kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

কিশোর কানে শুনছেন কম, আছে ডায়াবেটিস রক্তচাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ মার্চ, ২০২১ ০৩:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিশোর কানে শুনছেন কম, আছে ডায়াবেটিস রক্তচাপ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় প্রায় ১০ মাস কারাগারে আটক থাকার পর সদ্যো মুক্তি পাওয়া কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের ডান কানের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিশোরের ওই কানে অস্ত্রোপচার করাতে হবে। না করলে তাঁকে কৃত্রিম যন্ত্র ব্যবহার করে কানে শুনতে হবে। এ ছাড়া তাঁর চোখের ছানির অস্ত্রোপচারও জরুরি হয়ে পড়েছে।

কিশোরের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মেডিক্যাল টিম তাঁর স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন পরীক্ষার প্রতিবেদন গতকাল রবিবার বিশ্লেষণ করে। এ ছাড়া কিশোরের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে অর্থাৎ ৮-১২ মাত্রায় রয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁর রক্তচাপও ওঠানামা করছে বলে শনাক্ত হয়েছে।

কিশোর যে হাসপাতালে আছেন সেখানকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক কালের কণ্ঠকে বলেন, কিশোর যে অবস্থায় হাসপাতালে এসেছিলেন তখনকার চেয়ে এখন (গতকাল সন্ধ্যার পর) অনেকটা ভালো। কিন্তু এখনো তিনি বিপর্যস্ত মানসিক অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারছেন না, যা তাঁর রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে বাধাগ্রস্ত করছে। সব সময় ভয়ের মতো এক ধরনের ঘোরের মধ্যে কাটছে তাঁর।

ওই চিকিৎসক বলেন, কিশোরের চোখের ছানির কারণে স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়েছে। ফলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছানি অপসারণ করা জরুরি। আর কানের অস্ত্রোপচারও করা দরকার। গতকালই কিশোরের পরিবারের সদস্যদের এ বিষয়গুলো জানানো হয়েছে।

কিশোরের ভাই আহসান কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চিকিৎসকরা আমাদের কাছে কিশোরের ডান কানের অস্ত্রোপচারের বিষয়ে মতামত চেয়েছেন। আমরা সিদ্ধান্ত জানালে দু-এক দিনের মধ্যেই হয়তো তাঁরা অস্ত্রোপচার করতে পারবেন। আর না করলে হিয়ারিং এইড ব্যবহার করতে হবে। এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে চিকিৎসকদের জানাব। এ ছাড়া চোখের ছানির অস্ত্রোপচারটাও করাতে হবে বলে আমাদের জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে পায়ের ব্যথা কিছুটা কমছে।’

কিশোরকে আরো তিন-চার দিন হাসপাতালে থাকতে হতে পারে জানিয়ে আহসান কবির বলেন, ‘এখন আমরা সবচেয়ে বেশি চাই আমার ভাইয়ের চিকিৎসা, তাঁকে মেন্টাল ট্রমা থেকে বের করে আনা এবং যতটা সম্ভব একটা স্বস্তির পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া। এ জন্য আমরা তাঁকে আপাতত একধরনের নিরিবিলিতে রাখতে চাই।’

কার্টুনিস্ট কিশোর বলেছেন, গত বছরের ২ মে বিকেলে কাকরাইলের বাসা থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় অচেনা বেশ কয়েক ব্যক্তি। ৫ মে র‌্যাব হেফাজতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারে অনুযায়ী ওই দিন দুপুর আড়াইটায় কাকরাইলের বাসা থেকে র‌্যাব-৩ কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে কারা কিশোরকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, কোথায় রাখা হয়েছিল সেটা জানেন না তিনি। তাঁর অভিযোগ, ওই সময় তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জামিন পাওয়ার পর কিশোরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা