kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

নারী দিবসে বিল্স আয়োজিত গৃহশ্রমিক সমাবেশ ও ছাতা র‌্যালি

গৃহশ্রমিকদের শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্তি দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ মার্চ, ২০২১ ১৯:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গৃহশ্রমিকদের শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্তি দাবি

“করোনাকালে নারী নেতৃত্ব, গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব” এই স্লোগানকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২১ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ- বিলস্-এর উদ্যোগে এবং অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-আইএলও’র সহযোগিতায় গৃহশ্রমিক সমাবেশ ও ছাতা র‌্যালি আজ ৮ মার্চ ২০২১ (সোমবার) রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়। একইসাথে সুনীতি প্রকল্পের আওতায় গণস্বাক্ষরতা অভিযান এর উদ্যোগে একটি সুসজ্জিত ট্রাক গৃহশ্রমিক সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫ বিষয়ে বাউল গানের মাধ্যমে সচেতনতামূলক গান পরিবেশন করে এবং ট্রাকটি ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটয়ার্ক-এর ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী আবুল হোসাইন এর নেতৃত্বে মানববন্ধন ও ছাতা র‌্যালিতে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও বিলস্ উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য নইমুল আহসান জুয়েল, জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হোসাইন, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সবাপতি শামীম আরা, জাতীয় শ্রমিক জোটের কার্যকরী সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সম্পাদক পূলক রঞ্জন ধর, ইন্ডাষ্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল-আইবিসি সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান, বিলস্ পরিচালক নাজমা ইয়াসমীন প্রমুখ। এছাড়া জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন নেতৃবৃন্দ, মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, নীতি নির্ধারক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন এলাকার প্রায় শতাধিক গৃহশ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই সংগ্রামের বিকল্প নেই। লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কিছু অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো গৃহশ্রমিকদের শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বক্তারা বলেন গৃহশ্রমিকরা খুব মানবেতর জীবন যাপন করেন। তাঁদের না আছে কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, থাকার জায়গা, সাপ্তাহিক বা মাতৃত্বকালীন ছুটি। তাঁদের জন্য কোনো নির্ধারিত বেতনও নেই। তাই গৃহশ্রমকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের শ্রম আইনে অন্তভুক্ত করা প্রয়োজন।

বক্তারা আরো বলেন, গৃহশ্রমিকরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। গৃহশ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত, শ্রমিক হিসেবে তাদের স্বীকৃতি এবং দক্ষ জনশক্তি হিসেবে তাদের সংগঠিত করা, তাদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আইএলও কনভেনশন-১৮৯ অনুস্বাক্ষর করা অত্যন্ত জরুরি।

সমাবেশে বক্তারা গৃহশ্রমিকদের সুরক্ষায় “গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫” বাস্তবায়ন; বিদেশ গমনেচ্ছু নারী অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ভাষা শিক্ষার বিষয়ে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় এলাকা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা; বিদেশ ফেরত নারী অভিবাসী শ্রমিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুণঃর্বাসনের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা; গৃহশ্রমিক নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাসহ নির্যাতিত গৃহশ্রমিকদের সুচিকিৎসা এবং আহত শ্রমিকদের ও  নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণ প্রদান; গৃহশ্রমিক-সহ সকল শ্রমজীবী মানুষের কর্মক্ষেত্র নিরাপদ করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা