রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন, নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-জল্পনা চলছেই। এখন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে এরপর কী হবে? কে নেবেন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব?
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে দেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপ্রধানের সব সাংবিধানিক দায়িত্ব তার ওপরই বর্তাবে।
বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে তিনিই সাময়িকভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তবে এই দায়িত্ব স্থায়ী হবে না।
সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষ হবে এবং স্পিকার তার সাংবিধানিক দায়িত্বে ফিরে যাবেন।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেন, “সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে—‘রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ক্ষেত্রমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত, কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।”
এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে সেটি পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
দেশে ১৯৯১ সালে সংবিধানের ১২তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা চালু হওয়ার পর সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮ অনুসারে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান চালু হয়। তবে এই বিধান চালু হওয়ার পর থেকে মাত্র একবার রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি আবদুর রহমান বিশ্বাসকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিয়েছিল। ওই সময় বিরোধী দল আওয়ামী লীগ প্রার্থী করেছিল বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস বিজয়ী হন। পরবর্তী সময়ে প্রতিবারই একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।





































