kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বললেন

‘শহীদ তাজুলের দেখানো পথে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার জন্য আজও লড়াই চলছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ মার্চ, ২০২১ ১৯:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘শহীদ তাজুলের দেখানো পথে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার জন্য আজও লড়াই চলছে’

স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলনের মহান শহীদ কমরেড তাজুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, শহীদ কমরেড তাজুল ইসলাম বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। শহীদ তাজুলের দেখানো পথে আজও তাঁর কমরেডরা গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে।

সোমবার পুরানা পল্টনে মুক্তিভবনের সামনে নির্মিত অস্থায়ী শহীদবেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদেনের পর অনুষ্ঠিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে প্রথমে সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এরপর একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরাম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), গণফোরাম, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, গণসংগঠন, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ শহীদ তাজুলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

এ সময় সেলিম বলেন, শহীদ তাজুল শ্রমিকশ্রেণির মুক্তিকে চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে তৎকালীন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রামে নিয়োজিত হয়েছিলেন। এ সংগ্রামে তিনি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আজ কমরেড তাজুলের আত্মত্যাগের ৩৭ বছর পরেও দেশের মানুষের ভোটের অধিকার এবং মতপ্রকাশের অধিকার হরণ করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে দেশের মানুষের সংগ্রামে শহীদ তাজুল সর্বদাই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।

সিপিবি সভাপতি সেলিম কুখ্যাত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাগারে বন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে বলেন, এই সকল নিবর্তনমূলক আইন জনগণের নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং বিনাভোটে ক্ষমতায় থেকে অবাধ লুটপাটকে নিরাপদ রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে কারাবন্দি ৭ ছাত্রনেতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দি সকলের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, কমরেড তাজুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পাঠ শেষে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)র সিদ্ধান্ত অনুসারে শ্রমিকশ্রেণির মুক্তির সংগ্রামকে অগ্রসর করার মহান ব্রত নিয়ে আদমজী মিলে বদলি শ্রমিকের চাকরি নেন। আদমজীতে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন ও সংগঠন গড়ে তোলার কাজে তিনি আত্মনিয়োগ করেন। তিনি ছিলেন সিপিবির আদমজী শাখার সম্পাদক ও আদমজী মজদুর ট্রেড ইউনিয়নের নেতা। ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ দেশব্যাপী আহূত শিল্প ধর্মঘট ও হরতালের সমর্থনে আগের দিন মধ্যরাতে আদমজী জুটমিল এলাকায় স্বৈরশাসক এরশাদ সরকারের গুণ্ডাবাহিনীর হামলায় নিহত হন কমরেড তাজুল ইসলাম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা