kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি কপিরাইটে বড় ভূমিকা একজন নারীর

নিখিল ভদ্র   

৮ মার্চ, ২০২১ ১৫:৫৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি কপিরাইটে বড় ভূমিকা একজন নারীর

ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটির কপিরাইট ফিরে পেয়েছে বঙ্গবন্ধু পরিবার। এর পিছনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছেন একজন নারী। তিনি হলেন কপিরাইট বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার ওলোরা আফরিন। যিনি লাইসেন্সিং অ্যান্ড কালেকটিং সোসাইটি ফর সিনেমাটোগ্রাফ ফিল্মের (এলসিএসসিএফ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি ভারতীয় কোম্পানীর বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নিয়ে ভাষণটির অপব্যবহার বন্ধ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ৭ মার্চের ভাষণটি বেশি জনপ্রিয় হলেও বঙ্গবন্ধুর অন্য ভাষণগুলোর প্রতিও মানুষের আগ্রহ রয়েছে। ইউটিউব, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও নানা গবেষণা গ্রন্থে ভাষণগুলো আদরণীয় হয়ে উঠছে। কোনো কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কালজয়ী ভাষণগুলো আপলোড করে অর্থও কামাচ্ছে। অর্থ কমাতে ভারতীয় কোম্পানি ইনরেকো এন্টারটেইনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড ৭ মার্চের ভাষণটি নিজেদের নামে ডিজিটাল লাইসেন্স করে নিয়েছিল, যা বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রণালয়ের জানা ছিল না। তবে সেই লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় কপিরাইটের ৭৮ ধারা অনুযায়ী, ৭ মার্চের ভাষণটির নৈতিক মেধাস্বত্বের মালিকানা ফিরেছে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার কাছে।

আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এ বিষয়ে ব্যারিস্টার ওলোরা আফরিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি কালের কন্ঠকে বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে কপিরাইট সমিতি হিসেবে এলসিএসসিএফ ২০১৮ সালে নিবন্ধিত হয়। এরপর ৭ মার্চের ভাষণের কথা আমাদের ভাবনায় আসে। তখন দেখি, বিভিন্ন পন্থায় বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণকে ব্যবহার করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের ইউটিউব চ্যানেল, ইয়াংবাংলা ইউটিউব চ্যানেল, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওটি আপলোডেড রয়েছে। কিন্তু এটির মালিকানার খোঁজ করতে গিয়ে দেখি ইনরেকো এন্টারটেইনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড নামের ভারতীয় একটি কোম্পানি ২০১২ সাল থেকে ভাষণটি বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করছে। তারা এটিকে অন্য নাম দিয়ে ডিজিটাল লাইসেন্স নিয়েছে। অথচ, সেটি প্লে করলে ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুরু হয়। ‘রক্তের প্রতিশোধ রক্ত নিব’ এবং ‘শোনো একটি মুজিবরের থেকে’ নামে তারা লাইসেন্স নেয়। অথচ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণটির স্রষ্টা জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই ভাষণের মূল মেধাস্বত্বের স্বত্বাধিকারী।

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ব্যারিস্টার ওলোরা আফরিন বলেন, ইউনেসকোর ফর্ম অনুযায়ী, বাংলাদেশের আইসিটি মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও বাংলাদেশ বেতার- এই চারটি জায়গায় ঐতিহাসিক ভাষণটির সম্পূর্ণ মালিকানা রয়েছে। কিন্তু কপিরাইটের মালিকানার বিষয়ে কিছু বলা না থাকায় বিভিন্ন কোম্পানি ভাষণটির অপব্যবহার করছিলো, যা ডিজিটাল কপিরাইট আইন ৭৮-এর নৈতিক অধিকার লঙ্ঘন। বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে পদক্ষেপ নিতে ২০২০ সালের ৫ জুলাই চিঠি পাঠাই। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও হয়। তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে গত ২৩ আগষ্ট ইনরেকো এনটারটেইনমেন্ট লিমিটেডকে উকিল নোটিশ পাঠাই এবং তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। তারা এখন ডিজিটাল লাইসেন্সটি অবমুক্ত করেছে। গত ফেব্রয়ারী থেকে ভাষণটির কপিরাইট মালিকানা বঙ্গবন্ধু পরিবারের। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে জাতির পিতার ঐতিহাসিক ভাষণটির অপব্যবহার রক্ষা করতে পেরে নিজে গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার গোলাইডাঙ্গা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওয়াজেদ আলী ও হাসমত আরার সন্তান ওলোরা আফরিন লেখাপড়া করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ল-ন ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত এই তরুন ব্যারিষ্টার বর্তমানে কপিরাইট আইন নিয়ে কাজ করছেন। তিনি অ্যাক্রেডিটেড মিডিয়েটর মেধাস্বত্ব পরামর্শক সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল। এছাড়া উইমেন ইন আইপি বাংলাদেশের দায়িত্ব পালন করছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা