kalerkantho

সোমবার । ১১ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৬ জুলাই ২০২১। ১৫ জিলহজ ১৪৪২

শহীদ মিনারের মর্যাদা: ১০ বছর আগের রায়ের অগ্রগতি জানতে চান হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০২১ ১৭:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শহীদ মিনারের মর্যাদা: ১০ বছর আগের রায়ের অগ্রগতি জানতে চান হাইকোর্ট

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মর্যাদা রক্ষায় সাড়ে ১০ বছর আগে দেওয়া রায় কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে তা জানাতে মন্ত্রীপরিষদ সচিব, মুক্তিযোদ্ধা ও সংস্কৃতি সচিব, ঢাবি ভিসি, ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, গণপুর্তের প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান স্থপতির প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৫ এপ্রিল পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার এ আদেশ দেন। মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক আদালত অবমাননার আবেদনে এ আদেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতে আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, ভাষা সৈনিকদের প্রকৃত তালিকা করা, জাদুঘর প্রতিষ্ঠাসহ ৮দফা নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় গত ৪ মার্চ হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়। এ আবেদনে আদালত চার সপ্তাহের মধ্যে রায় বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

এইচআরপিবি’র করা আবেদনে হাইকোর্ট ২০১০ সালের ২৫ আগস্ট এক রায়ে ৮দফা নির্দেশনা দেন। এগুলো হলো-১। শহীদ মিনারে ভবঘুরে ঘোরাফেরা করতে না পারে বা অসামাজিক কার্যকলাপ চলতে না পারে সেজন্য পাহারার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; ২। শহীদ মিনারের মূল বেদীতে কোনো সভা-সমাবেশ করা যাবে না। তবে বেদীর পাদদেশে সভা-সমাবেশ করতে বাধা-নিষেধ থাকবে না; ৩। ভাষা শহীদদের মরনোত্তর পদক ও জীবিতদের জাতীয় পদক প্রদান করতে হবে; ৪। জীবীত ভাষা সৈনিকদের কেউ সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্য চাইলে তা দিতে হবে; ৫। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মান ও তার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে; ৬। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে একটি লাইব্রেরিসহ যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পর্যটকরা যাতে যাবতীয় তথ্যাবলী পায় সেজন্য সেখানে ভাষা আন্দোলন তথ্য সংক্রান্ত ব্্রুসিয়ার রাখতে হবে; ৭। ভাষা সৈনিকদের প্রকৃত তালিকা তৈরীর জন্য একটি কমিটি গঠন করতে হবে এবং ৩১ জানুয়ারি’২০১২ এর মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে হবে এবং ৮। জীবীত ভাষা সৈনিকদের সকল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন জানানো এবং সাধ্যমত সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়াও হাইকোর্ট ২০১২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পৃথক এক আদেশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশের কবরটি ঠিক রেখে সেখানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সকল স্থাপনা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে শহীদ মিনারের জমির পরিমাণ ও অবস্থা জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়।



সাতদিনের সেরা