kalerkantho

শনিবার । ২৭ চৈত্র ১৪২৭। ১০ এপ্রিল ২০২১। ২৬ শাবান ১৪৪২

কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা: আশানুরুপ ফল পাওয়া যাচ্ছেনা সচেতনতার অভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মার্চ, ২০২১ ১৯:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা: আশানুরুপ ফল পাওয়া যাচ্ছেনা সচেতনতার অভাবে

কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের পরেও ২০১৯/২০২০ সালের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বরিশাল বিভাগে ২০১৯ সালে ২৩৯ জন কিশোর ও ১,৬২৮ জন কিশোরী এবং ২০২০ সালে ৩১২ জন কিশোর ও ১,৪০০ জন কিশোরী এই স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছে।

জেলাওয়ারি  হিসাবে দেখা গেছে, পটুয়াখালি ও বরগুনাতে এই দুই বছর কিশোর বা কিশোরীরা কোন সেবা গ্রহণ করেনি। সংখ্যায় কম হলেও ঝালকাঠি জেলার কিশোরীরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছে এই দুইবছরে। আর সংখ্যায় খুবই কম হওয়া সত্ত্বেও বরিশাল বিভাগে কিশোররা অন্য বিভাগের কিশোরদের চাইতে বেশি সেবা গ্রহণ করেছে। ভোলাতে দেখা গেছে কিশোরদের সেবা গ্রহণের হার একদম শূন্য।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২১ উদযাপন উপলক্ষে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) আয়োজিত “বর্তমান পরিস্থিতিতে কিশোর-কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার” বিষয়ক ওয়েবিনারের এই তথ্যগুলো উঠে এসেছে।
সরকার কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবার উপর গুরুত্ব দিলেও কেন আশানুরুপ ফল পাওয়া যাচ্ছেনা? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে, ২০১৭-২০২২ কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত অপারেশন প্ল্যানে বাল্যবিয়ে, কৈশোরকালীন মাতৃত্ব, নারীর প্রতি সহিংসতা, ঋতুকালীন পরিচ্ছন্নতা ও পুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প থাকলেও, বাবা-মা, অভিভাবক, স্কুল-কলেজ, ধর্মীয় গুরু, সমাজকর্মী, স্থানীয় মতমোড়ল ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই বিষয়গুলো নিয়ে মাথা ঘামান না। কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবার বর্তমান মান খুবই নাজুক। এই পর্যায়ে সেবাদানকারীদের অনুপস্থিতি লক্ষ্যণীয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী ড. দীপু মনি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  ড. মোহাম্মদ শরীফ (এমসিএইচ), লাইন ডিরেক্টর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ওয়েবিনারটিতে কিশোর-কিশোরীরা তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে।

প্রধান অতিথি ডা. দীপু মনি তার বক্তব্যে বলেন, কিশোর-কিশোরীদের সচেতনতা সৃষ্টি করার দায়িত্ব অভিভাবক, শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। বয়:সন্ধিকালের শিশুরা বাবা-মা অথবা তাদের শিক্ষকদের সাথে নিরাপদ যৌন জীবন ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে তেমন কোন কথা বলেনা। স্কুল পর্যায়ে কাউনসিলিং দেয়ার জন্য খুব শীঘ্রই ২ লাখ শিক্ষক কাজ শুরু করবেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (২০১৮) সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশে মোট জনসংখ্যার মধ্যে ২ কোটি ৭৭ লক্ষ কিশোর-কিশোরী। কৈশোরকালে মন ও দেহের যে বৃদ্ধি ঘটে, সেই পরিবর্তনের সাথে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানো শিশু-কিশোরদের মনো-দৈহিক ও মনো-সামাজিক, আবেগীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবর্তন ঘটে।

”কিশোর-কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান অবস্থা” বিষয়ে তথ্য উপস্থাপণ করেছেন নারীপক্ষের সদস্য ও নারীর স্বাস্থ্য এবং প্রজনন স্বাস্ব্য বিষয়ক প্রকল্প পরিচালক সামিয়া আফরিন। বিষয়ের উপর বক্তব্য রেখেছেন বাংলা একাডেমি ফেলো অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি র্গ্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ড.সাবিনা ফাইজ এবং পিপিআরসি’র কথা রিসার্চ এসোসিয়েটের পরিচালক উমামা জিল্লুর। সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী প্রধান শাহীন আনাম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা