kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

আন্দোলন টেকসই করাই বড় চ্যালেঞ্জ বিএনপির

এনাম আবেদীন   

৬ মার্চ, ২০২১ ০২:২২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আন্দোলন টেকসই করাই বড় চ্যালেঞ্জ বিএনপির

ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারলেও আন্দোলন টেকসই করাই বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলটির নেতাকর্মীদের মতে, ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনে মাঝে মধ্যে দল চাঙ্গা হচ্ছে। কিন্তু  শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে না পারলে আন্দোলনে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে মাঠ পর্যায়ের নেতারাও চিন্তিত বলে জানা যায়।

যদিও সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আন্দোলনের কর্মকৌশল দলটি এখনো ঠিক করেনি। আলোচনা করে জানা গেছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের অন্তত বছরখানেক আগে ওই কৌশল তৈরি করা হতে পারে। তবে তার আগে সংগঠন গোছানোর পাশাপাশি দলের নেতৃত্বের কাঠামো ঠিক করা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোভাব পর্যবেক্ষণ এবং বাংলাদেশে ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র বলে পরিচিত সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ন্যূনতম নিরপেক্ষ অবস্থান তৈরি করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে সরকারবিরোধী বৃহত্তর জোট গঠনও বিএনপির জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ। কারণ সরকারের বাইরে থাকা দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে আন্দোলনে নতুন মাত্রা আসবে না। আবার ওই সব ইস্যু নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শুধু গণ-আন্দোলনে সরকারকে নমনীয় করাও কঠিন হবে বলে বিএনপি মনে করে।

পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের আন্দোলন, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বর্জন ও প্রতিহত করা, ২০১৫ সালে লাগাতার সরকারবিরোধী আন্দোলন, জামায়াত নেতাদের ফাঁসির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি পক্ষে নেওয়া—কোনোটাতেই সফল হতে পারেনি বিএনপি। অথচ এর প্রতিটি ইস্যুতেই সরকার বেশ নাজুক অবস্থায় পড়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আছে।

বলা হচ্ছে, গত ১৩ বছরে বেশ কয়েকবার বিপদে পড়েও সঠিক কর্মকৌশল প্রণয়ন ও প্রশাসনের সহায়তায় সরকার শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছে। ফলে ভবিষ্যতেও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে সরকার টিকে থাকতে পারবে কি না— বিএনপির পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও এটি এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে গত এক যুগে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৫০ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ১২ লাখ লোককে আসামি করা হয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মতে, ‘অনেক কিছু দিয়ে সরকার বিশাল একটি সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি করেছে। প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্তরে সরকারকে রক্ষার জন্য তারা একযোগে কাজ করছে। ফলে তাদের নিরপেক্ষ অবস্থনে নেওয়া বিএনপির জন্য কঠিন কাজ।’ তিনি বলেন, ‘মানুষের মৌলিক অধিকার এখন ফৌজদারি অপরাধে পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিএনপির আন্দোলনে টিকে থাকা কঠিন কাজ। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিএনপির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দুর্বলতাও কম নয়।’

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতে, ‘সময় সময় বিএনপি আন্দোলন ভালোই করে। কিন্তু ইস্যুভিত্তিক ও বিচ্ছিন্ন এ রকম আন্দোলন দিয়ে হবে না। তাদের শক্ত হয়ে মাঠে থাকতে হবে। টেকসই আন্দোলন করতে হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘সরকারের দমন-পীড়ন তো থাকবেই। কিন্তু তার মধ্য থেকে আন্দোলনের কৌশল তাদের খুঁজে বের করতে হবে। অন্য কোনো দেশ বা শক্তি বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না।’  

আলজাজিরায় প্রকাশিত ডকুমেন্টারি এবং লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনা-পরবর্তী পরিস্থিতিও সরকারের জন্য কিছুটা বিব্রতকর বলে কোনো কোনো পর্যবেক্ষক মনে করেন। এরই মধ্যে জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলসহ বিভিন্ন ইস্যুতেও বিএনপি রাজনীতিতে কিছুটা সরব হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির মধ্যে আলোচনা উঠেছে, এসব আন্দোলনে সরকার নমনীয় হবে না। চাপে ফেলতে হলে টেকসই আন্দোলন করতে হবে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিজস্ব গতি ও চরিত্রের মধ্য দিয়ে আন্দোলন টেকসই হয়। ইমপোজ করে বা ছকে ফেলে কখনো আন্দোলন হয় না।’ তাঁর মতে, ‘১১ দফা উত্থাপনের পর ৬ দফা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে সামনে এসেছে। ফলে সময়ই বলে দেবে আন্দোলন কখন টেকসই হবে।’ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলনে বড় বাধা সরকারের অগণতান্ত্রিক ও অসহিষ্ণু আচরণ। ডিজিটাল আইনসহ আরো যেসব কালাকানুন তারা অপব্যবহার করছে সেগুলো ভয়াবহ। অবশ্য সময় হলে এসব বাধা আমরা কাটিয়ে উঠব।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মতে, ‘সরকারকে নমনীয় করতে হলে আন্দোলন টেকসই করতে হবে এমন চিন্তা বিএনপির আছে। তবে কখন সেই আন্দোলন হবে সেটি সময়ই বলে দেবে।’ তিনি বলেন, ‘জনসমর্থন, সংগঠন এগুলো কোনোটিই আন্দোলনের পথে বাধা নয়। জনসমর্থন না থাকলে সরকারকে রাতে নির্বাচন করতে হতো না।’

‘বাধা হচ্ছে, প্রশাসনের সহায়তায় সরকার বিএনপিকে মাঠে নামতে দিচ্ছে না। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে তারা ভয় পাচ্ছে। কিন্তু একসময় জনগণ জেগে উঠবে। আন্দোলনও তখনই টেকসই হবে,’ বলেন ইকবাল হাসান টুকু।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা