kalerkantho

শনিবার । ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১২ জুন ২০২১। ৩০ শাওয়াল ১৪৪২

সমাজ কতটা এগোল

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী   

১৮ মার্চ, ২০২১ ০৪:০৭ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



সমাজ কতটা এগোল

নারী নির্যাতনের মতোই শিশু নির্যাতন অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। উন্নতির স্তরে স্তরে শিশুশ্রমের ক্রন্দন ও ঘাম চাপা দেওয়া রয়েছে। কিন্তু নতুন যা যোগ হয়েছে তা হলো শিশু ধর্ষণ। ধর্ষণ করছে এবং সাক্ষী না রাখার জন্য ধর্ষিত শিশুটিকে হত্যা করছে। বাংলাদেশে এ জিনিস কিছুদিন আগেও অজানা ছিল; এখন এটা নিত্যদিন যখন-তখন, যেখানে-সেখানে ঘটছে। এই লেখাটি তৈরি করতে করতেই খবর দেখলাম টাঙ্গাইলে ১০ বছরের একটি শিশুকে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে হত্যা করে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখে কাগজে খবর এসেছে যে কিশোরগঞ্জে রাতের বেলা সিঁধ কেটে একটি শিশুকে অপহরণ ও ধর্ষণ করা হয়েছে। এই দরিদ্র দেশে সাহসী চোরদের টাকা-পয়সা, সোনা-গয়না অপহরণের জন্য সিঁধ কাটাটা অপরিচিত ঘটনা নয়, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে যুবলীগ নেতা নাকি সিঁধ কেটে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ঘরে ঢুকেছিল চুরির উদ্দেশ্যে, চুরি কিছুই করেনি, মোবাইল ফোনটাও নয়, নিদ্রিত অফিসারকে হত্যা করার জন্য শুধু হাতুড়ি ব্যবহার করেছে; তবে সিঁধ কেটে ধর্ষণের জন্য শিশু অপহরণের রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চারের খবর এর আগে শুনিনি। উন্নতি ঘটছে বৈকি। বাংলাদেশে মানুষের জন্য নিরাপত্তা আজ কোথাও নেই। পথে-ঘাটে সড়ক দুর্ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক, অনেক মানুষেরই ঘর নেই, যারা ঘরে থাকে তারাও নিরাপদে ঘুমাতে পারে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ফুল বিক্রি করত গৃহহীন যে শিশুটি তাকে পাচারের জন্য যে সুশিক্ষিত মহিলা তৎপর হয়েছিলেন, তিনিও তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন যে উপার্জনের জন্য শিশু নির্যাতন খারাপ পন্থা নয়।

যে শিশুরা কোনো মতে বেঁচেবর্তে কিশোর হয়, তাদের অবস্থাটা কী? কোথায় তাদের খেলার মাঠ, নাটকের মঞ্চ, বই পড়বার পাঠাগার, চলবার-ফিরবার পরিসর? এসব জিনিস এককালে অল্পস্বল্প যা কিছু ছিল এখন তা অতীতের সুখস্মৃতিতে পরিণত। কিশোর আন্দোলনও ছিল। ছিল মুকুল ফৌজ, খেলাঘর, কচি-কাঁচার মেলা, চাঁদের হাট—সেসব কোথায় গেছে চলে! একালের ছেলে-মেয়েরা শুনলে মনে করবে গালগল্প। তা কোথায় গেল ওই সব আন্দোলন? কেন গেল চলে? গেল কিন্তু উন্নতির কারণে। উন্নতি মাঠ-ময়দান সব দখল করে নিয়েছে। উন্নতি শিশুকে সমাজবিচ্ছিন্ন করেছে। উন্নতির সাম্প্রতিক সময়ে আওয়াজ আইসোলেশন। উন্নতির চূড়ান্ত প্রকাশ ও প্রকোপ করোনাভাইরাস, যার হাত থেকে বাঁচবার একমাত্র উপায় ঘরের (যদি থাকে) ভেতর লুকিয়ে থাকা। মুখে মুখোশ পরে থাকা। আগে চোর-ডাকাত-খুনিরা ওই জিনিস পরত।

kalerkanthoকিশোররা এখন কী করে? হতাশায় ঝিমায়, স্বপ্ন দেখার লোভে মাদক সেবন করে, কে সিনিয়র, কে জুনিয়র বিতর্কে মত্ত হয়ে খুনাখুনি করে, গুরুজনদের নির্দেশে হত্যা করে নারায়ণগঞ্জের কিশোর ত্বকীকে। আর কী করে? তাদের বিনোদন কী? তার একটি নমুনা করোনাকালেই পাওয়া গেছে। মদ খেয়ে মারা যায়। ঘটনা পাবনা অঞ্চলের, ব্রিটিশ আমলে যে অঞ্চল কৃষক আন্দোলনের জন্য বিখ্যাত ছিল বলে উল্লেখ আছে বঙ্কিমচন্দ্রের বঙ্গদর্শন পত্রিকায়, সেখানে বোনের জন্মদিনের উৎসবে আনন্দ-ফুর্তি উপলক্ষে অতিরিক্ত মদ্যপানে দুই কিশোর প্রাণ হারিয়েছে। ওই এলাকায় মাদক অবাধে বিলিবিক্রি হয়, যেমন হয় অন্য অনেক এলাকায়ও। হতে পারে এই দুই কিশোরও ওই ব্যবসায় যুক্ত ছিল; এমন খবর হামেশাই পাওয়া যাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে এগুলো তত ভয়ংকর নয়, যত ভয়ংকর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। কিশোর আন্দোলন নিশ্চিহ্ন হলেও পাড়ায়-মহল্লায় কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে। তাদের তৎপরতা কমছে না, বাড়ছে। কিশোর গ্যাং কী করে? নিজেদের মধ্যে ছুরি চালাচালি করে, খুন হয়। সংঘর্ষ বাধলে শীতলক্ষ্যায় ঝাঁপ দেয়, পরে লাশ হয়ে ভেসে ওঠে। আরো কাজ আছে তাদের। যেমন—দিনাজপুরে শালবনে ‘বন্ধুকে বেঁধে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ।’ অথবা কিশোরগঞ্জে ‘প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাত।’ কোনো খবরই নতুন নয়। তবে করোনাকালে অন্য অনেক কিছু কমলেও এগুলো একটুকুও যে কমেনি সে ব্যাপারটাই তাৎপর্যপূর্ণ। মামলা-মোকদ্দমাও চলছে। যেমন—‘কিশোর গ্যাংয়ের ১৬ নেতার ঘাড়ে খুনসহ শতাধিক মামলা।’ সংবাদপত্রেরই সংবাদ। তবে এদের ঘাড় এরই মধ্যে যথেষ্ট পোক্ত ও প্রশস্ত হয়ে গেছে। ফলে পরোয়া করে না। জামিনে থেকে অথবা জেল খাটা শেষে আবারও তৎপর হয় এবং তৎপর থাকে যতক্ষণ না মৃত্যু ঘটে। আমৃত্যু সাধনা। কিশোররা কি ভালো কাজ করে না? অনেকেই করে, কিন্তু সেসব প্রচার পায় না। ভালো কাজগুলো আলো-বাতাসের মতো, তারা মিশে যায়, মিশে থাকে; খারাপ কাজগুলো গুচ্ছ গুচ্ছ অন্ধকার, তারা দুষ্ট বাতাস, তারা নাড়িয়ে দেয়। তারা সংক্রামক। আমরা টের পাই। অন্যের অপকর্মে বাধা দিয়েছে কিশোর, দিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে, এমন ঘটনাও ঘটে। ঘটেছে এই করোনার সময়েই। কিশোররা যে ভালো কাজ কতটা করতে পারে দেখেছি তা অতীতের ছাত্র আন্দোলনে। দেখেছি মুক্তিযুদ্ধে। দেখেছি কিছুদিন আগে ঢাকা শহরে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনায় তারা যখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছিল তখনো। স্বেচ্ছাসেবী কিশোররা যান চলাচলে এমন শৃঙ্খলা এনে দিয়েছিল যেমনটা বেতনভুক ও সুবিধাপ্রাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য দুঃসাধ্য। আর সে জন্যই ওই ভালো কাজটিতে তারা টিকে থাকতে পারেনি। তাদের সরে পড়তে হয়েছে। এমনকি হয়রানির শিকার পর্যন্ত হতে হয়েছে। নীরবে এমন উচিত শিক্ষা দিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেন আর কখনো ওমুখো না হয়। তোমরা মাদক খাও ঠিক আছে, অল্প বয়স এদিক-সেদিক তো করবেই; তোমরা দাঙ্গাফ্যাসাদ করো তা-ও সহ্য, কিন্তু পুলিশের কার্যে হস্তক্ষেপ? তাহলে পুলিশ কী করবে?

আমরা যখন কিছুটা কম উন্নত ছিলাম তখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রসংসদ নামে একটি পরিসর ছিল। ছাত্রসংসদের কার্যক্রমে অংশ নিয়ে ছেলে-মেয়েরা অনুশীলনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গড়ে উঠবার সুযোগ পেত, পরে উন্নয়নের জোয়ার যখন চলে এলো তখন দেখা গেল তার প্রপাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ শুকিয়ে যাওয়া শুরু হয়েছে। পরিণামে দেখা গেল অপরাধ ও সহিংসতার মারাত্মক বৃদ্ধি এবং সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের দোর্দণ্ড প্রতাপ। যার সাক্ষী সহপাঠীদের হাতে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরারের করুণ মৃত্যু। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়নকাজে ছাত্রলীগের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের থাবা বসানোর প্রচেষ্টাও জানিয়ে দেয় যে সরকারি দলের সঙ্গে থাকলে কী কী সুযোগ-সুবিধা হস্তগত করা সম্ভবপর।

বহু আলোচনা-সমালোচনা ও ক্রমবর্ধমান দাবির মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ পর্যন্ত দায়সারা গোছের ছাত্রসংসদের একটি নির্বাচন হয়েছে। তবে কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদে (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সরকার সমর্থক ছাত্রসংগঠনের সদস্য। দেখা গেল দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিনি তাঁর নিজের সংগঠন থেকেই বহিষ্কৃত হয়েছেন। ভিপি হয়েছিলেন কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক। নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের সময়ে এবং নির্বাচনের পরে তিনি শারীরিকভাবে প্রহৃত হয়েছেন। তাঁর কার্যকাল শেষ হয়েছে; কিন্তু তিনি যেহেতু রাজনৈতিক দল খাড়া করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন সে কারণেই হবে, তাঁর বিপদ কাটেনি। যুবকটি মামলা ও পুলিশি হয়রানির মুখে পড়েছেন। নতুন মামলা ধর্ষণে সহযোগিতার। এ নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদ শিরোনামটি মনে হয় অযথার্থ নয়: ‘বিরোধী দলহীন মাঠে নুরই প্রতিপক্ষ’। (কালের কণ্ঠ, ২৩-০৯-২০)। সম্প্রতি একটি প্রতিবাদ মিছিল থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরশাদ আমলে ছাত্র আন্দোলনের মুখে ডাকসুর এক সাধারণ সম্পাদককে দলে ভেড়াবার জন্য টানাটানি করা হয়েছিল। সরকার তাতে সফলও হয়েছিল। এখন চলে এসেছে নিবারণের আরো উন্নত পন্থা।

কৈশোর ছাড়িয়ে যারা যুবক হয়, তারা রাজনীতিমনস্ক হোক এটা রাষ্ট্রক্ষমতার মালিকরা চান না। তাদের সেই রাজনীতিটা কী? বিরোধীদলীয়দের দমন-পীড়ন করা, দলীয় সভায় শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া, বিভিন্ন দিবস পালন উপলক্ষে চাঁদা তোলা—এসব তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হওয়ার কথা, হয়ও নিশ্চয়ই; কিন্তু এখন তো আর বিরোধী দলের লোকরা দৃশ্যমান নয়, অদৃশ্য শত্রুকে কতই আর ধাওয়া করা যায়? তাদের প্রধান রাজনৈতিক কাজ এখন তাই অন্য ধরনের। উচ্চতর নেতারা কেউ কেউ ক্যাসিনো ব্যবসা করেন, নেত্রীরাও কেউ কেউ কম যান না। কাজ আরো আছে। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি চলে। মাদকের ব্যবসা, নদী, বালুমহাল, খাল-বিল, সরকারি জমি দখল—এসব রাজনৈতিকভাবে চলে। নেতা হওয়াটা সহজ কাজ নয়, বড় ভাইদের হাত ধরতে হয়, বড় ভাইরা উঁচুতে থাকেন, পৌঁছতে হলে মই চাই, সেই মই কাঠের নয়, টাকার বটে। তারপর পদ পেলে যা ইচ্ছা তা-ই করা যায়। প্রশাসন সাধারণত দেখেও না দেখার ভান করে। তাদের জন্য ভয় থাকে অপদস্থ হওয়ার কিংবা দুর্গম স্থানে বদলির। তবে মাঠ পর্যায়ের কেউ যদি ‘বেয়াদবি’ করেন, তবে তিনি শুধু হুমকি নয়, প্রাণনাশের শঙ্কাতেও পড়েন। কখনো কখনো বিপত্তি ঘটে, ধরা পড়ে যান, তবে তাঁকে নিয়ম না বলে ব্যতিক্রম বলাই ভালো। তাতে বুঝতে সুবিধা হবে।

হতদরিদ্র এই দেশ আমাদের। এখানে নেতাদের কত না ছোট ছোট ঝগড়া-ফ্যাসাদে জড়িয়ে পড়তে হয়। ঘটনা ত্রিশালের। সেখানে দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে একটি ছাগল নিয়ে। প্রতিবেশী এক পরিবারের ছাগল অপর পরিবারের সীমানা এলাকায় প্রবেশ করেছে, ছাড়া পেলে নির্বোধ ছাগলরা যেমনটা করেই থাকে; সে ঘটনা নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি হতেই পারে, এমনকি ছাগলটির ঠ্যাঙ ভেঙে দেওয়াও বিচিত্র নয়, যেমনটা এ ক্ষেত্রে ঘটেছে। কিন্তু এমনই তপ্ত এখন ঘরবন্দি মানুষজন যে দুই পরিবারই লাঠিসোঁটা নিয়ে বের হয়ে পড়েছে। তাতে পাঁচজন আহত হয়ে হাসপাতালে গেছেন, একজন নিহত হয়েছেন অকুস্থলেই। যিনি নিহত হয়েছেন তিনি স্থানীয় যুবলীগের একজন নেতা। সে জন্যই এই খবরটা সাধারণ মৃত্যুর তুলনায় অতিরিক্ত মূল্য পেয়েছে। সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, এলাকাটি শোকে স্তব্ধ এবং পরিবারটিতে আহাজারি চলছে। অতি উন্নত ভারতে যখন গো হত্যার অপরাধে, এমনকি সন্দেহেও, মানুষ হত্যা চলে, তখন আমরাই বা পিছিয়ে থাকি কোন দুঃখে? গরু না হোক ছাগল নিপীড়নের শাস্তি তো দিতে পারি। নিকট-প্রতিবেশী, ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক! আমাদের ছাগলযুগে পৌঁছে যাওয়ার আরো নিদর্শন রয়েছে। রাজশাহীর এক উপজেলায় চলন্ত ট্রাকের সামনে দুটি ছাগল দৌড়ে এসে পড়েছিল, তাতে তারা নিহত হয়। ছাগলের মালিক ছাড়বেন কেন? ১০-১২টি মোটরসাইকেল হাঁকিয়ে তাঁর লোকরা ধাওয়া করেছে, ১৪ কিলোমিটার পার হয়ে ট্রাকচালককে ধরতে পেরেছে তারা। এবং সেখানেই তাঁকে পিটিয়ে মেরে ফেলে তবে ছেড়েছে।

তবে আমরা অবশ্যই এগিয়েছি। পাকিস্তান আমলে আমরা মনে হয় হাঁস-মুরগির যুগে ছিলাম। কমিউনিস্ট হওয়ার অভিযোগে কমরেড আবদুশ শহীদ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ১৯৪৮ সালে। পিরোজপুরের সাব-জেলে গিয়ে দেখেন অপরাধী উপচে পড়ছে। একজন জেলহাজতি এক বছর ধরে বিনা বিচারে আটক আছেন, জামা-কাপড় ছেঁড়াফাটা, সারা গায়ে অসুখের চিহ্ন। তাঁর অপরাধ হাঁস চুরির। অপরাধীর ভাষায়, ‘আমি নাকি অন্যের বাড়ির হাঁস তাড়িয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছি।’ উকিল-মোক্তার কোথায় পাবেন? জেলে থেকেছেন। (কারা-স্মৃতি, ১৯৭৭, পৃষ্ঠা ৩০) আমাদের ভয় নেই, উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। হাঁস-মুরগির যুগ পেরিয়ে ছাগলের যুগে এলাম। এরপর? গরুর? না, না, গরু বেশ বোকা এবং খুবই উপকারী। মনে হয় শিয়ালের যুগটাই অবধারিত। শিয়াল অন্য কিছু জানে না অপহরণ ভিন্ন। কে জানে এরই মধ্যে সেখানে পৌঁছে গেছি কি না। ছাগল নিয়ে খুনাখুনি চলবে; কিন্তু কর্তৃত্ব থাকবে শিয়ালের। বিশ্বজুড়েই।

লেখক : ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



সাতদিনের সেরা