kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩০ চৈত্র ১৪২৭। ১৩ এপ্রিল ২০২১। ২৯ শাবান ১৪৪২

সময়মতো টিকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

তৌফিক মারুফ   

১ মার্চ, ২০২১ ০২:৩৭ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সময়মতো টিকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

আগামী ৩০ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগেই দেশের সব শিক্ষক ও ১৮ বছরের ওপরের বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রবিবার এই ঘোষণার পরপরই নড়েচড়ে বসেন টিকার দায়িত্বে নিয়োজিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। চলমান টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি কিভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিত করা যাবে, তা নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাঁদের মধ্যে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, টিকার জোগান অনেকটাই ঝুলে গেছে। এতে করে চলমান টিকাদান কার্যক্রম নিয়েই তাঁরা একরকম হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্যে এখন কিভাবে মার্চ মাসের মধ্যেই সব শিক্ষক ও ১৮ ঊর্ধ্ব শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিত করা যাবে, সেটা বড় চিন্তার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের মাধ্যমে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে আরো তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আগের চুক্তি সম্প্রসারণ, নাকি নতুন করে চুক্তি হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি বলে জানা গেছে। এর আগে বেক্সিমকোর মাধ্যমে সেরাম থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা কিনেছে সরকার, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত হাতে পাওয়া গেছে ৭০ লাখ ডোজ। চুক্তি অনুসারে বেক্সিমকো সেরাম থেকে প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা এনে সরকারকে দেওয়ার কথা রয়েছে।

টিকা নিয়ে সংকটের কথা স্বীকার করে স্বাস্থ্যসচিব (সেবা বিভাগ) মো. আব্দুল মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘টিকা পাওয়া নিয়ে কিছুটা ক্রাইসিস তো আছেই। আমরা সেরাম থেকে আরো তিন কোটি ডোজ টিকা এনে দেওয়ার জন্য বেক্সিমকোকে বলেছি। তারা চেষ্টা করছে। কিন্তু সেরামেও টিকার ক্রাইসিস আছে। ফলে বেক্সিমকো কখন কতটুকু টিকা আনতে পারবে, সেটা আগেভাগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘টিকার জন্য তাগাদা দিয়ে আমরা ইতিমধ্যে বেক্সিমকোকে চিঠি দিয়েছি। তাদের কাছে আমাদের মার্চ নাগাদ ৮০ লাখ ডোজ টিকা পাওনা হয়েছে। তারা আমাদেরকে মৌখিকভাবে মার্চের প্রথম সপ্তাহে ৪০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। কিন্তু সেটা কবে নাগাদ হাতে পাব তা এখনো নিশ্চিত নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘কোভ্যাক্স থেকে মার্চ নাগাদ টিকা আসার কথা রয়েছে। কিন্তু দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। এর মধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছে এই মার্চের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিত করতে। আমরা সেগুলো মাথায় রেখে পরিকল্পনা করছি। কিন্তু সব কিছুই নির্ভর করছে টিকা হাতে পাওয়ার ওপর।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘টিকা পরিস্থিতি নিয়ে আজও (গতকাল) আমরা একটি সভা করেছি। সেখানে পুরো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। টিকা হাতে পেলেই সব কিছু ভালোভাবে করা যাবে। আশা করছি আমরা সেটা পারব।’

নাম প্রকাশে অনচ্ছুিক সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, গত মাসে সেরাম থেকে ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসার কথা ছিল। কোভ্যাক্স থেকেও বড় একটি অংশ আসার কথা ছিল। কিন্তু সেরাম থেকে এসেছে ২০ লাখ, অর্থাৎ ৩০ লাখ ডোজ ঘাটতি। আর কোভ্যাক্স থেকে তো মোটেই আসেনি। অথচ ওই টিকার হিসাব ধরেই পরিকল্পনা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা এখন ঠিক রাখা যাচ্ছে না। চাহিদা থাকলেও বিভিন্ন কৌশলে টিকাদান নিয়ন্ত্রিত রাখতে হচ্ছে। তা না হলে মানুষের যে ভিড় ছিল, তাতে গত এক মাসেই দিনে দুই লাখ ডোজ করে প্রায় ৬০ লাখ ডোজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেক সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত দেশে এসেছে মোট ৯০ লাখ টিকা, যার মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ টিকা দেওয়া শেষ। হাতে আছে ৬০ লাখ ডোজ। ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী মাসের ৭ তারিখ অর্থাৎ আর ৩৮ দিনের মাথায় দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু করতে হবে। তাই এপ্রিলের জন্য কমপক্ষে ৩০ লাখ ডোজ টিকা হাতে রাখতেই হবে। এ ছাড়া মার্চ মাসে দিনে দুই লাখ ডোজ করে হলেও সাধারণ মানুষের জন্য কমপক্ষে ৬০ লাখ ডোজ টিকা লাগবে। আর প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে শিক্ষক ও ১৮ ঊর্ধ্ব শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৬০ লাখ ডোজ টিকার দরকার হবে। ফলে চলতি মাসে টিকা লাগবে এক কোটি ২০ লাখ ডোজ। এপ্রিলের দ্বিতীয় ডোজের জন্য লাগবে ৩০ লাখ। আর ওই মাসে প্রথম ডোজ চালু রাখতে দরকার হবে ৬০ লাখ ডোজ। সব মিলিয়ে চলতি মাসেই হাতে টিকা থাকা দরকার কমপক্ষে দুই কোটি ১০ লাখ ডোজ। কিন্তু আছে মাত্র ৬০ লাখ ডোজ। চুক্তি অনুসারে সেরাম থেকে মার্চের ৫০ লাখ ডোজ ও ফেব্রুয়ারির বকেয়া ৩০ লাখ ডোজ এলেও বাকি এক কোটি ৩০ লাখ ডোজ কিভাবে জোগাড় হবে, সেটা এখনো নিশ্চিত নয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (টিকাদান কর্মসূচি) ডা. শামসুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোভ্যাক্সের টিকা কবে পাওয়া যাবে কিংবা সেরাম আবার কবে কত ডোজ টিকা দেবে এখন পর্যন্ত কিছুই জানি না। এর মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিকা দিতে হবে। সব মিলিয়ে বড় একটা চিন্তার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা