kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫ বাস্তবায়ন জরুরি’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০২১ ১৮:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫ বাস্তবায়ন জরুরি’

দেশের প্রায় ১৭ লক্ষ গৃহকর্মীর অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের শ্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারসহ সকল পক্ষকে একসাথে কাজ করতে হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এটি নিশ্চিত করতে হলে যত দ্রুত সম্ভব গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫ বাস্তবায়ন জরুরি।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২১ উপলক্ষে বুধবার (৩ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশের গৃহকর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ: নীতি বাস্তবায়নে সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা একথা বলেন। গণসাক্ষরতা অভিযান ও অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে সিকিউরিং রাইটস ফর উইমেন ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স (সুনীতি) প্রকল্পের আওতায় মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কে. এম. আবদুস সালাম, সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, রাশেদা কে চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক, গণসাক্ষরতা অভিযান, শাহীন আকতার ডলি, নির্বাহী পরিচালক, নারী মৈত্রী ও সদস্য, কনসালটেটিভ ফোরাম, সিকিউরিং রাইটস প্রজেক্ট, আবুল হোসাইন, ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী, গৃহকর্মী অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা গৃহকর্মীবৃন্দ।

সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন পিনাস আক্তার, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার, অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ২০১৬ - ২০১৭ সালের শ্রম শক্তি জরিপ এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের কর্মজীবি নারীদের একটি বড় অংশ (১.৬৯ মিলিয়ন মানুষ) গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োজিত যাদের প্রায় ৯০% নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত নেই।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার ষ্টাডিজ -বিলস পরিচালিত একটি জরিপে দেখা যায়, ২০২০ সালে (জানুয়ারি- ডিসেম্বর) মোট ৪৪ জন গৃহকর্মী নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং ১২ জনের রহস্যজনক মৃত্যুসহ মোট ১৬ জন নিহত হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ১২ জন। এছাড়া শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে চরমভাবে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ১২ জন, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন ৪ জন। এইসব ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানায় একটি করে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে কে. এম. আবদুস সালাম বলেন, সরকারী পর্যায়ে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫ নিয়ে যথেষ্ট কাজ হচ্ছে। বর্তমানে এ বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য সরকারের মনিটরিং সেল আছে। গৃহকর্মী সুরক্ষা কল্যাণ নীতিটি বাস্তবায়নে এখনও কিছুটা ঘাটতি রয়েছে।

আবুল হোসাইন বলেন, নীতিমালাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন চ্যালেঞ্জ নেই, প্রতিবন্ধকতা রয়েছে নীতিটি বাস্তবায়নের মানসিকতায়। ২০১৫ সালে ট্রেড ইউনিয়নের সুপারিশের ভিত্তিতেই নীতিটি তৈরী হয় কিন্তু আজ পর্যন্ত এটির কোন বাস্তবায়ন নেই।

উপস্থিত অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, মো: আলতাফ হোসেন, উপসচিব, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ; নাজমা ইয়াসমিন, পরিচালক , বিলস; শরীফুল হক, উপ-পরিচালক, এনএসডিএ, দিদারুল আলম চৌধুরী, পরিচালক, ইউসেপ বাংলাদেশ প্রমুখ।

বাড্ডা থেকে আসা গৃহকর্মী আয়েশা বলেন, অনলাইনে কাজ করে তিনি এখন বেশ ভাল আয় করেন ও ভাল আছেন। গৃহকর্মী হাওয়া বলেন আমরা ভাগ্যের কারনে ভেসে বেড়াচ্ছিলাম। সুনীতি প্রকল্পের প্রশিক্ষণ পেয়ে আমরা আশা পাই যে একদিন হয়ত আমরা একটু ভাল খাওয়া-পরা পাব।

অনুষ্ঠানের সভাপতি অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর দীপংকর দত্ত বলেন, গৃহকর্মকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাজ হিসেবে অন্তর্ভুক্তি ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায়পূর্বক নীতি নির্ধারক, সরকার ও সমাজে গৃহকর্মের সম্মানজনক অবস্থান তৈরী করে দিতেও এ প্রকল্পটি কাজ করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা