kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক    

৯ মার্চ, ২০২১ ০৩:৩৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার শঙ্কা

সামনে কিছুদিন আবারও দেশে করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হবে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারকে আরো সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে করোনা সংক্রমণের গতিবিধি নিয়ে গবেষণা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সুপারিশ করা হয়েছে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুসারে করোনা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিবারকে প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করার। পাশাপাশি দেশেই করোনার টিকা উৎপাদনে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

গতকাল সোমবার ‘করোনার এক বছরে বাংলাদেশ : সাফল্য ও চ্যালেঞ্জ’ শিরোনামে আয়োজিত সেমিনারে এ বিষয়গুলো উঠে আসে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে এ সেমিনারের আয়োজন করে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ)।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে অব্যবস্থাপনা ছিল বলে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন ও সমালোচনা করেন। কিন্তু আমি তো বলব, তখন তো কোনো ব্যবস্থাপনাই ছিল না, অব্যবস্থাপনা তো দূরের কথা। নতুন একটি মহামারি নিয়ে সারা বিশ্বই বিপর্যপ্ত ছিল, কোথাও কিছু বুঝে উঠা যাচ্ছিল না, কোনো উপকরণ পাওয়া যাচ্ছিল না। তার পরও আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় এসব মোকাবেলা করে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি এবং সাফল্যের পথে এগিয়ে এসেছি, যার প্রশংসা মিলছে বিশ্বের বিভিন্ন পর্যায় থেকে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন দেশেই করোনার টিকা উৎপাদনের ব্যবস্থা নিতে। আমরা সে অনুসারে পদক্ষেপ নিচ্ছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘মহামারি বিশ্বকে শিক্ষা দিয়ে গেছে যে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আমাদের দেশে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ খুবই কম।’

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি বলেন, অনেক সংকট কাটিয়ে এখন দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বস্তিকর অবস্থায় আছে। তবে এ পর্যায়ে আসতে মানুষকে সেবা দিতে যে চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীরা জীবন দিয়েছেন তাঁদের পরিবারকে প্রণোদনা দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ দরকার। সেমিনারে জানানো হয়, করোনায় এ পর্যন্ত ১৩১ জন চিকিৎসক মারা গেছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার পর্যবেক্ষণ অনুসারে বলতে পারি, এখন যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে, সামনে আরো কিছুদিন করোনার সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী হবে। এ ক্ষেত্রে ইউকে ভেরিয়েন্ট নিয়ে ভাবতে হবে। গবেষণার ব্যবস্থা করতে হবে।’

জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা অনেক সাফল্য পেয়েছি। আমাদের কমিটি যে পরামর্শ দিয়েছে তার অনেকটা সরকার আমলে নিয়ে বাস্তবায়ন করেছে, আবার অনেকটা আমলে নেয়নি। তবু যা হয়েছে ধীরে হলেও ভালোই হয়েছে। এ ছাড়া টিকা ব্যবস্থাপনায় যা হচ্ছে সেটাও এখন পর্যন্ত খুবই ভালো। আমরা এখন পরামর্শ দিতে চাই মানুষকে সচেতন থাকার জন্য এবং সরকারকেও আরো সতর্ক থাকার জন্য। কারণ টিকা নিলেও অন্য সব স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে। এ ছাড়া দেশে যত দ্রুত টিকা উৎপাদনের ব্যবস্থা করা যাবে ততই মঙ্গল হবে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া সতর্ক করে বলেন, যেকোনো সময় কিন্তু দেশে সংক্রমণ আবার বাড়তে পারে। নতুন ভেরিয়েন্টের কথা ভুলে গেলে ভুল হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। আরো আলোচনা করেন স্বাচিপের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, বিএমএর সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহম্মেদ, বর্তমান মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. জুলফিকার আহম্মেদ আমিন। আয়োজক সংগঠনের সহসভাপতি জান্নাতুল বাকেয়া কেকার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে গত এক বছরে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তাদের স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে সেমিনারে উপস্থিত নারী সাংবাদিক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের প্রধানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা