kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

জাতীয় সংলাপে বিশেষজ্ঞরা

নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মার্চ, ২০২১ ১৬:২৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ আহ্বান

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার আলোকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রণীত নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা নারীকে সাইবার সন্ত্রাস ও উগ্রবাদী আগ্রাসন থেকে রক্ষা এবং ধর্মীয় গোষ্ঠির নারী বিরোধী প্রচারণা বন্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার ইউএন উইমেন’র সহযোগিতায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) আয়োজিত জাতীয় সংলাপে অংশ নিয়ে এই আহ্বান জানান তারা। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রণীত নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৯-২২ বিষয়ক সংলাপে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বিএনপিএস’র নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর। আলোচনায় অংশ নেন প্রফেসর ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, ইউএন উইমেন’র প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট তানিয়া শারমিন, জে-ার বিশেষজ্ঞ শিপা হাফিজা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ড. সায়েমা হক বিদিশা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সালমা আক্তার, ব্রাক প্রতিনিধি তাহমিনা ইয়াসমীন, অ´ফামের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মাহফুজা আক্তার, আদিবাসী নেত্রী ফাল্গুনী ত্রিপুরা প্রমুখ। বিএনপিএস’র উপ-পরিচালক শাহনাজ সুমীর সঞ্চালনায় সূচনা বক্তব্য উত্থাপন করেন মানবাধিকার ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট তৌফিক আল মান্নান।

সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবীর বলেন, পৃথিবীব্যাপী নানা ধরনের সহিংসতা বাড়ছে। মানুষ কোথাও জাতিগত সহিংসতার শিকার হচ্ছে, কোথাও ধর্মীয় সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এই সহিংসতার কারণে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে নারী ও শিশু। তিনি আরো বলেন, আমরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নারীর প্রতি ভয়াবহ সহিংসতা দেখেছি। এই করোনাকালেও ঘরে-বাইরে নারীরা নির্যাতন ও বাল্য বিয়ের শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি আফগানিস্তানে উগ্র সন্ত্রাসবাদীরা তিনজন নারী গণমাধ্যম কর্মীকে হত্যা করেছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরী।

ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, একটি সহিংসতামুক্ত সমাজ ও পৃথিবী গড়তে নারীরাও বিভিন্নভাবে ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাই শুধু বাংলাদেশে নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মপরিকল্পনা করলে হবে না। উন্নত দেশগুলোকেও কাজটি করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে উন্নয়ন নারী বান্ধব নয়। বরং উন্নয়ন কর্মকা- দ্বন্দ্ব সংঘাত তৈরি করছে। যার শিকার হচ্ছে নারীরা।

নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে বাংলাদেশে অগ্রগতি ইতিবাচক উল্লেখ করে ইউএন উইমেন প্রতিনিধি তানিয়া শারমিন বলেন, প্রকৃতি ও মানব সৃষ্ট দূর্যোগে নারীর সুরক্ষার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রণীত কর্মপরিকল্পনা আলোকে বাংলাদেশে জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে যে কোন দূর্যোগ পরিস্থিতিতে নারী ইস্যুগুলো গুরুত্ব পাবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ড. সায়েমা হক বিদিশা হক বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ ১২টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয় ভিত্তিক জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আওতায় বাজেটে বরাদ্দ দিতে হবে। এসডিজি -৪ ও ১৬-র আওতায় বরাদ্দ আনা যেতে পারে। এছাড়া সহিংসতার শিকার নারীর আইনি সহায়তাসহ অর্থনৈতিক স্বালম্বিতার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

শিপা হাফিজা বলেন, নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা  কো-অডিনেশন কমিটি, ফোকাল পয়েন্টসহ প্রত্যেককেই জেন্ডার সংবেদনশীল হতে হবে।

সংলাপে বক্তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নির্দেশনার আলোকে যৌন নির্যাতন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা থেকে সুরক্ষা, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাসহ সকল ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নারীকে যথাযথ সম্মান প্রদান এবং সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুর উপশম ও পুনবার্সনের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা