kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

তুচ্ছ ঘটনার মামলায় আপসের ওপর গুরুত্ব আপিল বিভাগের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০২১ ২১:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তুচ্ছ ঘটনার মামলায় আপসের ওপর গুরুত্ব আপিল বিভাগের

তুচ্ছ ঘটনার মামলায় আসামিকে সাজা না দিয়ে নিম্ন আদালতের বিচারকদের আপস-মীমাংসা করার ওপর জোর দিতে বলেছেন আপিল বিভাগ। পঁয়ত্রিশ বছর আগে গাজীপুরে এক তুচ্ছ ঘটনার জেরে দুই প্রতিবেশীর করা মামলায় একজনকে নিম্ন আদালতে সাজা দেওয়া ও তা হাইকোর্টে বহাল রাখায় উষ্মা প্রকাশ করে আপসের কথা বললেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত আাপিল বিভাগ। আদালত বলেছেন, এসব ক্ষেত্রে আসামিকে একবছরের জন্য কারাগারে না পাঠিয়ে প্রবেশনে রাখা সমীচীন ছিল। 

আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ রায় দিয়েছেন। রায়ের অনুলিপি মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, আমরা দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি, বিচারিক আদালতের বিচারক ও আপিল আদালতের বিচারক সম্পূর্ণরূপে ভুলে গেছেন যে, আমাদের দেশে ‘প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০’ নামে একটি আইন আছে এবং বর্তমান মামলার প্রেক্ষাপটে সেই আইনের ৫ ধারা প্রয়োগযোগ্য। যখনই বিচারক ৩২৫ ধারার অপরাধে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করলেন তখনই তাঁর উচিত ছিল ‘প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০’ -এর ৫ ধারা বিবেচনা করা। মামলার বিষয়বস্তু থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এই ঘটনা ঘটেছিল দুই প্রতিবেশীর মধ্যে তুচ্ছ একটা ঘটনার জের ধরে। এইসব ক্ষেত্রে আসামিকে এক বছরের জন্য জেলে না পাঠিয়ে প্রবেশনে রাখা সমীচীন ছিল। এমনকি, যেহেতু দণ্ডবিধির ৩২৩ এবং ৩২৫ ধারা আপসযোগ্য আপরাধ এবং যেহেতু দুই পক্ষ হচ্ছে পরস্পর আত্মীয়/প্রতিবেশী। কাজেই মামলাটি আপস-মীমাংসা করা যুক্তিযুক্ত ছিল। আমরা আরো দুঃখের সাথে বলতে চাচ্ছি যে, এ ধরনের মামলার ‘প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০’ প্রয়োগ না করা শুধু দুঃখজনকই নয় প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। 

রায়ে বলা হয়, নিম্ন আদালতের দুই জন বিচারক এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক কেউই ‘প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০’ অথবা আপস-মীমাংসার ব্যাপারে চিন্তা করেননি এবং দণ্ড ও সাজা বহাল রাখেন।’ 

দেশের সর্বোচ্চ আদালত বলেন, এ মামলায় যদি এই আইন সঠিকভাবে বিচারিক আদালতে প্রয়োগ করা হতো তাহলে এই ধরনের মামলা আপিল বিভাগ পর্যন্ত আসতো না। 

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ১৯৮৬ সালের ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় আসামি আব্দুল মতিনের সাথে বাদী আহমদ আলীর ১০/১২ বছরের নাতি আব্দুল বাকির কথা কাটাকাটির জের ধরে প্রথমে দুইপক্ষের মধ্যে সালিশ-বৈঠক হলেও পরেরদিন দুইপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুইপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়। এনিয়ে মামলা হয়। মামলায় বিচার শেষে ১৯৯৪ সালের ৩১ জানুয়ারি গাজিপুরের আদালত নুর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তিকে দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারার অপরাধের জন্য এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩২৩ ধারার অপরাধের জন্য দুই হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। অন্যান্য আসামিদের দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারায় আর্থিক জরিমানা করা হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন। এ আপিল ২০০৫ সালের ৭ জুলাই খারিজ করে দেয় ওই আদালত। পরবর্তীতে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ২ মার্চ আসামিপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর নুর মোহাম্মদ আপিল বিভাগে আবেদন করেন। এ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আবেদনটি নিষ্পত্তি করে উল্লেখিত রায় দেন আপিল বিভাগ। 

আদালত বলেছেন, নুর মোহাম্মদের দোষী সাব্যস্তের আদেশ এবং জরিমানা বহাল থাকবে। তবে নুর মোহাম্মদ যতদিন (৩১ দিন) কারাভোগ করেছেন, ততদিনই তার দণ্ড হিসেবে গণ্য হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা