kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন

যেসব অভিযোগে ডিজিটাল আইনে মামলা

অনলাইন ডেস্ক   

৪ মার্চ, ২০২১ ১৭:২৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যেসব অভিযোগে ডিজিটাল আইনে মামলা

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যখন প্রণয়ন করা হয়- তখন থেকেই এই আইন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে। কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে এ আইন নিয়ে সমালোচনার মাত্রা আরো বেড়েছে। ডিজিটাল আইনের অপ্রয়োগ নিয়ে বাংলাদেশে সোচ্চার হয়েছে অনেকেই। এ আইন বিলুপ্তিরও দাবি উঠেছে। 

করোনা মহামারি শুরুর পর বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার সংখ্যা বেড়ে গেছে। কী অভিযোগে এসব মামলা হচ্ছে চলুন জেনে নেওয়া যাক- 

বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে ২০২০ এর ৫ মে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে র‌্যাব-৩। তাদের একজন মুশতাক আহমেদ। এজাহারে বলা হয়েছে, ‘তিনি ‘আই এম বাংলাদেশি’ পেজের এডিটর। তিনিও গুজব ছড়িয়েছেন। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক চ্যাটিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে।’ ২৫ ফেব্রুয়ারি কারাগারে তার মৃত্যু হয়। 

ব়্যাবের মামলার গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের একজন কার্টুনিস্ট আহমেদ কবীর কিশোর। তার ফেসবুক পাতায় রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট, করোনা, সরকারদলীয় বিভিন্ন নেতার কার্টুন দিয়ে গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে এজাহারে বলা হয়। এছাড়া তার ব্যবহৃত ফোনে তাসনিম খলিল, শায়ের জুলকারনাইন, শাহেদ আলম ও আসিফ মহিউদ্দিনের সঙ্গে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক চ্যাটিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানানো হয়। ৪ মার্চ তিনি জামিনে মুক্তি পান। 

ব়্যাবের মামলায় গ্রেপ্তার আরেকজন দিদার ‘রাষ্ট্রচিন্তা’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য। ব্রিটিশ মানবাধিকার সংস্থা ‘আর্টিকেল ১৯’ বলছে, দিদার করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়তে বাংলাদেশ সরকার যে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে, তা মনিটর করার জন্য গঠিত একটি কমিটির সদস্য। নিজের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনেস দিদার অভিযোগ করেন, সবচেয়ে গরিব মানুষেরাই সরকারি ত্রাণের সবচেয়ে কম অংশ পেয়েছেন। সম্প্রতি তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। 

ব়্যাবের মামলার ১১ আসামির একজন সুইডেন প্রবাসী সাংবাদিক তাসনিম খলিল। তার সম্পর্কে এজাহারে বলা হয়েছে, তার ফেসবুক আইডিতে জাতির জনক, মুক্তিযুদ্ধ, করোনাভাইরাস, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান ও বাহিনী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার বা বিভ্রান্তি ছড়াতে অপপ্রচার বা গুজবসহ বিভিন্ন ধরনের পোস্ট পাওয়া গেছে। 

২০২০ সালের ৯ মার্চ ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় ফটো সাংবাদিক কাজ‌লসহ ৩২ জনের বিরু‌দ্ধে ডি‌জিটাল আইনে মামলা করেন মাগুরা-১ আস‌নের সাংসদ সাইফুজ্জামান শেখর। যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার ওয়েস্টিন হোটেলকেন্দ্রিক কারবারে ‘জড়িত’দের নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে এই মামলা করেছিলেন তিনি। এছাড়া কাজলের বিরুদ্ধে হাজারীবাগ ও তেজগাঁও থানায়ও ডিজিটাল আইনে আরো দুটি মামলা হয়। 

ফেসবুকে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিমের মৃত্যু নিয়ে ‘অবমাননাকর’ পোস্ট দেওয়ায় ডিজিটাল আইনের মামলায় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষক সিরাজুম মনিরাকে ২০২০ সালের ১৩ জুন গ্রেপ্তার করা হয়। পোস্টটি দেওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি তা মুছে দিয়েছিলেন। 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক কাজী জাহিদুর রহমানকে গতবছর ১৮ জুন গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা মো. গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিমকে নিয়ে ফেসবুকে ‘আজেবাজে কথা লিখে কটূক্তির অভিযোগে’ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বার্তা সংস্থা ডিপিএ বলছে, ২ জুন প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেছিলেন। যদিও নাসিমের নাম উল্লেখ করেননি। পোস্টটি তিনি পরে মুছেও দেন। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে ময়মনসিংহের ভালুকায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা এক মামলায় নবম শ্রেণির ছাত্র মো. ইমনকে ২০২০ সালের ২০ জুন গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে কিশোর শোধনাগারে পাঠানো হয়। ভালুকার ওসি জানিয়েছেন, ইমন পরে পোস্টটি মুছে ক্ষমা চেয়েছিল। 

সুশান্ত দাশ গুপ্ত ‘আমার হবিগঞ্জ’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। স্থানীয় সাংসদ আবু জাহিরের অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রকাশের জেরে তার বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ২০ মে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সায়েদুজ্জামান জাহির। এর পরদিন সুশান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৪ জুন তিনি জামিন পান। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা