kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

‘সাংবিধানিকভাবে বিচার বিভাগ স্বাধীন, বাস্তবে তা কতটুকু আমরা সকলেই জানি এবং বুঝি’

অবসরে গেলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৮:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবসরে গেলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার

প্রায় ২০ বছরের বিচারিক জীবন শেষে অবসরে গেলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। রবিবার ছিল বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারের শেষ কর্মদিবস। সংবিধান অনুযায়ী একজন বিচারপতি ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত বিচারপতি পদে আসীন থাকতে পারেন। বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারের বয়স গতকাল ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তাঁকে অবসরে যেতে হয়েছে। প্রথা অনুযায়ী তাঁকে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বিদায় সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে এই সম্বর্ধনা হয়েছে ভার্চুয়ালি। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও সমিতির পক্ষ থেকে সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বক্তব্য দেন।

এদিকে বিদায়বেলায় রবিবার আইনজীবীদের পক্ষ থেকে জানানো বিদায় সম্বর্ধনার জবাবে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বলেছেন, সুবিচার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে বিচারালয়ের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে সর্বোচ্চ পদাধিকারীর ঐকবদ্ধ থাকা একান্ত প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি সবার যৌথ প্রয়াসেই বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা আরো পরিণত ও উন্নত হবে। তিনি বলেন, সুবিচারের প্রতিক শ্বেতশুভ্র অট্টালিকাটির গায়ে কোনো কালিমা লাগে, এমন কিছু যেন আমরা না করি।

বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ১৯৫৪ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগ থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৭৯ সালে জেলা আদালত, ১৯৮১ সালে হাইকোর্ট বিভাগ ও ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হন। তিনি ২০০১ সালের ৩ জুলাই তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। দুইবছর পর ২০০৩ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ২০১৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগে নিয়োগ পান বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বলেন, সাংবিধানিকভাবে বিচারবিভাগ স্বাধীন। কিন্তু বাস্তবে তা কতটুকু, আমরা সকলেই জানি এবং বুঝি। রাষ্ট্রের তিনটি (নির্বাহী, আইন ও বিচার) নিজ নিজ পরিধির মধ্যে থেকে কে কতটুকু কাজ করবে তা সংবিধানে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ রেখা অতিক্রম করতে না পারে। তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থা তার নিজস্ব গতিতেই চলে। শত চেষ্টা চালিয়েও কেউ তার গতি রোধ করতে পারে না, পারবে না। যত বাধাবিপত্তি কিংবা ঘাত-প্রতিঘাতই আসুক না কেন আমাদের ঐকান্তিক ও ঐকবদ্ধ প্রচেষ্টায় বিচারবিভাগের গতি কেউ রোধ করতে পারবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা