kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

পি কে হালদারের দেশত্যাগ : ৫৯ ইমিগ্রেশন পুলিশের তালিকা হাইকোর্টে

অনলাইন ডেস্ক   

১৫ মার্চ, ২০২১ ১৩:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পি কে হালদারের দেশত্যাগ : ৫৯ ইমিগ্রেশন পুলিশের তালিকা হাইকোর্টে

প্রশান্ত কুমার (পিকে হালদার) হালদার। ফাইল ছবি।

সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের  অভিযোগে পাসপোর্ট জব্দ থাকার পরও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার (পিকে হালদার) হালদারের দেশত্যাগের সময় বেনাপোল স্থলবন্দরে দায়িত্বরত ৫৯ ইমিগ্রেশন পুলিশের তালিকা দাখিল করা হয়েছে হাইকোর্টে।

আজ সোমবার (১৫ মার্চ) পুলিশ মহাপরিদর্শকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চে দাখিল করা হয়েছে তালিকাটি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে পুলিশের ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছিল, পি কে হালদার যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে সে নির্দেশনাসহ দুদকের চিঠি হাতে পাবার দুই ঘন্টা ৯ মিনিট আগেই ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যান তিনি।

তবে ইমিগ্রেশন পুলিশের ওই তথ্য সঠিক নয় বলে হাইকোর্টে পাল্টা লিখিত জবাব দাখিল করে দুদক। দুদকের পক্ষ থেকে লিখিত চিঠিতে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর পি কে হালদারসহ ২৪ জনের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া চিঠি পরদিন ২৩ অক্টোবর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে পাঠানো হয়, যা ইমিগ্রেশন গ্রহণ করেন।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পিকে হালদার হালদারের পাসপোর্ট জব্দ থাকার পরও তাঁকে পালাতে সহযোগিতাকারী ইমিগ্রেশন, পুলিশ ও দুদকের কর্মকর্তাদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এছাড়া পি কে হালদার মামলার আসামিদের জবানবন্দিতে যাদের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে দুদকের পদক্ষেপ জানতে চাওয়া হয়। একইসঙ্গে পি কে হালদারের দেশত্যাগের ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কর্মরতদের তালিকা জমা দিতেও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যান পি কে হালদার। পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ইমিগ্রেশন ইউনিটের পক্ষ থেকে গত ১ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে দায়িত্বরত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে মৌখিকভাবে এই তথ্য জানানো হয়।

জানা যায়, পি কে হালদার যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য এসবি পুলিশকে ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর চিঠি দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইমিগ্রেশন পুলিশকে সতর্ক করতেই এই চিঠি দেওয়া হয়। দুদকের এই চিঠি ডাকযোগে পাঠানো হয়। এর পরদিন ২৩ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায় এই চিঠি পায় এসবির সদর দপ্তর। এরপর সদর দপ্তর থেকে এসবির সব ইমিগ্রেশন ইউনিটকে ওই দিন বিকেল ৫টা ৪৭ মিনিটে ই-মেইলযোগে এই চিঠি পাঠানো হয়। এই চিঠি পাওয়ার দুই ঘণ্টা ৯ মিনিট আগেই বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যান পি কে হালদার।

পি কে হালদারের বিরুদ্ধে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ এখন তদন্তাধীন। এ নিয়ে হাইকোর্টের একাধিক বেঞ্চে শুনানিও চলছে। এরই মধ্যে পি কে হালদারের কয়েকজন সহযোগী আদালতে স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।



সাতদিনের সেরা