kalerkantho

রবিবার। ৫ বৈশাখ ১৪২৮। ১৮ এপ্রিল ২০২১। ৫ রমজান ১৪৪২

প্রিমিয়ার লিজিং এমডির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক    

৪ মার্চ, ২০২১ ০৩:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রিমিয়ার লিজিং এমডির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল হামিদ মিয়ার বিরুদ্ধে কমিশন খেয়ে ঋণ দেওয়াসহ বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর এসব অপকর্ম ঢাকতে সহযোগিতা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (বর্তমানে নির্বাহী পরিচালক) মো. শাহ আলম—এই দাবি খোদ প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা এ এস এম শফিকুল ইসলামের। সম্প্রতি এ বিষয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি)। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রিমিয়ার লিজিংয়ের এমডি বলেন, এসব বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

উদ্দেশ্যমূলকভাবে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে দাবি করে আব্দুল হামিদ মিয়া বলেন, ‘যেসব ঋণ অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেসব আমি এখানে নিয়োগ পাওয়ার আগেই বিতরণ হয়েছে। তা ছাড়া যে ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, ওই নামে কোনো পরিচালক প্রিমিয়ার লিজিংয়ে কখনো ছিলেন না। যিনি ছিলেন তাঁর নাম এ এস এম শফিকুল ইসলাম নয়, এস এম শফিকুল ইসলাম।’

জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠান এ এস এম শফিকুল ইসলাম। এতে বলা হয়েছে, প্রিমিয়ার লিজিংয়ের এমডি আব্দুল হামিদ মিয়া বিভিন্ন ভুয়া লোক সাজিয়ে, ভুয়া দলিলের মাধ্যমে লোন দিয়ে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। এই দুর্নীতি-অনিয়ম থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন এবং অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের সাবেক জিএম শাহ আলমকে প্রতি মাসে টাকা দিয়ে এসব অপকর্ম করে থাকেন। অনেক ব্যক্তি বা কম্পানির লোকদের ২৫ শতাংশ কমিশন দিয়ে ঋণ নিতে হয়েছে।

আব্দুল হামিদ মিয়া বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছেন উল্লেখ করে চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তিন মাস পর পর পরিদর্শনে এলে তাদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে ফেলা হয়।

জানা গেছে, নানা অব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটি আমানতকারীদের টাকাও ফেরত দিতে পারছে না। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত ১ ডিসেম্বর প্রিমিয়ার লিজিংয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের ঘটনা এটিই প্রথম। এই অবস্থায় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চাইছেন আব্দুল হামিদ মিয়া। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি যেন কোনোভাবেই পদত্যাগ করতে না পারেন, সেই বিষয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির পর্ষদকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০০১ সালে যাত্রা শুরু করে প্রিমিয়ার লিজিং। ২০১৬ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে এমডির দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুল হামিদ মিয়া। এর আগে ন্যাশনাল ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন তিনি। তাঁর সময়ে প্রিমিয়ার লিজিংয়ের আর্থিক সূচকে অবনতি হয়েছে। সর্বশেষ নিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটির মোট সম্পদের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় এক হাজার ৬৯৮ কোটিতে, ২০১৭ সালে যা ছিল এক হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির আমানত তিন বছর আগের ৯৬৭ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৮১৪ কোটিতে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা