kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

বিমানবন্দর সড়ক

ধীরে উধাও আনিসুল হকের সেই সবুজ বাতি

লায়েকুজ্জামান   

৬ মার্চ, ২০২১ ০৩:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধীরে উধাও আনিসুল হকের সেই সবুজ বাতি

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বনানী পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে এবং মাঝখানে স্ট্রিট লাইটের খুঁটি জড়িয়ে লাগানো হয়েছিল সবুজ বাতি। এ ছাড়া এই সড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ, ফুলের টব, দেশি-বিদেশি দৃষ্টিনন্দন ফুলের গাছ লাগানো হয়েছিল। সড়কের পাশে স্থাপন করা হয়েছিল এলইডি টিভি। ডিজিটাল যাত্রীছাউনি, আলপনাসহ ইট-পাথরের তৈরি নানা স্থাপনা, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যও স্থাপন করা হয়েছিল। বাকি ছিল যাত্রীছাউনিতে ওয়াই ফাই সংযোগ, এটিএম বুথ ও ঝরনা স্থাপন।

২০১৫ সালে আনিসুল হক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে ২০১৬ সালের  নভেম্বরে শুরু করা হয় সড়কটি সজ্জিতকরণের কাজ। মেয়র আনিসুল হক ‘এয়ারপোর্ট রোডের সৌন্দর্যবর্ধন’ শিরোনামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে শুরু করেন কাজটি। কাজটি শেষ করার সময় ধরা হয়েছিল ২০১৭ সালের  মার্চ মাস।

আর  প্রকল্প ব্যয় ছিল ৯০ কোটি টাকা। ‘বিলাই ওয়ার্ল্ড’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পের টাকার জোগান দেয়। কাজটি তত্ত্বাবধান করে সরকারের সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়।

কিন্তু ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর মেয়র আনিসুল হকের আকস্মিক মৃত্যুতে ভাটা পড়ে বিমানবন্দর সড়ক দৃষ্টিনন্দন করার উদ্যোগ। ধীরে ধীরে উধাও হয়ে যায় এই সড়কের সবুজ বাতি। সড়কটির নান্দনিক অন্যান্য আয়োজনও ম্লান হতে থাকে। সড়কটির নান্দনিক উদ্যোগ বর্তমানে অনেকটাই বিবর্ণ।

গতকাল বুধবার সরেজমিনে বিমানবন্দর সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, ডিজিটাল যাত্রীছাউনির কয়েকটির ভেতরে যাত্রী বসার স্থানে রাখা হয়েছে ঠিকাদারের নানা জিনিসপত্র।  সড়কের কোথাও দেখা যায়নি সবুজ বাতি। চলছে না এলইডি টিভি। পরিচর্যার অভাবে ধুলার মোটা আস্তর জমেছে বিদেশ থেকে আনা দামি গাছগুলোয়। পানির অভাবে নিশ্চিহ্ন হয়েছে অনেক ফুলগাছ। এটিএম বুথ বসানোর কথা থাকলেও তা আর বসানো হয়নি। সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে শোভাবর্ধন করা আলপনাও আর নেই। সেখানে এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়।

দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সড়কে সবুজ বাতির প্রকল্পটি ছিল সড়ক বিভাগের, আমাদের নয়। আমরা ওই সড়কে এলইডি বাতি স্থাপন করছি। আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।’

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সড়ক বিভাগ ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সবুজ বাতিতে সড়কের আলো কম হচ্ছিল বলে সবুজ বাতি সরিয়ে সাদা বাতি লাগানো হয়েছে। সড়ক নান্দনিক করার কোনো কর্মসূচিই বাদ দেওয়া হয়নি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা