kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

আ. লীগ দুই ধাপে যাচাই করে মনোনয়ন দেবে

তৈমুর ফারুক তুষার   

১৬ মার্চ, ২০২১ ০৩:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আ. লীগ দুই ধাপে যাচাই করে মনোনয়ন দেবে

স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের বিষয়ে দুই ধাপে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে দলটি। প্রথম ধাপে যাচাইয়ের কাজ করবে দেশের আট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আটটি টিম। বিভাগীয় টিমগুলো প্রাথমিক তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর মন্তব্যসহ একটি তালিকা আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের কাছে জমা দেবে। এই তালিকা ধরে আলোচনার মাধ্যমে মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড এবং স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের এক যৌথ সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র কালের কণ্ঠকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত যৌথ সভাটিতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় যোগ দেওয়া একাধিক সূত্র জানায়, মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রথম ধাপের প্রার্থী তালিকায় বেশ কয়েকজন বিতর্কিত নেতা মনোনয়ন পেয়েছেন বলে আলোচনা ওঠে। হাজারো ইউনিয়ন পরিষদের কয়েক হাজার মনোনয়নপ্রত্যাশীর বিষয়ে একটি বৈঠকে চুলচেরা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে মনোনয়ন দেওয়া খুবই কঠিন বলে মন্তব্য করেন একাধিক নেতা। আলোচনার মধ্য দিয়ে পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই আরো স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে আট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী বাছাই করতে গিয়ে প্রচুর সময় লাগছে। প্রথম ধাপের ৩৭১ ইউনিয়নে প্রার্থী বাছাই দুই দিনেও করা সম্ভব হয়নি। প্রথম দিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিনেও কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকেন। প্রক্রিয়াটি বেশ শ্রম ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটু যাচাই-বাছাই কম হলেই কিছু কিছু জায়গায় বিতর্কিত ব্যক্তিরা মনোনয়ন পেয়ে যাচ্ছে। ফলে দুই ধাপে যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা আরো বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন একেবারে তৃণমূলে অনুষ্ঠিত হয়। ওই পর্যায়ে একজন নেতা দুর্নীতিবাজ কি না, অনুপ্রবেশকারী কি না, বিতর্কিত কি না—এগুলো ঢাকায় বসে একটি বৈঠকে যাচাই করতে সমস্যা হচ্ছিল। এখন বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের এই কাজে যুক্ত করা হলো। তাঁরা প্রাথমিক কাজটা করবেন। ফলে যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাঁদেরও সরাসরি দায়বদ্ধতা থাকবে।’

আসন্ন স্থানীয় সরকারের প্রথম ধাপের ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আরো ৫৭টিতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী চূড়ান্ত হয় গতকালের সভায়। এর আগে গত শনিবার ৩০০ ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়। শনিবারের মুলতবি সভাটি গতকাল অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ।

শনিবার যে ৩০০ ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়। এই পাঁচ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ার মিরুখালী ইউপিতে মো. আবু হানিফ খান, নেছারাবাদের সমুদয়কাঠি ইউপিতে মো. হুমায়ুন কবির, বরগুনা জেলার বেতাগীর বেতাগী ইউপিতে মো. হুমায়ুন কবির, পটুয়াখালী জেলার দশমিনার আলীপুর ইউপিতে মো. মিজানুর রহমান এবং ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়ার আওড়াবুনিয়া ইউপিতে মো. মিঠু সিকদার।



সাতদিনের সেরা