kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩০ চৈত্র ১৪২৭। ১৩ এপ্রিল ২০২১। ২৯ শাবান ১৪৪২

ছাত্রদলের সমাবেশ পণ্ড, পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ

বিএনপি নেতা পুলিশ সাংবাদিকসহ আহত অর্ধশত, আটক ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ মার্চ, ২০২১ ০২:৪০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ছাত্রদলের সমাবেশ পণ্ড, পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ

ছাত্রদলের কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিপেটা। পরে কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। গতকাল প্রেস ক্লাবের সামনে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দি অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদ এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ডাকা বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।

গতকাল রবিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ কিছুক্ষণ থেমে থেমে চলতে থাকে। পরে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ এবং লাঠিপেটা করে জমায়েত হওয়া নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে বিএনপির উত্তেজিত নেতাকর্মীদের ইটপাটকেল ছুড়তে দেখা গেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মামুন খান, পুলিশ, সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রদলের অন্তত ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এলাকা থেকেও চিকিৎসা নিতে যাওয়া সাতজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো প্রকার অনুমতি না নিয়ে পরিকল্পিতভাবে বিনা উসকানিতে সংঘর্ষের জন্য সমাবেশ করে ছাত্রদল। আর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পুলিশ বিনা উসকানিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ছাত্রদলের কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকে প্রেস ক্লাব এলাকায় ব্যাপক পুলিশের উপস্থিতি ছিল। সকাল ১০টা থেকে প্রেস ক্লাবের ভেতরে জমায়েত হতে শুরু করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে পুলিশ কথা বলতে প্রেস ক্লাবের ভেতরে গেলেও সেখান থেকে কোনো সমাধান আসেনি। সকাল ১১টার দিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে এসে পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ সোহেলকে জানিয়ে দেয়, অনুমতি ছাড়া কোনো সমাবেশ প্রেস ক্লাবের সামনে করা যাবে না। জবাবে বিএনপি নেতারা বলেন, প্রেস ক্লাবে সবাই প্রতিবাদ জানাতে আসেন। তাঁরাও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাবেন। এরপর ১১টার কিছু পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রেস ক্লাবের ভেতর থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে সড়কে অবস্থান নেন। তখন পুলিশ তাঁদের সড়ক থেকে উঠে যেতে বললে তাঁরা রাজি হননি। এর পরই পুলিশ তাঁদের ধাওয়া দিয়ে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত। এই বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়েছিলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে মুহূর্তেই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সাধারণ মানুষ এদিক-সেদিক ছুটতে থাকে। বন্ধ হয় যায় যান চলাচল। পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের ধাওয়াধওয়ির মধ্যেই প্রায় ২০ রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ এবং বেপরোয়া লাঠিপেটা করা হয়।

পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা শহরের যেকোনো জায়গায় অনুষ্ঠান করতে হলে ডিএমপি কমিশনারের অনুমতি নিতে হয়। ছাত্রদল কর্মসূচি করতে অনুমতি নেয়নি। তাদের আমরা সকালে জানিয়েছি, আপনারা অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি করেন। সেটা না করে প্রেস ক্লাবের এক ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এসে পুলিশের ওপর হামলা করে, প্রেস ক্লাবের ভেতর থেকে ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের সাত-আটজন সদস্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া কয়েক ব্যক্তিকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আমরা খেয়াল করেছি, প্রেস ক্লাবের ভেতরে কোনো ইট নেই। তাহলে এত ইট এলো কোত্থেকে? তার মানে এই—তারা ইট সংগ্রহ করেছে এবং পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা করেছে। এর জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা পুুলিশের কাছে সমাবেশের অনুমতির জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু আপনারা জানেন, তারা আমাদের অনুমতি দেয় না। আমরা তো আর মারামারি করতে সেখানে যাইনি, পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শুরুর আগেই হামলা করেছে। সংঘর্ষে ছাত্রদলের ৩০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে ঢাকা মেডিক্যালে গেলে সেখান থেকেও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আকরম খাঁ হলে জিয়া পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে অংশ নিতে আসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘শাহবাগে আপনারা দেখেছেন কিভাবে সাধারণ ছাত্রদের ওপর পুলিশ হামলা চালিয়েছে। আজকে তার প্রতিবাদে প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ পুলিশ করতে দেয়নি। প্রতিবাদ করা যাবে না—এটাই যদি হয়, তাহলে তারা কেন বলে এ দেশ গণতান্ত্রিক দেশ?’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভেতরে পুলিশের টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান।

ঢাকায় পুলিশি হামলার প্রতিবাদে  চট্টগ্রামে ছাত্রদলের মিছিল

ঢাকায় ছাত্রদলের সমাবেশে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল তাত্ক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে। জিয়াউর রহমানের বীর-উত্তম খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সমাবেশে পুলিশ হামলা চালায়। এই হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম ও সদস্যসচিব শরিফুল তুহিনের নেতৃত্বে তাত্ক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

গতকাল দুপুরে বিক্ষোভ মিছিলটি ওয়াসা মোড় থেকে শুরু হয়ে নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকায় দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনে গিয়ে শেষ হয়।

ছাত্রদলের তিন নেতাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তিন নেতাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। যাঁদের তুলে নেওয়া হয়েছে তাঁরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, স্যার এএফ রহমান হল ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হায়াত মোহাম্মদ জুলফিকার জেসান এবং সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্রদল নেতা আতিক মোর্শেদ।

গত রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী সাংবাদিকদের কাছে ছাত্রদলের এই তিন নেতাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা