kalerkantho

রবিবার। ৫ বৈশাখ ১৪২৮। ১৮ এপ্রিল ২০২১। ৫ রমজান ১৪৪২

৭ মার্চ’র আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল

‘নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে আওয়ামী লীগ’

অনলাইন ডেস্ক   

৭ মার্চ, ২০২১ ২০:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে আওয়ামী লীগ’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে এবং সুপরিকল্পিতভাবে প্রকৃত ইতিহাস থেকে বিচ্যুত করে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে আওয়ামী লীগ। সত্যকে চেপে রেখে দলীয় ভাবনা জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বশীল দল হিসেবে বিএনপি প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার প্রয়োজন উপলব্ধি করেছে।

আজ রবিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ৭ই মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এ সব অভিযোগ করেন। বিএনপির সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটি আলোচনাসভার আয়োজন করে। তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ পাকিস্তানিদের যে বৈষ্যমমূলক চিন্তাভাবনা, তাদের যে পজিশন, বাংলাদেশের মানুষকে অভাবি করার যে উদ্যোগ ছিল- তার বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিল। সবই আমাদের ছাত্ররা করে গেছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। এভাবে প্রতিটি মুহূর্তে প্রতিটি সময়ে এই দেশে ছাত্র-ছাত্রীরা, তরুণরা-যুবকরা তাদের দেশের স্বাধীনতাকে আনার জন্যে, তাদের অধিকারকে রক্ষা করার জন্য একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণ করার জন্যে লড়াই করেছে, যুদ্ধ করেছে, বুকের তাজা রক্ত দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ কী করেছে? আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই নতুন প্রজন্মকে সেই ইতিহাস থেকে বঞ্চিত করে তাদের ভ্রান্ত ইতিহাস দিচ্ছে। একটা ধারণা দিচ্ছে যে, একটি মাত্র দল, একজনই মাত্র ব্যক্তি আর একটি গোষ্ঠী- যারা এ দেশের সব কিছু এনে দিয়েছে। সব স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, উন্নয়ন এনে দিয়েছে, এখানে মানুষের অধিকারগুলো এনে দিয়েছে। মিথ্যা ইতিহাস দিয়ে তারা প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে। 

ফখরুল বলেন, আমরা সেই ধারণা, সেই সত্যটা তুলে ধরতে চাই। আমরা তুলে ধরতে চাই এ দেশের স্বাধীনতার জন্য কখন কবে থেকে কারা কারা প্রাণ দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে, সংগঠিত করেছে, সংগ্রাম করেছে। একটা কথা দেখবেন তাদের বক্তব্যের কোথাও.. এই তোফায়েল আহমেদের কথা খুঁজে পাবেন না। পাবেন না তারা যখন বক্তব্য দেয় তোফায়েল আহমেদের কথা। তারা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নাম একবারও উচ্চারণ করে না। এমনকি যুদ্ধের যে সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী ছিলেন তার নাম একবারও উচ্চারণ করে না। এমনকি যুদ্ধকালীন যে প্রবাসী সরকার যিনি নেতৃত্ব দিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ তার নাম একবারও উচ্চারণ করে না। এত সংকীর্ণ এরা। কত ভয়ংকর যে, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বার্থে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য, নিজেকে মহিমান্বিত করবার জন্য, একজন মানুষকে মহিমান্বিত করবার জন্য, একটি পরিবারকে মহিমান্বিত করবার জন্য তারা শুধুমাত্র মিথ্যা ইতিহাস এ দেশের মানুষকে চাপিয়ে দিতে চায়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় আরো বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বেগম সেলিমা রহমান প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা